শিরোনাম: ধর্ম যার যার, উৎসব সবার        নাভারণে সড়ক দুর্ঘটনায় শ্রমিক নিহত       স্ত্রীকে নিয়ে পূজা দেখতে এসে যুবক ছুরিকাহত       গ্রামীণফোনের কলড্রপে গ্রাহকরা অতিষ্ঠ       কনে যাচ্চি আমরা ?       জবাবদিহিতায় আসছে ৩ হাজার সার ব্যবসায়ী       যশোরে ইজিবাইক ছিনতাই ঘটনায় একজন আটক       জেলা মহিলা আ’লীগ নেতৃবৃন্দের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদন       যশোরে গাঁজা বিক্রির সময় কারবারী আটক       যশোরে গাঁজা বিক্রির সময় কারবারী আটক      
প্রণব মুখার্জি : বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু
সুভাষ সিংহ রায়
Published : Tuesday, 1 September, 2020 at 3:00 AM
প্রণব মুখার্জি : বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু প্রায় অর্ধশত বছর ধরে প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশকে সমর্থন জুগিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের পর্বটি হিসাব করলে সময়কালটা তেমনি দাঁড়ায় । প্রণব মুখার্জির আত্মজীবনীর প্রথম খণ্ডের সময়কাল ১৯৬৯ থেকে ১৯৮০। সঙ্গত কারণেই তিনি এর নাম দিয়েছেন ‘দ্য ড্রামাটিক ডিকেড’। কংগ্রেসে বিভাজন, ইন্দিরা গান্ধীর বিপুল জয় ও নির্মম পরাজয়, জরুরি অবস্থা, জয়প্রকাশ নারায়ণের আন্দোলন, দেশে প্রথম অ-কংগ্রেসি সরকারের ক্ষমতাসীন হওয়া এবং চলে যাওয়া, নানা বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট বনাম কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বৈরথ, সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ-স্বাধীনতা-উত্তর ভারতের ইতিহাসে এত সব নাটকীয় ঘটনাসমৃদ্ধ দশক তার আগে বা পরে সত্যিই এসেছে কি না সন্দেহ।
১৯৭১-এর ২৫ মার্চ ইন্দিরা গান্ধী আদেশ দিলেন শরণার্থীরা যাতে বিনা বাধায় এ দেশে প্রবেশ করতে পারেন সে জন্য পূর্ব পাকিস্তান সীমান্ত সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখা হবে। শুধু তাই নয়, তিনি এই আদেশও দিলেন যে পূর্ব পাকিস্তান থেকে যে সব রাজনৈতিক নেতা এপারে আসবেন তাঁদের সাদরে অভ্যর্থনা জানিয়ে নিরাপদ আশয়ে নিয়ে যেতে হবে। ৩০ মার্চ ঘটনাবলী সম্পর্কে ভারত সরকারের মনোভাব পরিস্কার করে দেওয়া হয়েছিল।
সে বছরই বাজেট অধিবেশনের সময় রাজ্যসভায় প্রণব মুখোপাধ্যায় পূর্ব পাকিস্তানের ঘটনাবলী নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত করেন। বিষয়টি ছিল অবিলম্বে মুজিবনগরে নির্বাসনে থাকা বাংলাদেশ সরকারকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দান। প্রণববাবুর কথায়, আলোচনা চলাকালীন একজন সদস্য আমাকে প্রশ্ন করলেন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার উপায় কী! আমি জবাবে বললাম, কাল বিলম্ব না করে বাংলাদেশ সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া। অর্থাৎ সমস্যার একটি রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমাধানের অর্থ হবে যত রকম ভাবে সম্ভব স্বাধীন, সার্বভৌম গণতান্ত্রিক বালাদেশ সরকারকে সাহায্য করা। অনুরূপ পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপের কত নজির দুনিয়ার ইতিহাসে আছে আমার ভাষণে সে সব উদাহরণও উপস্থিত করলাম।’
১৯৭১-এর ২৫ মার্চ রাত্রি ন’টা থেকে শুরু হয় পূর্ব পাকিস্তানে খান সেনাদের অকথ্য অত্যাচার। তাঁকে অচিরেই গ্রেফতার করা হবে বুঝতে পেরে মুজিবুর রহমান সে রাতেই ঘোষণা করেন, ‘হয়তো এটাই আমার শেষ বার্তা। বাংলাদেশের মানুষের কাছে আমার আবেদন একটাই। আপনারা যে যেখানে আছেন, হাতের কাছে যে সম্বলটুকু আছে তা দিয়েই শেষ বিন্দু পর্যন্ত এই সেনাদের প্রতিহত করুন। যতদিন না শেষ পাকিস্তানি সেনাটি বাংলাদেশের মাটি থেকে উৎখাত হবে, অর্থাৎ আমাদের সম্পূর্ণ জয় হাসিল হবে, আপনারা তত দিন লড়াই চালিয়ে যান।’
¯্রফে নিজের চেষ্টা, একাগ্রতা আর অধ্যাবসায়ের জোরে (সঙ্গে অবিশ্বাস্য স্মৃতিশক্তির ব্যাপারটা তো ছিলই) নিজের সেই দুর্বলতাগুলি প্রণববাবু ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠেছিলেন। এ দিক থেকে দেখতে গেলে তিনি প্রায় ষোলো আনা স্বশিক্ষিত রাজনীতিক। তবুও ইংরেজিতে দুর্বলতা, বিশেষ করে বীরভূমি উচ্চারণে রানির ভাষা বলার জন্য সারা জীবন তাঁকে কম খোঁটা হজম করতে হয়নি। রসিক প্রণববাবু এমনতরো তুচ্ছ অপবাদ বিশেষ একটা গায়ে মাখেননি।
বাংলাদেশের প্রতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের দুর্বলতা অপরিসীম, অনেকটা জ্যোতি বসুর মতোই। জ্যোতিবাবুর পৈতৃক বাড়ি ছিল বারদিতে, লোকনাথ বাবার আশ্রমের পাশেই। সে অর্থে তিনি ছিলেন বাঙাল। প্রণববাবু আপাদমস্তক ঘটি, তাঁদের আদি বাড়ি নদিয়াতে। তবে বিবাহসূত্রে তিনিও বাঙালদের জামাই। স্বাধীন বাংলাদেশ বিশেষ করে আওয়ামি লীগ নেতারা, পশ্চিমবঙ্গের এই দুই প্রবীণ নেতাকে বরাবর তাঁদের একান্ত আপনজন বলে মনে করে এসেছেন, প্রয়োজনে তাঁদের সাহায্যপ্রার্থীও হয়েছেন বার বার। প্রণব-পত্মীর মৃত্যুর খবর শুনে এই তো সে দিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রোটোকলের তোয়াক্কা না করে অশ্রুসজল চোখে চলে এসেছিলেন দিল্লিতে। শুভ্রাদেবীর শেষ যাত্রার আগে যে ভাবে প্রকাশ্যেই তিনি হাউ হাউ করে কেঁদেছিলেন তাতে স্বজন বিয়োগের চিহ্ন ছিল পরিষ্কার।
প্রণব মুখার্জি আজ থেকে ১৩ বছর আগে ভারতের খ্যাতনামা গণমাধ্যম ‘ এবিপি আনন্দ’ তাঁকে ‘সেরা বাঙ্গালি’ পদক দিয়েছিল। কোনো এক আড্ডাতে এক সাংবাদিক তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আচ্ছা প্রণববাবু, আপনি ভারতের ক্যাবিনেটে এতদিন ধরে অলিখিত দু’নম্বর ছিলেন, কিন্তু তবু আপনার কখনও প্রধানমন্ত্রী হওয়া হলো না। আফসোস হয় না? ’
প্রণব মুখার্জির ঝটিকা জবাব ছিল, ‘আমার যে প্রধানমন্ত্রী হওয়া হবে না, সে তো সাতচল্লিশ সালেই স্থির হয়ে গিয়েছিলো! এখন সেটা নিয়ে আফসোসের আবার কী আছে? ’
প্রণব মুখার্জি ভারতে একমাত্র বাঙালি রাষ্ট্রপতি ছিলেন। পরবর্তী আরেকজন বাঙালি রাষ্ট্রপতির কথা কল্পনাতেও আনা যাচ্ছে না।
লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft