শিরোনাম: সিনহা নিহতের ঘটনায় জড়িত কেউই ছাড় পাবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী       কুষ্টিয়া পৌর মেয়র করোনায় আক্রান্ত       অপপ্রচার চালিয়ে কোনো লাভ হবে না : কাদের       ‘সরকার চামড়াশিল্প ধ্বংসের প্রস্তুতি নিচ্ছে’       বগুড়ায় করোনা আক্রান্ত ৪৫ জন, সুস্থ ৬১       পঞ্চগড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিশোরের মৃত্যু       দেশে আরও ২৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৮৫১       রাজধানীতে আবাসন ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে খুন       চুয়াডাঙ্গায় নতুন ৩০ জনের করোনা শনাক্ত       একজন আক্রান্ত হলেই ‘শেষ হয়ে যেতে পারে’ আইপিএল      
দেশ বাঁচাতে অন্ধের যষ্টি কৃষিকে বাঁচাতে হবে
রুকুনউদ্দৌলাহ :
Published : Thursday, 2 July, 2020 at 9:55 AM
দেশ বাঁচাতে অন্ধের যষ্টি কৃষিকে বাঁচাতে হবেকরোনাভাইরাসের মহাদুর্যোগের সময় কৃষি বাদে আর সব উৎপাদনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। অর্থনীতির চাকার ঘোরাও  কমে গেছে। মিল কলকারখানায় করোনার কারণে শ্রমিকের অনুপস্থিতি উৎপাদনকে শূণ্যের কোটায় নিয়ে এসেছে। এ অবস্থা আরো কিছু দিন বিরাজ করলে জাতি এক মহাসংকটে পড়বে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এ সংকট উত্তরণে কৃষিই একমাত্র ভরসা। কারণ সারা জীবন কৃষি কাজ যে ভাবে চলে এসেছে এই মহামারীর দিনেও সেইভাবে চলছে। এ ক্ষেত্রে একটি বড় প্লাস পয়েন্ট হলো কৃষিকাজ সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করে নির্বিঘ্নে করা যায়। এজন্য শিল্প খাতের মত শ্রমিক সংকটের বড় সমস্যা নেই। তবে যেহেতু করোনা সংকটের কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় সব জিনিসের দাম বেড়েছে, সেহেতু কৃষি শ্রমিকের মজুরীও বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে উৎপাদনের গতি ধরে রাখতে কৃষকদের প্রণোদনা দেবার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। আমাদের কৃষি বিভাগ শক্তিশালী বলে একটা খ্যাতি আছে। এই খ্যাতিতো আর আপনা আপনি রক্ষা হয় না। এর জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কর্মে নিষ্ঠার পরিচয় দিতে হয়। অতীতে যারা দায়িত্বে ছিলেন নিশ্চয় তাদের শ্রম মেধা ও কর্মনিষ্ঠার ফলে এই বিভাগটি একটি সেরা বিভাগে পরিণত হতে পেরেছিল। কৃষক মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল ফলায়। সেই ফসল আমরা খেয়ে জীবন ধারণ করি। আমরা মনে করি সরকারি দায়িত্ব নিয়ে ক্ষেতের আলে যাওয়া কোনো নিচু কাজ নয়, দেশ সেবার সবচেয়ে বড় কাজ এটি। কৃষকরা অপরিসীম খেটে ফসল উৎপাদন করতে পারে ঠিকই, কিন্তু তারা জানে না ও বোঝে না ফসলের রোগ বালাই দমনে কি ব্যবস্থা নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের উচিত ফসল উৎপাদনে সমস্যা সংকটে কৃষকের পাশে দাঁড়ানো।
‘সব মানুষের আহার জোগাই আমি না পাই খাইতে/বাজান চল যাই চল মাঠে লাঙল বাইতে’ । এ গানটি এক সময় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।  বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। এদেশের ৭০ ভাগেরও বেশি মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এর সঙ্গে যুক্ত উৎপাদনের নির্মোহ সৈনিক কৃষকেদের সেই দুর্দিন আজো কাটেনি। এখনো তাদের না খেয়ে থাকতে হয়। গণমাধ্যমে মতামত ব্যক্ত করে এক তরুণ লিখেছেন দেশটি কৃষির ওপর নির্ভরশীল হলেও কৃষির প্রতি এত অবহেলা কেন?। এমন অবস্থা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক ও হতাশাব্যঞ্জক। এদেশে কৃষিকাজ সবচেয়ে সম্মানজনক হওয়ার কথা। কিন্তু আমরা দেখছি তার উল্টোটা। কৃষকদের প্রতি খুবই অবহেলা করা হয়। করা হয় তুচ্ছ তাচ্ছিল্য। কোনো কাজে কাউকে যদি স্মার্ট মনে না হয় তাকে তাচ্ছিল্য করা হয় চাষাভুষা বলে। শেকড় ভোলা জাতির কপালে কি আছে আল্লাহই মালুম।
আজো আমাদের দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠ আছে। ৬৫ হাজার গ্রাম জুড়ে কৃষক আছে। কৃষিতে প্রযুক্তির ছোয়া লেগেছে তারপরও কৃষি পণ্য আমদানি করতে হয়। কৃষকদের মর্যাদা দিতে না পারার ফল এটি। আমাদের বাপ-দাদাদের সফলতার পেছনে পরিশ্রমের অংশ হিসেবেও রয়েছে পাপমুক্ত কৃষি খাত। অন্য যেকোনো খাতে দুর্নীতি অনাচার করার সুযোগ আছে। কিন্তু এই কৃষি পেশায় কোনো দুর্নীতি নেই। নেই কোনো ধান্দাবাজীর সুযোগও। এখানে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে শ্রম দিলে ফসল ঘরে ওঠে। অর্থাৎ নিষ্পাপ উপার্জনের মাধ্যম এটি।
প্রচন্ড তাপদাহে প্রকৃতি যখন পুড়ছে, জীবকুলের যখন ওষ্ঠাগতপ্রাণ তখন যারা এসি রুমে বসে শীত শীত অনুভব করছে আর সুখ নিদ্রার মাঝে জাতির উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে তাদের ওই স্বপ্ন দুঃস্বপ্ন হবে যদি এদেশের কৃষি ধ্বংস হয়ে যায়। দুঃখের সাথে লক্ষ্য করা যায় কৃষকের যে সন্তানটি আজ সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠে লেখাপাড় করছে সে তার বাবার কৃষি পেশার পরিচয় দিতে লজ্জা পায়। যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে আগামী প্রজন্মে কৃষক কারা হবে? তবে কি বাংলাদেশ আর কৃষির ওপর নির্ভরশলি থাকতে পারবে না? দেখা যাবে যে কৃষকের ছেলে অর্থিক সংকটের কারণে লেখাপড়া শিখতে পারবে না সেই মাজায় গামছা বেধে মাটির সাথে মিতালী করবে। কিন্তু এতে কি কৃষি অগ্রসর হতে পারবে?
কৃষি পণ্যের উৎপাদন বাড়লে দাম পড়ে যায়। আবার  কৃষকের ঘরে না থাকলে অর্থাৎ ওই পণ্যটি কৃষকের কেনা প্রয়োজন হলে দাম বেড়ে যায়। কিন্তু কৃষি উপকরণের দাম ওঠা ছাড়া নামে না। কি অদ্ভুত নিয়মের দেশ। কিন্তু দেখবে কে আর বোঝার কে আছে? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন সারা দুনিয়া যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তখন কে নাকি প্রশ্ন করেছিল যুদ্ধ কাকে বলে? তার উত্তরে এক বোদ্ধা নাকি বলেছিল কামানের গোলা যখন কোলের ভেতর এসে পড়বে তখন বুঝবে যুদ্ধ কাকে বলে। বাংলাদেশের কৃষির অবস্থা এমন একটা পর্যায়ে গেলে সবাই বুঝবে কৃষির সর্বনাশে দেশের কি ক্ষতিটাই না হলো।
কৃষির যতটুকু উন্নয়ন হয়েছে তার পেছনে বড় অবদান হচ্ছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও কৃষক। যারা মাটির সাথে মিশে ফসল ফলান তাদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন ও প্রেরণা দিতে পারেলে এই কৃষি এগিয়ে যাবে তরতর করে। সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে উত্থাপিত মূল নিবন্ধে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেছেন, গত এক যুগে দেশের কৃষি খাতে বিপ্লব ঘটেছে। কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রম আর কৃষি উপকরণের সহজপ্রাপ্যতা এবং সরকারের সঠিক নীতির কারণে এই সফলতা এসেছে। দেশে চাষাবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করতে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেয় সরকার। আর এ উদ্দেশ্যে এরই মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে কৃষি উপকরণ বিতরণের জন্য কয়েক কোটি টাকা  বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। আধুনিক কৃষি গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম জোরদারকরণের মাধ্যমে এই সরকার কৃষি ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ও অগ্রগতি সাধন করেছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও অন্যান্য প্রাকৃতিক কারণে সৃষ্ট বৈরী পরিস্থিতি মোকাবেলা ও কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার সব সময় কৃষকদের পাশে থেকে সহায়তা দিয়ে আসছে।
কৃষি যে দেশের চালিকা শক্তি সেই দেশে কৃষক অবহেলিত থাকতে পারে না। বর্তমান সরকার বিষয়টি যথার্থই অনুধাবন করেছে। দেশের সব খাতই সরকারি সাহায্য পায়। এতদিন কৃষিতে কোনো সাহায্য সহযোগিতা করতে দেখা যেতো না। ফসল ভালো হোক মন্দ হোক তার সবটুকু কৃতিত্ব ছিল কৃষকের। কৃষক জাতির মেরুদন্ড শুধু কাগজে-কলমে দেখা যেতো। এর কোনো প্রকৃত মূল্যায়ন ছিল না। বর্তমান কৃষক বান্ধব সরকার উৎপাদনকারীদের কৃষকদের মূল্যায়ন করছে। আর এ কারণেই তাদেরকে কৃষিতে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। সরকারের এ কর্মসূচিতে কৃষকরা উৎসাহিত হয়েছে। এই প্রণোদনা পেয়ে যে আউশ আবাদ দেশ থেকে প্রায় হারিয়ে যাবার উপক্রম হয়েছিল। সেই আবাদটি সবচেয়ে কম ব্যয়ে করতে পারে কৃষকরা। এই আবাদে পানির ব্যবহার কম হয়। প্রকৃত কথা হচ্ছে প্রাকৃতিক দৃর্যোগ দেখা না দিলে সেচের কোনো দরকারই হয় না। আউশ একটি আদি ধান। এতে সূর্যের আলো বেশি পড়ে। ফলে সালোকসংশ্লেষণ বেশি হয়। যার কারণে ফলন সময় কমে আসে। এতে সেচের জন্য পানি ব্যবহারের পরিমাণও কম লাগে। কৃষি প্রণোদনা এ অবস্থা থেকে কৃষকদের বের করে আনতে সক্ষম হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। আর এতে উৎপাদন বাড়বে। এতে জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক সাড়া পড়বে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। চাল, আলু, সবজি ও মাছের মতো প্রধান খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। এমনকি চাল উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ, স্বাদু পানির মাছে তৃতীয়, ফল ও সবজি উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর তালিকায় উঠে এসেছে। এই অর্জনকে ধরে রাখতে হলে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।
কৃষির অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আগের বছরগুলোর মতো এই করোনাকালীন সংকটের দিনে সরকারকে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে হবে। সামনের দিনে কৃষি ছাড়া উপায় নেই। নতুবা উৎপাদন বাড়লেও তা কত দিন ধরে রাখা যাবে তা নিয়েও সংশয় আছে।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft