শিরোনাম: বিজয়া দশমী আজ       লেবুতলা ইউপি চেয়ারম্যান মিলনের পূজামন্ডপ পরিদর্শন       মাস্ক ছাড়া সেবা মিলবে না       ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের অধ্যাদেশ আইন হচ্ছে       তালবাড়ীয়ায় ধর্ষণ চেষ্টা ও মারপিট ঘটনায় অভিযুক্ত ৬       কুয়াদা এলাকায় দেড় ডজন মাদক কারবারী অপ্রতিরোধ্য       শহিদুল ইসলাম মিলনের পূজা মন্দির পরিদর্শন       রমজান হত্যা মামলায় টনির রিমান্ড মঞ্জুর       চৌগাছায় পুলিশ পরিচয়ে কলেজছাত্রকে হত্যার চেষ্টা       প্রেসিডেন্টস কাপ ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন মাহমুদউল্লাহ একাদশ      
মাগুরায় দু’ বাস ও মাইক্রোর ত্রিমুখি সংঘর্ষ
সড়কে ঝরল চার প্রাণ
সন্তানের মুখ দেখা হলো না আরিফের
কাগজ সংবাদ ও মাগুরা প্রতিনিধি
Published : Saturday, 19 September, 2020 at 12:36 AM
সড়কে ঝরল চার প্রাণআগামী ১০ নভেম্বর স্ত্রী মলির কোল আলো করে পৃথিবীতে আসার কথা সন্তানের। সেই আনন্দে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন পরিবারের সদস্যরা। এরই মাঝে পিতা আরিফ হোসেন মোল্লা জীবিকার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন। পেশায় পরিবহনের শ্রমিক আরিফ বুধবার ঢাকার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন। কাজের ফাকে ফাকে স্ত্রীর সাথে কথা বলে তার শরীরের খোঁজ নিয়েছেন আর তগাদা দিয়েছেন যেন অনাগত সন্তানের কোনো অবহেলা তিনি না করেন। কিন্তু, অনাগত সন্তানের মুখ আর দেখা হলো না আরিফ হোসেন মোল্লার। শুক্রবার দুপুরের পর খবর আসে আরিফ আর এই পৃথিবীতে নেই! যশোর-মাগুরা সড়কে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন তিনি। রাতে যখন তার লাশ নিয়ে আসা হয় যশোর শহরের ইসহক সড়কের বাড়িতে তখন সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। অনাগত সন্তানের পিতার এভাবে চলে যাওয়াকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না মা মলি। বার বার তিনি মূর্ছা যাচ্ছিলেন। সেই সাথে পরিবারের অন্যান্যদের আহাজারিতে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
শুক্রবারের ওই দুর্ঘটনায় আরিফের সাথে নিহত হন আরও তিনজন। এদের মধ্যে তারই সহকর্মী চাকলাদার পরিবহনের সুপারভাইজার আমিন মিয়াও (৪০) রয়েছেন। আরিফ ওই পরিকহনের হেলপার।
শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে যশোর-মাগুরা মহাসড়কের মঘীরঢাল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে দু’ বাস ও একটি মাইক্রোবাসের ত্রিমুখি সংঘর্ষের পর যাত্রীবাহী একটি বাস খাদে পড়ে তারা মারা যান। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আরিফ ছাড়াও সুপারভাইজার আমিন মিয়া ও বাসযাত্রী নুর ইসলামের (৫৫) বাড়ি যশোরে। আমিন মিয়ার বাড়ি যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়ায় এবং নুর ইসলামের বাড়ি শার্শা উপজেলায়। নিহত যাত্রী ফকরুল ইসলামের (৩৮) বাড়ি নরসিংদির দত্তপাড়ায়।
দুর্ঘটনার পর পরই যশোর-মাগুরা সড়কে সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় রাস্তার দু’ পাশে অসংখ্য যানবাহন ও যাত্রী আটকা পড়েন। অনেক যানবাহন ঝিনাইদহ ঘুরে আসে। খবর পেয়ে মাগুরা ও যশোর থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রæত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ ও আহতদের উদ্ধার করেন। কয়েক ঘণ্টার উদ্ধার তৎপরতার পর সন্ধ্যার একটু আগে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। উদ্ধার কার্যক্রমে ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ছাড়াও স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্যরা অংশ গ্রহণ করেন। স্থানীয়রাও তাদের সাথে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করেন।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুপুর দেড়টার দিকে বরিশাল থেকে আসা চাকলাদার পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকাগামী সোহাগ পরিবহনের একটি বাসের সংঘর্ষ হয়। এ সময় চাকলাদার পরিবহনের বাসটির পেছনে আরও একটি মাইক্রোবাস ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে ছিটকে পড়ে।
উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, নিহত চারজনসহ হতাহতদের বেশির ভাগই চাকলাদার পরিবহনের যাত্রী। তাৎক্ষণিকভাবে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আহত ১৭ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। চাকলাদার পরিবহনের বাসটি খালের পানির মধ্যে আংশিক ডুবে ছিল। সেখান থেকে চারটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহিম আরও জানান, সোহাগ পরিবহন ও দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসের যাত্রীদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানাগেছে। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। সন্ধ্যার পর পরই লাশগুলো পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। আরিফ মোল্লার লাশ বাড়িতে এসে পৌঁছে রাত সাড়ে আটটার দিকে।
আরিফ মোল্লা শংকরপুর এলাকার প্রয়াত গ্রাম্য মাতব্বর রহমত মোল্লার ছেলে লিয়াকত মোল্লার একমাত্র ছেলে। তার আত্মীয় আক্তার হোসেন জানান, প্রায় এক বছর আগে তিনি বিয়ে করেন। তার স্ত্রী মলি সন্তানসম্ভবা। চিকিৎসক জানিয়েছেন, আগামী ১০ নভেম্বর মলির সন্তান জন্ম দানের সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগে স্বামীর এই মৃত্যুতে একেবারে দিশেহারা হয়ে পড়েছে মেয়েটি। মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর থেকেই বার বার মূর্ছা যাচ্ছেলেন মলি। লাশ বাড়িতে আসার পর তার আর্তনাদে এলাকায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।  





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft