শিরোনাম: ধর্ম যার যার, উৎসব সবার        নাভারণে সড়ক দুর্ঘটনায় শ্রমিক নিহত       স্ত্রীকে নিয়ে পূজা দেখতে এসে যুবক ছুরিকাহত       গ্রামীণফোনের কলড্রপে গ্রাহকরা অতিষ্ঠ       কনে যাচ্চি আমরা ?       জবাবদিহিতায় আসছে ৩ হাজার সার ব্যবসায়ী       যশোরে ইজিবাইক ছিনতাই ঘটনায় একজন আটক       জেলা মহিলা আ’লীগ নেতৃবৃন্দের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদন       যশোরে গাঁজা বিক্রির সময় কারবারী আটক       যশোরে গাঁজা বিক্রির সময় কারবারী আটক      
আমাদের জামাই ‘বাঙালি বাবু’ প্রণব মুখার্জ্জী
ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল :
Published : Wednesday, 2 September, 2020 at 12:07 AM
আমাদের জামাই ‘বাঙালি বাবু’ প্রণব মুখার্জ্জীনড়াইলের জামাই ‘বাঙালি বাবু’ প্রণব মুখার্জ্জী প্রকৃতির নিয়মে চলেই গেলেন। ইতিহাস হয়ে রেখে গেলেন ভারতবর্ষের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতির বিরল মর্যাদার সম্মান। বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর রাষ্ট্র ভারতের মতো দেশে প্রণব মুখার্জ্জী দুই দফা করে অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রির পর রাষ্ট্রপতি ভবনের বাসিন্দা হবার নেপথ্যের নায়িকার ভ‚মিকায় বার বার শুভ্রার নাম উচ্চারণ করেছে সেখানকার গণমাধ্যম। গণমাধ্যমে একথা আসে ‘বাঙালি বাবু’ প্রণব মুখার্জ্জীর ভারতের রাষ্ট্রপতি হবার পেছনে ছিল শুভ্রা ম্যাজিক। তবে রক্ষণশীল ব্রাক্ষণ ঘরের ছেলে হয়ে (অব্রাক্ষণ) শুভ্রার সাথে অসবর্ণ বিয়েটা প্রণব পরিবারের আপত্তির মুখেই হয়েছিল। তবে প্রথা ভেঙে শুভ্রাকে জীবনসঙ্গী করে তিনি যে মোটেও ভুল করেননি, সেটা শুভ্রা জীবনের বাঁকে বাঁকে বহমান নদীর মতোই বুঝিয়ে দিয়েছেন।
একে তো বাঙালি রাষ্ট্রপতি, তার সাথে নড়াইলের ‘জামাই’ ভারতের রাষ্ট্রপতি হবার পর বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে উচ্ছ¡াসটা একটু বেশিমাত্রায় আছড়ে পড়ে। আর সে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল নড়াইলের ভদ্রবিলা গ্রামের শুভ্রাকে ঘিরে। প্রায় ৫৮ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটিয়ে ২০১৫ সালে শুভ্রা মুখার্জ্জী চলে যান না ফেরার দেশে। এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি হবার একবছরের মাথায় ২০১৩ সালের ৫ মার্চ ‘জামাইবাবু’ প্রথমবারের মতো পা রাখেন ‘শ্বশুরবাড়ি’। ৫৬টি বছরের দাম্পত্য জীবন পার করে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রপতি হয়ে শ্বশুরালয়ে আসার খবরে সেসময় তাবৎ মিডিয়া জগতে হৈচৈ পড়ে যায়। এ যেন সত্যিই এক অভাবিত ঘটনা। ভদ্রবিলা গ্রামে সেদিন শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সদস্যরা রীতিমতো সনাতন ধর্মীয় আচার অনুযায়ী ‘জামাইবরণ’ করে নেন।
সেই গ্রাম ভদ্রবিলা শুনশান শহর নড়াইলের ৮ কিলোমিটার দূরে। একসময় বৃহত্তর যশোরের মহাকুমা শহরটির গায়ে আজ আভিজাত্যের জেলা শহরের তকমা। চিত্রাপাড়ের গ্রামটি যেন নিজের হাতে সাজিয়েছে নিজেকে। অপরূপ নিসর্গের মাতামাতি যে কাউকে মুগ্ধ করবে মুহূর্তেই। সেই গ্রামের জমিদার অমরেন্দ্র ঘোষের মেয়ে শুভ্রা ঘোষের জন্ম ১৯৪৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। তার মা মীরা রানী ঘোষ। অমরেন্দ্র ঘোষের দুই স্ত্রীর ঘরে ৪ ছেলে ও ৪ মেয়ে। একে একে সবাই ভারতে চলে গেলে গ্রামে একা রয়ে যান কানাইলাল ঘোষ।
তুলারামপুরে বসবাসকারী শুভ্রার মামাতো দাদা কার্তিক ঘোষ জানান, শুভ্রার জন্ম পৈতৃক বাড়িতে না। নড়াইলেরই তুলারামপুর ইউনিয়নের চাঁচড়া গ্রামের মাতুলালয়ে দাদু সিতেনাথ সিংহ ও দিদিমা কুসুম কুমারির বাড়িতে জন্ম শুভ্রার। চাঁচড়া প্রাইমারি স্কুলে ১ম ও ২য় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। এরপর তারা বাবা ১৯৫৫ সালে তাকে কলকাতায় পাঠিয়ে দেন লেখাপড়ার জন্য। ১৯৫৭ সালের ১৩ জুলাই জুটি বাঁধেন শুভ্রা-প্রণব। শুরু থেকেই ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর স্নেহধন্য ছিলেন প্রণব। ইন্দিরা গান্ধীই প্রণবের নবপরিণীতার নাম দেন শুভ্রা মুখার্জ্জী।
শুভ্রা মুখার্জ্জীর ছোটবেলার গ্রাম ভদ্রবিলায় তিন একর জমির এলাকা জুড়ে রয়েছে আম, জাম, লিচু, কদবেলের গাছ। এককোণে একটা পুকুর। বাড়ির চারপাশ পৈতৃক ভিটেয় স্বজন বলতে রয়েছেন তার ছোটভাই কানাইলাল ঘোষ ও তার স্ত্রী দুলালী ঘোষ, তাদের ছেলে প্রশান্ত ঘোষ ও ছেলেবউ অর্চনা ঘোষ। কার্তিক ঘোষ মাটির সাথে মিশে থাকা জমিদার বাড়ির চিহ্ন দেখিয়ে বললেন, একাত্তরে রাজাকাররা এগুলো ধ্বংস করেছে। বাড়ির এককোণে পারিবারিক মন্দিরটি আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের স্মারক হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এটাও ৭১-এ আক্রমনের শিকার হলেও ততটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। পরে সংস্কার করা হয়। নিয়মিত সেখানে রাধাকৃষ্ণের পূজা হয়। শুভ্রার ছোটভাইয়ের স্ত্রী দুলালি ঘোষ জানান, ননদের বাড়িতে গিয়ে মাঝেমধ্যে দেখা করতাম। তবে জামাইবাবুর দেখা সচরাচর পেতাম না। দুঃখ প্রকাশ করে বললেন, ১৯৯৫ সালে দিদি এখানে এসেছিলেন। তখন অনেক রান্না করেছিলাম। নারকেলের নাড়– বানিয়েছিলাম। কিন্তু দিদি তা খাননি। বলেছিলাম, ‘খেতে দেব?’ দিদি বললেন, ‘সময় নেই।’ তবে ভালো লাগে তিনি আমাদের দামি কাপড়চোপড় দিতেন। খোঁজখবর রাখতেন। মেয়ের বিয়ের সময়ও টাকা, গহনা আর শাড়িকাপড় দিয়েছিলেন।’
কার্তিক ঘোষ জানান, গ্রাম ছাড়ার ৪০ বছর পর বাংলাদেশে আসেন তাদের দিদি। চিত্রা নদী দিয়ে ¯িপ্রড বোটে তিনি ভদ্রবিলায় আসেন। পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে তাকে বরণ করা হয়। কিন্তু সময় না থাকায় আর সেদিন প্রচÐ বৃষ্টির কারণে তিনি বাড়িতে বেশিসময় বসেননি। তবে তাকে একনজর দেখার জন্য সেদিন গাঁয়ের লোকেরা হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল।
লেখক সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft