শিরোনাম: আজ মহাষষ্ঠীতে কল্পারম্ভ ও অধিবাস       হার্ডলাইনে কর্মকর্তারা, ব্যত্যয় ঘটলেই শাস্তি       পুনঃনির্বাচনের দাবিতে যশোরে বিএনপির বিক্ষোভ       যমেক হাসপাতালে এইচআইভি অ্যাডভোকেসি সভা       সংক্ষিপ্ত পরিসরে যশোরে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা       মাশরাফির দুই সন্তান করোনায় আক্রান্ত       শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি হলেন চুন্নু ও কৃষক লীগের সদস্য মোশাররফ       পরীক্ষা দেয়া লাগবে না কাউকেই       পূজা মণ্ডপে এমপি নাবিলের অর্থ প্রদান       আ’লীগ নেতা ফারাজী শাহাদত হোসেন ও এজেডএম ফিরোজের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত      
নওগাঁয় আমন ধানে পোকার আক্রমন দিশেহারা কৃষক
মোফাজ্জল হোসেন, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
Published : Wednesday, 23 September, 2020 at 4:40 PM
নওগাঁয় আমন ধানে পোকার আক্রমন দিশেহারা কৃষকআমন ধানে পোকার আক্রমন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নওগাঁর কৃষকরা। কীটনাশক ব্যবহার করেও মিলছে না সমাধান। কৃষি বিভাগের লোক মাঠে না পেয়ে। বাধ্যহয়েই পরামর্শ নেওয়ার জন্য ছুটছেন কীনাশকের দোকানগুলোতে। কীটনাশক দোকানগুলো হাতে তুলে দিচ্ছেন নাম সর্বস্ব কোম্পানির ৪ থেকে ৫টি করে কীটনাশক ফাইল ও পাউডার। কৃষি বিভাগ কৃষকের মোবাইলে যোগাযোগ করতে অথবা লিখিত অভিযোগ করতে বলছেন।
কৃষি সম্প্রসারন অধিপ্তরের তথ্য মতে, চলতি আমন মৌসুমে জেলার ১১টি উপজেলায় মোট ১ লক্ষ ৯৭ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানে চাষ করা হয়েছে। তারমধ্য হাইব্রীড জাতের ২৫০ হেক্টর, উন্নত ফলনশীল (উফশী) জাতের ১ লক্ষ ৬৮ হাজার ১শ ৭০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ২৯ হাজার ৮০ হেক্টর।
পোরশা উপজেলার বাকইল গ্রামের কৃষক আব্দুস ছালাম ও হুমায়ন কবির বলেন, ৪ থেকে ৫ একর জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছি। ২ থেকে ৩ একর জমির ধান প্রায় নষ্ট হয়ে খড় হয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের লোকজন এলাকায় না আসায় কারণে আমরা কোন পরামর্শ নিতে পারছি না। কীটনাশকের দোকানদারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষুধ স্প্রে করে কোন উপকারে আসছে না। এ রকম সমস্যা এই এলাকার অনেক কৃষকের।
নিয়ামতপুর উপজেলার চন্দননগর গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, ৯ বিঘা জমিতে স্বর্ণা-৫ জাতের ধানের চাষ করেছি। মাজরা পোকার আক্রমনে ধানের মুজি কেটে দিচ্ছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ না পেয়ে। দোকানে গেলে কাটটাপ গ্রুপের কিটনাশক ওষুধ স্প্রে করতে বলছে কিন্তু তাতে কোন লাভ হচ্ছে না। গোড় গামর হতে বসেছে ধান। এসময় পোকার আক্রমনে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি।
একই এলাকার কৃষক ফজলুল ও রশিদ বলেন, ২০ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছেন। ধান লাগানোর কিছু দিন পর থেকে মাজরা পোকার আক্রমন শুরু হয়। আক্রমনের পর থেকেই বিভিন্ন কোম্পানির ঔষুধ ব্যবহার করছি। ঔষুধ স্প্রে করলে এক সপ্তাহ ভালো থাকে তারপর আবার ধান মরতে শুরু হরে। কোম্পানির প্রতিনিধীরা যেসব ঔষুধ দিচ্ছে এমন ঔষুধ বাজারে আমরা কখনো দেখিনি।
মহাদেবপুর উপজেলার ইশ্বরপুর গ্রামের কৃষক শরিফ হোসেন ও আলীপুর গ্রামের ইয়াসিন আলীসহ এলাকার একাধীক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, আমন ধানে পোকার আক্রমনে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। কৃষি বিভাগের লোকজনদের মাঠে পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে কীটনাশক বিক্রেতাদের পরামর্শ নিয়ে ধানে ওষুধ স্প্রে করে কোন কাজ হচ্ছে না।
চকরাজা গ্রামের কৃষক সুলতান বলেন, ৪বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছি। প্রতি সপ্তাহে ধানে ওষূধ স্প্রে করি। আবহাওয়া কারণে মাঝ খানে একদিন ঔষুধ দিতে পারিনি। দুই দিন পরে এসে দেখি পোকার আক্রমনে অর্ধেক ধান মরে গেছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ না পেয়ে। দোকানে গেছে (মানজা প্লাস, সবিক্রন, এমিস্টার টপ ফাইল ও এসিকার পাউডার) চার প্রকার ঔষুধ দিয়ে স্প্রে করতে বলেন। চার বিঘা জমিতে একবার ঔষুধ স্প্রে করতে ৩ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।  
শ্যামপুর গ্রামের কৃষক সজিদ কুমার সাহা ও অখিল কুমার সাহা বলেন, আমন ধানের এবার মাজরা পোকার আক্রমন এমন ভাবে শুরু হয়েছে। তিন বার ঔষুধ স্প্রে করার পর পোকার আক্রমন থেকে ফসল রক্ষা করা যাচ্ছে না। আমাদের তিন ভাইয়ের দেড় বিঘা জমির ধানের আশা ছেড়েই দিয়েছি। লাগানো চাড়া সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে, নতুন করে ধানের গোড়া থেকে চারা গজিয়ে ফসল করার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।
মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অরুন চন্দ্র রায় বলেন, মাজরা পোকার আক্রমন ফসলকে বাঁচাতে আমরা ধানে পারচিং করতে বলছি। লাউটিং ও ভিরতাকো জাতীয় ওষুধ স্প্রে করলে সহজেই এ পোকার আক্রমন থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) কৃষিবিদ মো. শামছুল ওয়াদুদ বলেন, নওগাঁ জেলায় আমন ধানে কোথাও কোন প্রকার পোকার আক্রমন নেই। পোকার আক্রমন থাকলে কৃষককে আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করতে বলেন। কৃষি অফিসের লোকজনদের মাঠে পাওয়া যাচ্ছেনা এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন কৃষক যেন মোবাইল করে জানান তাহলে কৃষি অফিসের লোক গিয়ে পরামর্শ দিয়ে আসবে। 




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও খবর
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft