শিরোনাম: বিজয়া দশমী আজ       লেবুতলা ইউপি চেয়ারম্যান মিলনের পূজামন্ডপ পরিদর্শন       মাস্ক ছাড়া সেবা মিলবে না       ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের অধ্যাদেশ আইন হচ্ছে       তালবাড়ীয়ায় ধর্ষণ চেষ্টা ও মারপিট ঘটনায় অভিযুক্ত ৬       কুয়াদা এলাকায় দেড় ডজন মাদক কারবারী অপ্রতিরোধ্য       শহিদুল ইসলাম মিলনের পূজা মন্দির পরিদর্শন       রমজান হত্যা মামলায় টনির রিমান্ড মঞ্জুর       চৌগাছায় পুলিশ পরিচয়ে কলেজছাত্রকে হত্যার চেষ্টা       প্রেসিডেন্টস কাপ ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন মাহমুদউল্লাহ একাদশ      
বিশ্ব জোড়া পাঠশালা
মাহমুদা রিনি
Published : Sunday, 23 August, 2020 at 12:09 AM
বিশ্ব জোড়া পাঠশালা   ‘বিশ্ব জোড়া পাঠশালা মোর সবার আমি ছাত্র’// সুনির্মল বসু’র এই কবিতার লাইনটি আমাদের সকলের জীবনেই পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ ভাবে জড়ানো। সত্যি আমরা পদে পদে আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে সবকিছু থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করি। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত শেখার কোন শেষ নেই। আর শিখতে চাইলে শুধু বড় বড় পাঠশালা আর বই-ই লাগে না, শিখতে চাওয়া এবং দেখারও সমন্বয় থাকতে হয়। বাস্তবতার মুখোমুখি হলে বোঝা যায় যে আমরা (আমি) কত কিছুই জানি না। আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত কত ছোট বড় অসংখ্য ঘটনা ঘটে সেখান থেকেও যে কত কি শেখার আছে অনেক সময় আমরা তা খেয়াল করি না। আবার এভাবে দেখতে দেখতে হয়তো আমরাও একসময় সমৃদ্ধ হয়ে উঠি আমাদের অজান্তেই। একটি ছোট্ট ঘটনার কথা বলি। কোরবানি ঈদের আগের ঘটনা। আমার এক বাল্যবন্ধু যশোর এসেছে তার আত্মীয়ের বাসায়। বন্ধুটি খুব অসুস্থ। ক্যানসারের মত দুরারোগ্য অসুখ ওর শরীরে বাসা বেধেছে। বাড়ি যশোরে, চাকরি সুত্রে ঢাকায় থাকে। বিশেষ প্রয়োজনে অসুস্থ শরীরেও যশোর এসেছে। ওকে দেখার এই সুযোগ আমি হাতছাড়া করতে চাইনি। যথেষ্ট সাবধানে এবং দুরত্ব বজায় রেখেই ওকে দেখতে গিয়েছি। আমার বন্ধুটি যে বাসায় উঠেছে তাঁরা আমার বিশেষ পরিচিত এবং সুহৃদ। ঐ বাসায়ই থাকেন আমার আরেক শ্রদ্ধেয় দাদা। সবমিলিয়ে আমার জন্য মনোরম পরিবেশ। শুধু বন্ধুটির জন্যই মনটা খুব খারাপ। আমার আগে ঐ বাসায় যাওয়া হয়নি, বৌদিই আমাকে লোকেশন বুঝিয়ে দিলেন। নিচতলায় দাদা-বৌদি থাকেন। আমি যাওয়ার পর দাদা হন্তদন্ত হয়ে এসে বললেন, রিনি আমি এদিকে ছাগল নিয়ে একটু ব্যস্ত আছি, তুমি বসো আমি আসছি। দেখি দাদা ঘেমে নেয়ে একসা--। আমি ভাবছি দাদারা নিচতলায় থাকেন সামনে- পিছনে অনেকখানি জায়গা। ছাগল মুরগী পোষার জন্য উত্তম। আমারও দাদার সাথে ছাগলের পরিচর্যায় যেতে ইচ্ছা করছিল কিন্তু বন্ধুটিকে দেখতে হবে ভেবে আর গেলাম না। দোতলায় গেলাম, এবার অবাক হবার পালা। উপরে যে ভাই-ভাবী থাকেন তাদের সাথে কথা বলছি। এরমধ্যে ভাই বললেন নিচে দাদা কি এখনো ছাগল নিয়েই ব্যস্ত! তখন শুনলাম ওটা দোতলার ভাইদের কোরবানির ছাগল। দাদা এ কয়দিন ছাগল নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত। কতটা গলদঘর্ম সে আমি নিজে চোখেই দেখে এলাম। আমি আর এ প্রসঙ্গে কিছুই বললাম না কিন্তু কোথাও একটা বিষন্নতা আমাকে ঘিরে ধরলো। এই আমাদের দেশ! এই আমাদের সংস্কৃতি। আমাদের আচার, উৎসব, ভালোবাসা, স্নেহ-মমতা-জাতি ধর্ম বর্ণ মিলেমিশে যার সহাবস্থান। আমার বাবাকে দেখেছি প্রতিবেশী কাকাবাবু মারা গেলে সারারাত মৃতের কাছে বসে থেকে ভোর বেলা বাড়ি এসে ফজরের নামাজ পড়তেন। এমন না যে তিনি ধর্ম কর্ম করতেন না। রীতিমতো পরহেজগার মানুষ, ইমামতিও করতেন। শিক্ষক ছিলেন। আমরা সেই শিক্ষায় বড় হয়েছি। যে দৃশ্য গুলো আমাদের সহজাত, যে দৃশ্যের সাথে মিশে বড় হয়েছি আজ সেই দৃশ্য দেখে চোখে জল আসার উপক্রম হলো। কি এমন ঘটে গেল আমাদের দেশে যে আমরা এখন ধর্মাধর্ম বিচার করি প্রতি পায়ে পায়ে। মনে হয় নতুন করে যেন কোন ধর্মের আবির্ভাব হয়েছে যা রক্ষার্থে আমরা কোমরে গামছা বেঁধে লাঠি সড়কি হাতে দাঁড়িয়েছি। যা আমাদের আগে জানা ছিল না বা এখন নতুন করে শিখতে হবে! এখন আমরা বাউলদের ঘর পোড়াই, কারোর মাথা ফাটাই। একে অপরের ধর্ম নিয়ে নগ্ন বিশ্লেষণ করি। অতি ধার্মিক, অতি অধার্মিক, অতি রেষারেষি, কাড়াকাড়ির আতিশয্যে আমাদের নতুন প্রজন্ম অতি অমানবিকতার খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে। আমরা তা খেয়ালও করছি না। আমরা কেবলই অন্ধের মতো হাতড়ে ফিরি পরকালের দালান কোঠা, আরাম-আয়েশের পাকাপোক্ত বিলি ব্যবস্থা। আগামী দিনের ভবিষ্যৎ কর্ণধাররা তৈরি হচ্ছে যেন একেকটি রেসের ঘোড়া। তারা শুধু প্রতিযোগিতায় ছুটছে মানবিক অমানবিক বোধ শূন্য এক যন্ত্র মানব। আমার খুব অবাক লাগে এই আমরাই যারা পরস্পর অন্য ধর্মের কুৎসা রটাই, মারামারি গালাগালি করি, ছুঁয়ে দিলে গোসল করে শুদ্ধ হই, এই তারাই আবার বিপদে একে অন্যের স্মরণাপন্ন হতে দ্বিধা করি না। রক্ত বিনিময় করি। একবারও চিন্তা করি না অন্য ধর্মের মানুষের রক্ত যদি শরীরে গ্রহণ করা যায় তাহলে আর পার্থক্য থাকে কোথায়! রক্ত যদি আলাদা হতো, হিন্দুর একরকম, মুসলমানের একরকম আরো সব ধর্মের একেক রকম রক্ত তবুও না কিছুটা বিভেদ মেনে নেয়া যেত কিন্তু মানুষে মানুষে তো কোন ভেদাভেদ নেই ! সৃষ্টি কর্তাই করেননি আমরা করি কি করে ! আবার সৃষ্টিকর্তার কি অসীম লীলা মানুষের শরীরে মানুষের রক্তই লাগে কোন পশুর রক্ত লাগে না। সব মানুষের সৃষ্টিতে একই উপাদান, আমরা বিভেদ করি সমানে সমান। বোধগম্য হয় না মানুষ শব্দের একই অর্থ আমরা কেন বুঝতে পারি না। ধর্মের ভিত্তিতে আকাশ বাতাস, সূর্য, চাঁদ কিছুই ভাগ হয় না অথচ এর কোনটা ছাড়াই আমাদের চলে না। আমরা প্রয়োজনের সময় মেনে নিই প্রয়োজন ফুরালে বিভেদ করি। বোধোদয় হোক সব মানুষের। আশা করি একদিন মানুষ বুঝতে পারবে ধর্ম যার যার, পৃথিবীটা সব মানুষের, সকল প্রাণের।






« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft