শিরোনাম: সিনহা নিহতের ঘটনায় জড়িত কেউই ছাড় পাবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী       কুষ্টিয়া পৌর মেয়র করোনায় আক্রান্ত       অপপ্রচার চালিয়ে কোনো লাভ হবে না : কাদের       ‘সরকার চামড়াশিল্প ধ্বংসের প্রস্তুতি নিচ্ছে’       বগুড়ায় করোনা আক্রান্ত ৪৫ জন, সুস্থ ৬১       পঞ্চগড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিশোরের মৃত্যু       দেশে আরও ২৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৮৫১       রাজধানীতে আবাসন ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে খুন       চুয়াডাঙ্গায় নতুন ৩০ জনের করোনা শনাক্ত       একজন আক্রান্ত হলেই ‘শেষ হয়ে যেতে পারে’ আইপিএল      
টিকা সংকট কেবলমাত্র অপপ্রচার
যশোরে চলমান রয়েছে ইপিআই কার্যক্রম
স্বপ্না দেবনাথ
Published : Monday, 6 July, 2020 at 12:31 AM

যশোরে চলমান রয়েছে ইপিআই কার্যক্রমকরোনা পরিস্থিতিতে শিশুদের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে অভিভাবকরা রয়েছে নানা দোলাচলে। কার্যক্রম চলমান থাকলেও তথ্য বিভ্রাটের কারণে যথাসময়ে অনেক শিশুকে টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করেননি অভিভাবকরা। টিকা সংকট রয়েছে এমন অপপ্রচারও চলছে কোনো কোনো জায়গায়। সংকটপূর্ণ এ সময়ে ইপিআই কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কাটাতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে যশোরের স্বাস্থ্য বিভাগ।
য²া, ডিফথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টঙ্কর, হেপাটাইটিস-বি, হিমোফাইলাস, ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি, নিউমোকক্কাল জনিত নিউমোনিয়া, পোলিও মাইলাইটিস ও হাম প্রতিরোধে শিশুদের শরীরে সরকার বিনামূল্যে ১০টি টিকা দেয়। যা সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি নামে পরিচিত। শূন্য থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের সময় ভেদে ১০টি রোগের জন্যে পাঁচ ডোজে টিকা প্রদান করা হয়। মার্চের শেষে দেশে করোনা পরিস্থিতি প্রকট হতে শুরু করলে ব্যাহত হয় টিকাদান কার্যক্রম। সরকারি হাসপাতালসহ অন্যান্য নির্ধারিত স্থানে টিকাদান চলমান থাকলেও অনেক অভিভাবক সন্তানদের টিকা দিতে আনেন না। আবার কেউ কেউ সমন্বয়হীনতার কারণে টিকা কেন্দ্রে এসে ফিরে যান। এতে স্বাস্থ্য বিভাগ ও অভিভাবকমহল সকলকেই পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি।   
যশোরের সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন জানিয়েছেন, জেলার কোথাও ইপিআই কোনো টিকার সংকট নেই। নির্ধারিত সকল স্থানেই যথাসময়ে টিকাদান কার্যক্রম চলমান আছে এবং থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধে ঘোষিত সাধারণ ছুটিসহ পরবর্তীতে যশোরে যে সকল অভিভাবক শিশুদের যথাসময়ে টিকা দিতে পারেননি তাদের একটি তালিকা করা হচ্ছে। বাদ পড়া সকল শিশুর টিকা দেয়া হবে। টিকাদানের নির্দিষ্ট দিনের বাইরেও সংশ্লিষ্ট স্থান থেকে শিশুদের টিকা দেয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, রেড জোনের আওতায় যে সকল এলাকা লকডাউনে আছে সেসব এলাকায়ও টিকা কার্যক্রম চলমান আছে এবং থাকবে। অভিভাবকদের যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সন্তানদের টিকাদানের আহŸান জানান তিনি।   
