শিরোনাম: বোয়ালমারীতে মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন       কাঠালিয়ায় জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন       জিয়া আমাকে মন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল : রাষ্ট্রপতি       বিএনপি সবসময় বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারে বিরোধিতা করেছে : কাদের       মোরেলগঞ্জে শোক দিবসে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা       নির্বাচনে হারলেও ট্রাম্প নীরবে ক্ষমতা ছাড়বেন না : হিলারি       খোকসায় আ.লীগ সভাপ‌তি বাবুল আখতা‌রের নেতৃ‌ত্বে শোক র‌্যালী       দিনাজপুরে বঙ্গবন্ধু'র শাহাদাত বার্ষিকী        স্বাধীনতা দিবসে চীন-পাকিস্তানকে মোদির হুঁশিয়ারি       আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখুন : রিজভী      
করোনাকাল দীর্ঘ হলে দারিদ্র ও বাল্যবিয়ে বাড়তে পারে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক :
Published : Saturday, 11 July, 2020 at 3:04 PM
করোনাকাল দীর্ঘ হলে দারিদ্র ও বাল্যবিয়ে বাড়তে পারে : স্বাস্থ্যমন্ত্রীকরোনার কারণে দারিদ্র সীমা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। করোনা পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে বাল্য বিয়ে বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক।
শনিবার (১১ জুলাই) বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ভার্চুয়াল সভায় এমন মন্তব্য করেন তিনি। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘মহামারি কোভিড-১৯ কে প্রতিরোধ করি, নারী ও কিশোরীর সুস্বাস্থ্যের অধিকার নিশ্চিত করি’। পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের শ্রেষ্ঠ কর্মী ও মিডিয়াকর্মীদের ফেলোশিপ প্রদান করা হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, কোভিড-১৯ এর কারণে কিছুটা হলেও স্বাস্থ্য সেবাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঠকর্মীদের চলাফেরা ব্যাহত হচ্ছে, এতে প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি কিছুটা কমেছে এটি উদ্বেগের। লকডাউন থাকা এবং যানবাহন না পাওয়ায় অনেকে আসছেন না। আমরা চাই না একজন মা সেবার অভাবে মৃত্যুবরণ করুক।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে সুন্দর স্বাস্থ্য সেবার কারণে মৃত্যুর হার অনেক কম।  কোভিড-১৯ কারণে জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়েছে। শুধু বাংরাদেশে নয়, সারা বিশ্বে একই অবস্থা। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা, ডাক্তার নার্স, যারা ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য সেবায় আমাদের দেশ অনেক এগিয়ে গিয়েছিল। অনেক পুরস্কার পেয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। গড় আয়ু বেড়েছে। মাতৃমৃত্যুর হার অনেক কমে গেছে। ভ্যাকসিন হিরো হিসেবে খেতাব পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা সকলে মিলে অর্জন করেছি। সকলে মিলে এই সাফল্য ধরে রাখবো। আমরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে পারি সেদিকে নজর দিতে হবে।
তিনি বলেন, আপনারা অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবেন। ভিড় এড়িয়ে চলবেন। কোভিড-১৯ এর এখনও ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয় নি। সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাও নেই। তবে চিকিৎসার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এতে আমরা ফল পাচ্ছি।
এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এফডব্লিউএ এফডব্লিউপি এসব কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কোভিডের মধ্যেও তারা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে সচেতন করছে। অর্থনৈতিক চাপের কারণে বাল্য বিয়ে হয়। আপনারা জানেন ৫০ হাজার পরিবারকে আড়াই হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে। যাতে অর্থনৈতিক চাপ কমে যায়। সব মিলিয়ে আমি মনে করি কোভিড দীর্ঘ হলেও আমরা বাল্য বিয়ে রোধ করতে সক্ষম হবো।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান বলেন, জাতির জনকের শতবার্ষিকী উপলক্ষে ১০০ উপজেলায় মাতৃমূত্যু শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছেন। নবজাতক মৃত্যু ও বাল্য বিয়ে রোধে অসাধারণ কাজ করছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর। মানুষের গড় আয়ু বেড়ে ৭২ হয়েছে, গত কয়েক বছরে এই অর্জন সম্ভব হয়ছে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক সাহান আরা বানু বলেন, সক্ষম দম্পতিরা যাতে এই সময়ে সন্তান গ্রহণ না করেন যে জন্য ব্যাপক ক্যাম্পেইন করা হয়েছে। নবজাতক ও মায়েরা যাতে নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দেন। প্রসূতি মায়ের সেবা নিশ্চিত করার জন্য, চব্বিশ ঘণ্টা সপ্তাহে সাতদিন সেবা দিয়ে যাচ্ছে। করোনা কালেও এই সেবা অব্যাহত রাখা হয়েছে। কিশোর কিশোরীদের সেবা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফোন কলের মাধ্যমে এই সেবা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ফোন কলের মাধ্যমে সেবা গ্রহীতার হার অনেক বেড়েছে। ৬ হাজার ৪০০ সেবা কেন্দ্রে কিশোর কিশোরীদের সেবা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। করোনার কারণে বাড়িতে গিয়ে সেবা প্রদানের বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়ায় ৩৫৩২ জন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা পাহাড়ি ও দূর্গম অঞ্চলে এই সেবা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, করোনার শুরুতেই মার্চের প্রথম দিকে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিয়েছি। প্রথম দিকে স্থায়ী পদ্ধতি প্রয়োগের পরিমাণ কমে গেলেও। এখন সেটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আনতে সক্ষম হয়েছি। আমরা এই সময়ে গর্ভধারণে নিরোৎসাহিত করেছি। প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি বাড়ানোর জন্য পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। ১০৫টি ডেডিকেটেড হটলাইন রয়েছে। যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানিক ডেলিভারি সেবার বিষয়ে পরামর্শ নিতে পারছেন। ৩৫টি জোনে অডিও ভিজিওয়ালের মাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। আমরা নিবেদিত হয়ে সেবা সম্প্রসারণ করবো। সাধারণ জনগণের প্রতি অনুরোধ, আপনারা আমাদের সেবা গ্রহণ করুন। বাল্য বিয়ে বন্ধ করুন, পরিকল্পিত পরিবার গড়ে তুলুন।
সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মোঃ আলী নূর। আইইএম’র পরিচালক ড. আশরাফুন্নেছা সভা পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, যে কোনো দুর্যোগে নারী ও শিশুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। করোনাও তেমনি একটি রোগ। তবে আমরা শক্তহাতে করোনা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি। প্রথমে লকডাউনের কারণে পেনিক সৃষ্টি হয়। পরে অল্প অল্প করে ছুটি বাড়ানোয় ধীরে ধীরে সব স্বাভাবিক হয়। 




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft