

আসাদ বেহেস্তী
ফের এসেছে হরতাল ভাই
তাই পেছালো কাজ,
এটা ছাড়া নেই হাতিয়ার
তাইতো লাগে লাজ!
গণতন্ত্রের অনেক ভাষা
অনেক হাতিয়ার,
আসুন সবাই নতুন ভাবি
দেশ করি উদ্ধার।
জাহাঙ্গীর আলম তামীম : মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে মুহাম্মদ ঘোষণা দাও, ও হে মানব জাতি আমি তোমাদের সকলের প্রতি আল্লাহর রাসুল।...সূরা আরাফ আয়াত-১৫৮। মহান আল্লাহ আরো বলেন, মহানবী হযরত মহাম্মদ (সঃ) মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের থেকেও বেশি আপন ও ঘনিষ্ট।...সূরা আহযাব, আয়াত-৬। প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আল্লাহর পরেই পৃথিবীর সমস্ত কিছুর ভালবাসাকে উপেক্ষা করে রাসুল (সঃ) কে ভালবাসা তার ঈমানের দাবি। রাসূল (সঃ) কে ভালবাসা মানেই হলো তাঁর আদর্শ পৃথিবীতে বাস্তবায়ন করা। আর ভালবাসা দু’ধরনের হয়। এক: স্বভাবগত, যা মানুষের জন্মগতভাবে সৃষ্টি হয়। যেমন পিতা-মাতা, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি প্রভৃতি পার্থিব বিষয়ের প্রতি আকর্ষণ ও ভালবাসা, যা প্রবৃত্তি ও প্রকৃতিগত। দুই: আদর্শ ও জ্ঞানগত, যা স্বভাবগতভাবে সৃষ্টি হয় না, সৃষ্টি করতে হয় জ্ঞান ও বিবেক দ্বারা প্রবৃত্তিকে দমন করে। যার জন্য প্রয়োজন হয় এক আল্লাহর ভয় ও অদৃশ্যের উপর বিশ্বাস। বিধায় আদর্শ ও জ্ঞানগত ভালবাসার কারণে একজন মুমিন মুসলমানের কাছে আল্লাহর ও রাসুলের ভালবাসার উপর প্রাকৃতিক ও পার্থিব ভালবাসা কখনোই প্রাধান্য পাবে না। আর উত্তম আদর্শ অর্জনের জন্য প্রয়োজন হয়, আদর্শ ও জ্ঞানগত সাধনার।
হাদিসে উল্লেখ আছে , হযরত আনাছ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (সঃ) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউই ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার সন্তান-সন্ততি, পিতা-মাতা ও অন্যান্য সকল মানুষ ও পার্থিব জিনিস থেকে অধিকতর প্রিয় হব।...বুখারী ও মুসলিম।র্ । এছাড়া মহান আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় তোমাদের জন্য রয়েছে রাসুল (সঃ) এর মধ্যে উত্তম আদর্শ।... সূরা আহযাব আয়াত-২১। আর রাসূল (সঃ) ই অধিকতর প্রিয় অর্থ হলো রাসূল (সঃ) এর জীবন আদর্শই হবে আমাদের জীবন আদর্শ। প্রতিটি মুহূর্তে, কাজ-কর্মে তাঁর আদর্শ পুক্সক্ষানুপুক্সক্ষভাবে অনুসরণ করা এবং এই জীবন আদর্শ পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করার আপ্রাণ চেষ্টা করা। আর এই দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে সব ধরনের পলিসি গ্রহণ করা বৈধ এবং সাওয়াবেরও কাজ বটে। কেননা আল্লাহ মানুষের অন্তর তথা নিয়ত দেখেন। আল্লাহ কারোর চেহারা ও বংশ মর্যাদা দেখবেন না, দেখবেন তার কর্ম। এখন যদি কেউ জন্মগত বা নামে মুসলমানিত্ব নিয়ে ইসলাম বিদ্বেষী মনোভাব সৃষ্টি করে অথবা রাসূল (সঃ) এর আদর্শ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে তাদের ভিতরে সৃষ্টি হয় অসহ্য যন্ত্রণা। ফলে এমন অবস্থায় তার নিজের অজান্তেই পরিচয় ফুটে ওঠে, সে হয় কাফির, না হয় মুশরিক, না হয় মুনাফিক। আর তাদের স্থান জাহান্নাম; যতই সে নামাজ, রোযা, হজ, যাকাত ও দান-সাদকা করুক না কেন এবং মুসলমান হিসেবে দাবি করুক না কেন। অতএব খাটি মুসলিম হতে হলে মুনাফেকি আচরণ সর্বোতভাবে পরিহার করতে হবে এবং মনের অবস্থার সাথে বাহ্যিক কাজ কর্মের মিল রাখতে হবে। কেননা দু’রকম স্বভাব হলো মুনাফেকি আচরণ। আর এটাই দুই প্রকার হতে পারে। প্রথম প্রকার হলো বিশ্বাসগত মুনাফেক। এরা মুখে প্রকাশ করে সে মুমিন। অথচ তার অন্তর শূন্য। আর দ্বিতীয় প্রকার হলো কার্যত মুনাফেক। এরা অন্তরে বিশ্বাস করে কিন্তু, পার্থিব স্বার্থের জন্য ভণ্ডামী আচরণ করে। এদের সম্পর্কে হাদিসে চারটি গুনের কথা উল্লেখ রয়েছে, যেন মুসলিম সমাজে তা বিস্তার লাভ করতে না পারে। আর তা হলো- এক. যখন কথা বলে, মিথ্যা বলে। দুই, প্রতিশ্রুতি দিলে তা ভঙ্গ করে। তিন, আমানত রাখলে তা খিয়ানত করে (কথা, কাজ, অর্থ-সম্পদ যে কোনটি হতে পারে)। চার, ঝগড়া বাধলে (গালি) মন্দ কথা বলে। অতএব সাবধান, যেন কখনোই আমাদের কোন কাজকর্ম দ্বারা রাসূল (সঃ) এর আদর্শ প্রতিষ্ঠা করার কাজে বাধা দেয়া অথবা ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করা অথবা প্রতিষ্ঠা করার কাজে সাহায্য সহযোগিতা ও সমর্থন না করা। যদি এ কাজগুলো কোনভাবে কোন মুসলমানের পক্ষে করা হয়, তাহলে তার জন্য মুসলমান থেকে বাদ হয়ে জাহান্নামের সার্টিফিকেট নিশ্চিত করা সহজ হয়ে যাবে। এজন্য মুসলমান হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের উচিত কেবল মুখে ভালবাসা নয় , পার্থিব সকল কিছুর ভালবাসা ত্যাগ করে রাসূল (সঃ) এর অদর্শ বাস্তব জীবনে পালন করতে পারলেই তাঁর প্রতি ভালবাসা দেখান হয়। আর এটাই হলো রাসূল (সঃ) এর প্রতি প্রকৃত ভালবাসা দেখানো।
2012-11-23