জেলা ইপিআই সুপারিনটেনডেন্ট মির্জা ছরোয়ার হোসেন জানান, প্রতিমাসে জেলায় মোট পাঁচ হাজার দুশ’ ছয়জন শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা ধরে কার্যক্রম চলমান থাকে। এ হিসেবে বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা ৬২ হাজার চারশ’৭৭ জন শিশু। আর টিকাদানের জন্যে নির্দিষ্ট ওষুধের চাহিদাপত্র প্রেরণ করা হয় প্রতি তিনমাস পরপর। চলমান পরিস্থিতিতে টিকা কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, শহর থেকে তৃণমূল পর্যায়ে সকল স্থানেই যথাসময়ে টিকা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। অভিভাবকদের নিজ দায়িত্বে স্বাস্থ্যসেবীসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য স্বাস্থ্য কর্মীদের সহযোগিতা নিয়ে টিকার ডোজ সম্পন্ন করা উচিত।
যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক দিলীপ কুমার রায় বলেন, বছরের শুরুতে কিছুদিন টিকার সংকট থাকলেও পরে তা পূরণ হয়েছে। তবে, করোনার কারণে অনেকে ভয়ে টিকা কেন্দ্রে আসছেন না। কিন্তু হাসপাতালে সকল প্রকার টিকাদান কার্যক্রম চলমান আছে। চলমান পরিস্থিতিতে ভয় না পেয়ে সচেতনতার সাথে ভয়কে জয় করে সন্তানের সুস্থ আগামীর জন্যে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সন্তানের টিকার ডোজ পূরণের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ বিষয়ে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইমদাদুল হক রাজু বলেন, শিশুর টিকার দিন অতিবাহিত হলে অভিভাবকদের চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কিছু নেই। সাধারণত শূন্য থেকে ১৫ মাস বয়সে টিকাগুলো দেয়া হয়। তবে, দু’ বছর বয়স পর্যন্ত এ টিকা দেয়া যায়। আমাদের দেশে ১৫ মাস পর্যন্ত মোট পাঁচবার টিকাকেন্দ্রে যেতে হয়। প্রথম তিনটি টিকা দিতে হয় দেড় মাস, আড়াই মাস ও তিন মাস ১৫ দিনে। য²ার টিকা ছাড়া এই টিকাগুলো প্রায় একই ধরনের। শেষ দু’টি হলো এমআর (হাম ও রুবেলা) টিকা। এটি দিতে হয় নয়মাস শেষ হলে এবং ১৫ মাসে। একই ধরনের দু’টি টিকার মধ্যে ন্যূনতম এক মাস সময়ের ব্যবধান থাকতে হয়। এ জন্যে টিকার কার্ডে পরবর্তী যে তারিখে টিকা দেয়ার কথা লেখা আছে, তার আগে দেয়া যাবে না। কিন্তু পরে দিতে বাধা নেই। কতদিন পর দেবে বা কতদিন দেরি করা যাবে, সেটি কোথাও নির্দিষ্ট করে উল্লেখ নেই। তবে শিশুর দু’ বছর বয়সের মধ্যে সবগুলো টিকা শেষ করার কথা। তাই প্রথম তিনটি টিকা দেয়ার বেলায় শিশুর বয়স এই মুহ‚র্তে দু’মাস বা চারমাস, যাই হোক না কেন, তিন চার মাস দেরি হলে তেমন সমস্যা হয় না। আবার শিশুর বয়স যদি নয়মাসের বেশি হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে নয়মাসে যে টিকাটি দেয়ার কথা ছিল, সেটি ১৩ বা ১৪ মাস বয়সে দিলে ক্ষতি হবে না। ১৫ মাসে শিশুর যে টিকা দেয়ার কথা, তার এক মাস আগে বাকিগুলো দিয়ে ১৫ মাসে শেষ এমআর টিকা দিলেই সরকারি সবগুলো টিকা দেয়া সম্পন্ন হবে। আবার যাদের শিশুর বয়স ১৫ মাস বা তার বেশি, তাদের ক্ষেত্রে ১৫ মাসের টিকাটি দু’বছর বয়সের মধ্যে যেকোনো সময় দিলে হবে। সুতরাং যারা সন্তানের টিকা দিতে পারেননি তারা এ বিষয়টি মেনে চললে হবে। তবে, ইচ্ছাকৃত দেরি না করাই ভালো বলেও মত দেন তিনি।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft