শিরোনাম: ফিল্মিস্টাইলে বোমা ফাটিয়ে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই        তোষামোদী মোসাহেবি যুগে যুগে       যশোরে মারা যাওয়া এক নারীর তাকানো নিয়ে চাঞ্চল্য!       তায়কোয়ান্দোকে তৃণমূলে ছড়িয়ে দিতে চান দায়িত্বপ্রাপ্তরা       ফসকে গেল যমেক হাসপাতালের দু ’চাঁদাবাজ        শ্যামনগরে দেড় কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস       বেনাপোল সীমান্ত থেকে কোটি টাকার সোনার বারসহ নারী আটক       খুলনায় কর্মহীন নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ       সাতক্ষীরা সীমান্তে ৯৪ লাখ টাকার সোনার বারসহ আটক ১       মোল্লাহাটে ইয়াবাসহ বিক্রেতা আটক      
করোনা মোকাবেলায় তৎপর ঝিনাইদহ পুলিশের কুইক রেন্সপন্স টিম
রাজিব হাসান, ঝিনাইদহ :
Published : Wednesday, 1 April, 2020 at 4:06 PM

করোনা মোকাবেলায় তৎপর ঝিনাইদহ পুলিশের কুইক রেন্সপন্স টিমঝিনাইদহ জেলার একপ্রান্ত থেকে আরেকপ্রান্তে ছুটে চলেছেন কর্মকর্তারা, দিচ্ছেন সাবান-মাস্ক, সেনিটাইজার। সাধারণ মানুষকে লাঠিতে নয়, বুঝিয়ে ঘরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। পুলিশ সুপার থেকে থানার এসআই সকলেই ঝাপিয়ে পড়েছেন করোনা মোকাবেলায়। তাদের সহযোগিতা করছেন পুলিশের অন্য সদস্যরা।
পুলিশের পক্ষ থেকে  ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে কুইক রেসপন্স টিন। যে দলের সদস্যরা সদা প্রস্তুত রয়েছেন যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায়। পুলিশ সদস্য, তাদের পরিবার এমনকী সাধারণ মানুষের সমস্যায় এগিয়ে যাবেন তারা। এছাড়া বিদেশ থেকে আসা তিন হাজারের অধিক মানুষের বাড়িতে গিয়েছেন এই পুলিশ সদস্যরা। যাদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার অনুরোধ জানিয়ে এসেছেন।   
পুলিশ সদস্যরা বলছেন, ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান করোনাভাইরাস নিয়ে প্রথম থেকেই সজাগ রয়েছেন। তারই নির্দেশে জেলার সকল পুলিশ তৎপর রয়েছেন। ছুটে বেড়াচ্ছেন মাঠে-ময়দানে। পুলিশ সুপার নিজেও জেলার ৬টি উপজেলায় ঘুরছেন। গ্রামে গ্রামে যাচ্ছেন। অসহায় মানুষের কথা শুনছেন, এই কঠিন পরিস্থিতিতে গ্রামের মানুষগুলো কীভাবে বেঁচে থাকবেন তার পরামর্শ দিচ্ছেন।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মিলু মিয়া বিশ^াস জানান, মূলত ঝিনাইদহ পুলিশ করোনা নিয়ে কাজ শুরু করে ১০ মার্চ। বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান অন্য কর্মকর্তাদের নিয়ে আলোচনা করেন। এই দূর্যোগ মোকাবেলায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি পুলিশও কাজ করবে এমনটিই ঘোষণা করেন তিনি। তার এই ঘোষণার পরই পুলিশের অন্য সদস্যরা কাজ শুরু করেন। ১১ মার্চ থেকেই শুরু হয়ে যায় তাদের কর্মকান্ড। প্রথম দিনেই শহরে প্রচারপত্র বিলি করা হয়। পরে এই প্রচারপত্র গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে দেয়া হয়। পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান নিজে সাধারণ মানুষের হাতে প্রচারপত্র তুলে দেন।
মিলু মিয়া বিশ^াস আরো জানান, পুলিশ সুপার এরপর মানুষকে ঘরে থাকার ব্যবস্থা করতে কাজ শুরু করেন। গ্রামে গ্রামে গিয়ে সবাইকে বুঝিয়ে ঘরে থাকার অনুরোধ করেন। তার এই কথায় খুশি হয়ে অনেকে নিজ উদ্যোগে কোয়ারেন্টাইনে গেছেন। পুলিশ সুপার জেলার সকল পুলিশ সদস্যকে পূর্বেই নির্দেশ দিয়েছেন কাউকে লাঠিতে নয়, বুঝিয়ে ঘরে রাখার কাজটি করতে হবে। এরপরও খেটে খাওয়া মানুষের কথা চিন্তা করে তাদের নানা পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। এছাড়া জেলার সকল পুলিশের পক্ষ থেকে সাবান, মাস্ক ও সেনিটাইজার বিতরণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ৭ হাজার পিচ সাবান, ৯ হাজার মাস্ক, ৩৫ হাজার প্রচারপত্র ও সেনিটাইজার বিতরণ করেছে পুলিশ।
পুলিশের ওই কর্মকর্তা আওা জানান, বিশে^র বিভিন্ন দেশ থেকে গত মার্চ সামে ঝিনাইদহে এসেছেন ৪০৭৫ জন। এদের বেশিরভাগই নিজেদের লুকিয়ে চলছিল। স্বাস্থ্য বিভাগ এদের সন্ধানে কাজ করছিল। কিন্তু কোয়ারেন্টাইনের ভয়ে অনেকে ধরা দিচ্ছিলেন না। পুলিশ সেই সকল ব্যক্তিদের খুঁজে বের করেছেন। ৩০ মার্চ পর্যন্ত ৩১৬৫ জনকে তারা খুঁজে পেয়েছেন। যাদের সকলেই বাড়িতে গিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছেন। ওই সকল ব্যক্তিদের পরিবারগুলোও কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য বলা হয়েছে। পুলিশ সুপার নিজেও বেশ কয়েকজনের বাড়িতে গেছেন, বাকিগুলো পুলিশ সদস্যরা গিয়ে কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করেছেন। যে ক’জনকে খূজে পাওয়া যাচ্ছে না তারা ভুল ঠিকানা দিয়েছেন বলে তারা মনে করছেন। অবশ্য এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে খোঁজ-খবর নেয়া অব্যহত রয়েছে।  
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ শহরের বাসিন্দা আক্রাম হোসেন জানান, তারা প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না। তারপরও দরিদ্র দেশে অনেকে আছেন বাধ্য হচ্ছেন বাইরে যেতে। তাদের ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যরা এখন পর্যন্ত ভালো ভুমিকা রেখেছেন। অনেক স্থানে বুঝিয়ে আবার অনেক স্থানে ভয় দেখিয়ে বাড়ি পাঠিয়েছেন। খেটে খাওয়া মানুষগুলো জরুিী প্রয়োজন মেটাতে পারে সে ব্যবস্থাও তারা রেখেছেন। তিনি জানান, অনেক জেলায় পুলিশের লাঠিপেটার খবর মিডিয়াতে আসছে, কিন্তু ঝিনাইদহ জেলা এখনও তেমন কোনো খারাপ খবর পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানান, করোনা মোকাবেলায় তারা অনান্য বিভাগের পাশাপাশি কাজ করে যাচ্ছেন। গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। অসহায় মানুষের মাঝে সাবান, মাস্ক, সেনিটাইজার বিতরণ করছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি তারাও কুইক রেসপন্স টিম গঠন করেছেন। সার্বিকভাবে তারা এই জেলার মানুষের নিরাপত্তায় কাজ করে যাচ্ছেন। তারা সবচে বেশি ভুমিকা রাখছেন সবাইকে ঘরে রাখার।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft