শিরোনাম: জনগণের তাড়ায় পালাবার পথ পাবেন না : ফখরুল       জাপার কমিটি চূড়ান্ত করবেন জিএম কাদের-রওশন       আইএসের একজন জঙ্গিও পালাতে পারবে না : এরদোয়ান       ফের রাস্তায় নামল বিনিয়োগকারী       তুরস্কে বিমান বিধ্বস্ত       নবম ওয়েজ বোর্ডের গেজেটের বিরুদ্ধে রুল       ঢাকা কলেজ ছাড়লেন আবরারের ছোট ভাই       আসামের পর গোটা ভারতেই হবে এনআরসি : অমিত শাহ       পুলিশের কাজে বাধা : আব্বাস-আলাল-সোহেলদের বিচার শুরু       পাত্তা পাননি নেতানিয়াহু, এবার প্রেসিডেন্ট অনুরোধ করলেন পুতিনকে      
ভবন না থাকায় কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে চৌগাছার পাশাপোল ইউনিয়নে
শাহানুর আলম উজ্জ্বল, চৌগাছা (যশোর) থেকে :
Published : Thursday, 19 September, 2019 at 6:10 AM
ভবন না থাকায় কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে চৌগাছার পাশাপোল ইউনিয়নে যশোরের চৌগাছার পাশাপোল ইউনিয়ন পরিষদের ভবন আজও নির্মিত হয়নি। ফলে প্রস্তাবিত জমিতে টিনসেড দিয়ে কোনরকম চলছে পরিষদের কার্যক্রম। এই অবস্থায় ইউনিয়নে স্থানীয় সরকারের বহুবিধ কার্যক্রম চালাতে হিমিশিম খাচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পরিষদের জমি সংক্রান্ত মামলার জটিলতার কারণে ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। এদিকে, আইনগত জটিলতা নিরসন করে দ্রুত পরিষদের ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ইউনিয়নবাসীসহ সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলার প্রাণকেন্দ্র থেকে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে দুই নম্বর পাশাপোল ইউনিয়নের অবস্থান। ইউনিয়নটি ঝিকরগাছা থানার অন্তর্গত ছিল। ৩৩টি গ্রাম নিয়ে গঠিত এই ইউনিয়নের তখন নাম ছিল ফুল পাশাপোল ইউনিয়ন।
১৯৭৭ সালে চৌগাছা থানা গঠনের পর ইউনিয়নকে ভেঙ্গে দু’টি ইউনিয়ন করা হয়। তা হলো ১ নং ফুলসারা ও ২ নং পাশাপোল ইউনিয়ন। বর্তমানে পাশাপোল ইউনিয়ন ১৭টি গ্রাম নিয়ে গঠিত। এগুলো হলো পাশাপোল, বানুরহুদা, পলুয়া, বাড়িয়ালী, বুড়িন্দীয়া, রষুনাথপুর, মৎস্যরাঙ্গা, দশপাখিয়া, হাউলী, দুড়িয়ালী, মালীগাতী, রানীয়ালী, সুরেশ্বাসকাটি, বড়গোবিন্দপুর, গোবিন্দপুর, কালিয়াকুন্ডি ও বিল এড়োল। ইউনিয়নের আয়তন ২৫ দশমিক ৯৬  কিলোমিটার। লোক সংখ্যা ২২ হাজার দুইশ ৬৮ হাজার।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও দশপাখিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সালাম, মুক্তিযোদ্ধা নূর ইসলামসহ স্থানীয় অনেকে জানান, ইউনিয়ন পরিষদের ভবন নির্মাণ নিয়ে দেড় যুগ ধরে মামলার কারণে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এটা অনেক পুরাতন ইউনিয়ন হলেও এখানে কোন ভবন তৈরি হয়নি। তৎকালীন সময়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা তাদের কাচারি ঘরে  (বৈঠকখানায়) পরিষদের কার্যক্রম চালাতেন।
তারা আরো বলেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম খাইরুজ্জামান ঝিকরগাছা থানার অধীন থাকা অবস্থায় ইউনিয়নের ৩৩টি গ্রামের মধ্যবর্তী স্থান নির্ণয় করেন বাড়িয়ালী গ্রামকে। এই গ্রামে সরকারি ক্লিনিকের একটি কক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু, পাশাপোল ইউনিয়ন বিভক্ত ও চৌগাছা থানা গঠন হবার পর মধ্যবর্তী ওই স্থানের গুরুত্ব কমে যায়। পরবর্তীতে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাদেরের সহযোগিতায় দশপাখিয়া বাজারসংলগ্ন ইউনিয়ন ভবনের জন্য একটি স্থানের নাম প্রস্তাব করা হয়। একইসাথে সেখানে টিনসেড দিয়ে একটি কক্ষ তৈরি করে চালানো হয় কার্যক্রম। পরবর্তীতে পরিষদের ভবন নির্মাণের কথা বিবেচনা করে এলাকার আয়ুব হোসেন, আসাদুজ্জামান, কামরুজ্জামান, হেলালউদ্দীন, জালালউদ্দীনসহ ৭/৮ জন কৃতি সন্তান ৬৬ শতক জমি দান করেন।
সাবেক ইউপি সচিব রফিউদ্দন বলেন, যেখানে জমি দান করা হয়েছে, সেখানে পরিষদের ভবন নির্মাণ হলে ইউনিয়নবাসির সুবিধা হবে। কেননা পাশাপোল মৌজায় প্রস্তাবিত ওই জমির পাশে দশপাখিয়া বাজার বিদ্যমান। পাশেই রয়েছে পুলিশ ফাঁড়ি, ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা অফিস, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, প্রাইমারি স্কুল, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়।
ইউপি চেয়ারম্যান অবাইদুল ইসলাম সবুজ বলেন, ‘জমি দানের পর ওই জমিতে কবরস্থান আছে দাবি করে বাড়িয়ালী গ্রামের সহিউদ্দীন আদালতে দেওয়ানি মামলা করেন। ইউনিয়ন পরিষদের ভবনের বিষয়ে সাবেক ইউএনও ও জেলা প্রশাসক মহোদয় প্রস্তাবিত স্থানকে সরজমিন পরিদর্শন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠান। কিন্তু বাধ সাধে ওই মামলা। এরপর ২০১৩ সালে প্রস্তাবিত জমির পক্ষে রায় দেয়া হয়। পরে রায়ের বিপক্ষে বাদী আপিল করলে আদালত এবার বাদীর অনুকূলে রায় দেন। এ অবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদের ভবনের পক্ষে এই রায়কে চ্যালেঞ্জ ও পূর্বের রায় বহাল রাখতে আমরা হাইকোর্টে আপিল করি। আমরা আদালতের দিকে চেয়ে আছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘ডিজিটাল ও প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে ইউনিয়ন পরিষদের ভবন না থাকলে কার্যক্রম চালানো যায়না। আমরা প্রস্তাবিত স্থানে টিনসেডের ভিতর কোন রকমভাবে পরিষদের কাজ চালাচ্ছি। এখানে সার্বিক কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছি।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি গ্রামের কাগজকে জানান, পাশাপোল ইউনিয়নে পরিষদের ভবন দরকার। আদালতে মামলা ও আইনগত কিছু সমস্যার কারণে পরিষদের ভবন নির্মাণ সম্ভব হচ্ছেনা। তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি সমস্যাগুলো যাতে দ্রুত সমাধান হয়।’




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft