শিরোনাম: ফিল্মিস্টাইলে বোমা ফাটিয়ে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই        তোষামোদী মোসাহেবি যুগে যুগে       যশোরে মারা যাওয়া এক নারীর তাকানো নিয়ে চাঞ্চল্য!       তায়কোয়ান্দোকে তৃণমূলে ছড়িয়ে দিতে চান দায়িত্বপ্রাপ্তরা       ফসকে গেল যমেক হাসপাতালের দু ’চাঁদাবাজ        শ্যামনগরে দেড় কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস       বেনাপোল সীমান্ত থেকে কোটি টাকার সোনার বারসহ নারী আটক       খুলনায় কর্মহীন নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ       সাতক্ষীরা সীমান্তে ৯৪ লাখ টাকার সোনার বারসহ আটক ১       মোল্লাহাটে ইয়াবাসহ বিক্রেতা আটক      
শার্শায় চামড়ার দাম না পাওয়ায় প্রভাব পড়েছে গরীব দুঃস্থ এতিম ও হেফজোখানায়
শার্শা(যশোর) সংবাদদাতা :
Published : Tuesday, 4 August, 2020 at 4:08 PM
শার্শায় চামড়ার দাম না পাওয়ায় প্রভাব পড়েছে গরীব দুঃস্থ এতিম ও হেফজোখানায় যশোরের শার্শা উপজেলায় কুরবানি পশুর চামড়ার দাম না পাওয়ায় গরীব দুঃস্থ এতিম ও হেফজোখানায় তার প্রভাব পড়েছে। ভুক্তভোগীরা বলেছেন গরীব ও দুূঃস্থ মানুষের পাশাপাশি এতিমখানা, হেফজোখানা ও কাওমি মাদ্রাসাগুলোর অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখে কুরবানির চামড়া বিক্রির টাকায়। এ অর্থ গরিব ছাত্রদের পড়ালেখা, থাকা-খাওয়ার পেছনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এই প্রতিষ্ঠান গুলো। বারোপোতা গ্রামের আল্লাদি বিবি বলেন, প্রত্যেকবার ঈদির পর চামড়ার কিছু টাকা পাই। এবার পালাম না। চামড়া নাকি কেউ নেচ্ছে না। বিক্রি করতি পারিনি। উপজেলার বড়বাড়িয়া গ্রামের ভিখারি সজ্জোত আলী বলেন আমাগোর থাকার জায়গা নেই। চামড়ার কডা টাকা পাতাম তাও পালাম না। ক”্ছে চামড়া বিক্রি নেই। বালুন্ডা হাইস্কুলের শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, আমি ছাগল(খাসি) কুরবানি করলাম। চামড়ার কোন ক্রেতা না পাওয়ায় মাটিতে পুতে ফেলেছি। শার্শার বালুন্ডা বাজারের এজন মাংস বিক্রেতা রেজাউল ইসলাম। প্রতি কুরবানির ঈদে মৌসুমি ক্রেতা হিসেবে গ্রাম থেকে চামড়া কিনে থাকেন। এবারও কিনেছেত তবে সতর্কতার সাথে। রেজাউল বলেন এবার চামড়া কিনিছি ১৬০টি, এর মধ্যে ৮৩টি গরুর চাম। গরুর চামড়া প্রতিটি ৭০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম দিছি। ছাগলের চামড়া কিনিছি ১৫/২০ টাকায়। কিছু চামড়া লোক দেছে বিক্রি করতি পারলি তারা টাকা পাবে এই শর্তে। জামতলা জামে মসজিদের ঈমাম হাফেজ মাওলানা হাফিজুর রহমান বলেন দুই ঈদের মধ্যে ঈদুল আযহার একটা বিশেষত্ব আছে। এই ঈদে গরিব মানুষের কিছু পাওয়ার থাকে। ধর্মীয় মতে মাংসের এক-তৃতীয়াংশ এবং চামড়ার বিক্রির টাকা পুরোটাই গরিবে হক। এ পুরো জিনিস গুলো ঠিকঠাক মতো গরিব মানুষের হাতে গেলে সেটি তাদের জন্য উপকা নিশ্চিত করত। এর মাধ্যমে সমাজের আয়ের পুনবন্টনে কিছুটা হলেও প্রভাব ড়ে। কিন্তু গত বছর বিশেষ করে কোরবানির চামড়া নিয়ে যা হয়েছে সেটি নজিরবিহীন। এবার তোম চামড়া কেউ নিচ্ছে না। বাগআঁচড়া হেফজোখানার তত্ত্বাবধায়ক হাফেজ মাওলানা খায়রুল বাসার বলেন, এখানকার অধিকাংশ চাত্র গরিব। প্রতিষ্ঠানে লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের বিশাল ব্যাং রয়েছে। বোর্ডিংয়ের মাধ্যমে দরিদ্র অসহায় এতিম শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে খাবার দেওয়া হয়। বছরের ৩ থেকে ৪ মাসের ব্যয়ের অর্থ কুরবানি পশুর চামড়া বিক্রির খাত থেকে আসতো। কিন্তু এবার চামড়ার দাম কম হওয়ায় সেটা সম্ভব হবে না। ফলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ও থাকা-খাওয়াতে ব্যাঘাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সামটা মুসলিম এতিমখানার সভাপতি লিয়াকত আলী বলেন, চামড়ার দাম কম হওয়ায় এতিমখানার বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। চামড়া থেকে আসা অর্থ দরিদ্র অসহায় এতিম শিক্ষার্থীদের থাকা-খাওয়া ও লেখাপড়ায় ব্যায় করা হতো। এবার হয়তো সেটা আর হবে না।ঐ এতিমখানার তত্ত্বাবধায়ক আবুল বাশার বলেন, এবার ঈদে ২৭৭টি চামড়া পাইছি কিন্তু চামড়া কেনার জন্য কোনও লোক না পেয়ে এতিমখানার খরচে একজন আড়তদারকে দিয়ে আইছি। তারাও কোন দাম বলেনি। পরে বাজার দর অনুযায়ী টাকা দেওয়া হবে এমন আশ্বাস দিয়েছেন। টেংরা গ্রামের আজিবর রহমান ৮২ হাজার টাকায় কেনা গরুর চামড়া বিক্রি করেছেন ৩০০ টাকায়। নাভারণ বাগআঁচড়া বেনাপোল সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন বলেন, কুরবানির ঘাড়ের মাংস হয়েছে ৬ মন অতচ তার চামড়া বিক্রি করলাম মাত্র ৪০০ টাকায়। বেনাপোল চেকপোষ্টের বাগে জান্নাত কওমি মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক হামিদ বলেন, চামড়া বিক্রির টাকা দিয়ে মাদ্রাসার ছাত্রদের খরচের একটি অংশের ব্যয় নির্বাহ করা হতো। এটা হয়তো খুব বেশি বড় নয়। কিন্তু এবার কুরবানি কম হওয়ায় চামড়া সংগ্রহও কমেছে। তারপরও সেটার দাম নেই। নাভাররণ সিরামকাটি ওয়াদুল কওমি হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রধান হাফেজ আব্দুল্লা আল নোমান বলেন, নাভারণ কাজিরবেড় ও সিরামকাটি গ্রামের অধিকাংশ মানুষ তাদের কুরবানি পশুর চামড়া আমাদের দিয়ে থাকেন। এবার গরুর চামড়া পেয়েছি ১১২টি আর খাসির ২৫০টি। বেচা বিক্রির চেষ্টা করছি কিন্তু এখনো বেঁচতি পারিনি।  উপজেলার নাভারণ বাজারে চামড়া বেচাকেনা করেন মির্জাপুর গ্রামের শফিউর রহমান ও দক্ষিণ বুরুজবাগান গুমের চঞ্চল হোসেন। তারা বলেন ঢাকার ট্যানারি মালিকরা চামড়া নাকি নিচ্ছে না তাই আমরাও কিনতে সাহস পাচ্ছিনে। বড় গরুর চামড়া এক থেকে দেড়শ টাকা সর্বোচ্চ ২০০ টাকায় কিনছি। চাগলের চামড়া ১৫/২০ টাকা কিনছি। অনেকে ছাগলের চামড়া ফেলে রেখে চলে যাচ্ছে।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft