শিরোনাম: ফিল্মিস্টাইলে বোমা ফাটিয়ে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই        তোষামোদী মোসাহেবি যুগে যুগে       যশোরে মারা যাওয়া এক নারীর তাকানো নিয়ে চাঞ্চল্য!       তায়কোয়ান্দোকে তৃণমূলে ছড়িয়ে দিতে চান দায়িত্বপ্রাপ্তরা       ফসকে গেল যমেক হাসপাতালের দু ’চাঁদাবাজ        শ্যামনগরে দেড় কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস       বেনাপোল সীমান্ত থেকে কোটি টাকার সোনার বারসহ নারী আটক       খুলনায় কর্মহীন নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ       সাতক্ষীরা সীমান্তে ৯৪ লাখ টাকার সোনার বারসহ আটক ১       মোল্লাহাটে ইয়াবাসহ বিক্রেতা আটক      
ইতিহাসের মহানায়ক
মাহমুদা রিনি
Published : Saturday, 15 August, 2020 at 3:00 AM
ইতিহাসের মহানায়ক সেদিন ভোরে কাক ডাকেনি--- বুলেটের গর্জনে ওরা বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। ওরা মানুষের বর্জ্য ময়লা আবর্জনা খেয়ে বাঁচে কিন্তু স্বজাতির মাংস খায় না! ওরা কান পেতে শুনলো, চোখ খুলে দেখলো--- সভ্য সমাজের ধরা চুড়া পরা মানুষ শিশুহন্তা, জাতির জনক হন্তা। মায়ের বুকের ছোট্ট শিশু যার এখনো দুধের দাঁত পড়েনি। মা- মা বলে ভয়ে জড়োসড়ো শিশুটির ভয়ার্ত বুকে হাসতে হাসতে গুলি চালায় রক্ষকের ধ্বজাধারী বেঈমান। রক্ত, এত এত রক্তের হোলিখেলা দেখে চিল, শকুন, শিয়ালও লজ্জায় মুখ লুকিয়ে ফেলে--- ছিঃ এরা নাকি মানুষ! সৃষ্টির সেরা জীব! সত্যিই কি সেদিন সূর্য উঠেছিল ! নাকি বত্রিশ নম্বর বাড়িটার বুক ঝাঁঝরা করে বাঙালি জাতির স্বপ্ন কে রক্তস্রোতে ভাসিয়ে লাল টকটকে সূর্যটা সিঁড়ি বেয়ে গড়িয়ে পড়েছিল কয়েক শতাব্দী নিচে! ঠিক এমনই যেন ঘটেছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের নব উদিত সূর্যটাকে চিরতরে অস্তাচলে পাঠানো হলো। ইতিহাসের সূর্য সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এইদেশেরই কিছু পথভ্রষ্ট সৈনিক এবং কিছু বিশ্বাসঘাতক, বেঈমান কুচক্রী মহল পরিবার- স্বজন সহ নৃশংস ভাবে হত্যা করেন। সদ্য স্বাধীন দেশটাকে আলোশূন্য করে অন্ধকারে ভাগাভাগি করার নেশায় এরা তখন হায়েনার চেয়েও হিংস্র। রক্তের খেলায় উন্মত্ত হয়ে একে একে হত্যা করে শিশু, কিশোর, যুবা, নববধূ, মাতা সহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল সদস্যকে। বিশ্ববাসী স্তব্ধ, বিমুঢ় হয়ে দেখলো দীর্ঘ সংগ্রামের মহানায়ক, স্বাধীনতার রূপকার, স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার নির্মম উদাহরণ । যা বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হয়ে আছে এবং থাকবে চিরকাল। বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করেছিলেন বা করতেন বাঙালিরা তাঁর ভাই। বাংলা তাঁর অস্তিত্ব। এই বাংলার মানুষ তার সাথে বেঈমানী করতে পারবে না। বাংলার মানুষ, বাংলার স্বাধীনতাকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন, উপলব্ধি করতেন। ফরিদপুর জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নিয়ে আজীবন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই তিনি ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছিলেন। সংগ্রাম, আন্দোলন এবং দীর্ঘ কারাভোগের মধ্য দিয়েই যেন ব্যক্তি মুজিব একসময় স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠলেন। তাঁর সামান্য ইশারায় বাঙালি জাতি যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়তে প্রস্তুত ছিল। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাস পাকিস্তানের কারাগারে অন্তরীণ থাকার সময়ও তাঁর নির্দেশ মতোই বীর মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে জয় ছিনিয়ে আনেন। স্বাধীন হয় ভূখন্ড, জন্ম হয় সার্বভৌম বাংলাদেশের। সারা বিশ্বের চাপে এবং শর্ত অনুযায়ী পরাজিত পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেয়া খোকা তখন বাংলাদেশের মানচিত্র। একে একে সামগ্রিক যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটার পূণর্র্নিমানে ব্যস্ত। একদিকে খাদ্যশস্য ভাণ্ডার শূন্য, বিপর্যস্ত অর্থনীতি, রাস্তা ঘাট বিধ্বস্ত, অপর দিকে পররাষ্ট্র নীতির উন্নয়ন, জাতিসংঘে বাংলার হয়ে বলিষ্ঠ উচ্চারণ, দুই লাখ ধর্ষিতা নারীর অভিভাবকত্ব ইত্যাদি আরো অসংখ্য বিষয় নিয়ে যখন বঙ্গবন্ধু ব্যতিব্যস্ত ঠিক তখনই অন্তরালে বাসা বাধে বিশ্বাসঘাতকের ঘূনপোকা। একটি স্বাধীন দেশের রাষ্ট্র প্রধান হয়েও বত্রিশ নম্বর বাড়িতে সাদামাটা জীবনযাপন এবং সরল মনে সবাইকে বিশ্বাস করার চরম মূল্য দিতে হয় তাঁকে। পরিবার পরিজন সহ নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয় ইতিহাসের এই মহামানবকে। বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, দুই পুত্র সহ নবপরিণীতা পুত্রবধূ ও কনিষ্ঠ পুত্র শিশু রাসেল ছাড়াও অসংখ্য আত্মীয় পরিজনকে নির্মম নিষ্ঠুরভাবে মৃত্যু বরণ করতে হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবিহ্বল হয়ে যায় গোটা দেশ। সেই সুযোগে বিশ্বাস ঘাতক খুনি মোস্তাক বাহিনী ক্ষমতা কুক্ষিগত করে নেয়। ইতিহাসের পালাবদল ঘটিয়ে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার সবরকম ষড়যন্ত্র তারা করে। যার ফলশ্রুতিতে তারা সারাদেশের আওয়ামী নেতা কর্মীদের উপর জেল- জুলুম ও হত্যাকাণ্ড চালায়। যার একপর্যায়ে আওয়ামীলীগের অভিজ্ঞ চার নেতাকে জেলখানায় বন্দী অবস্থায় হত্যা করে। ৩ নভেম্বর যা ইতিহাসে জেল হত্যা দিবস হিসেবে কলঙ্কিত হয়ে আছে। ইতিহাসের মৃত্যু নেই। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকবেন বাংলার প্রতিটি মানুষের অন্তরে আরো হাজার বছর ধরে। শ্রদ্ধায় ভালোবাসায় বাংলার মানচিত্রে, ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে স্বাধীনতার মহানায়ক, বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম। 




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft