শিরোনাম: শ্যামনগরে অতিদরিদ্রদের মধ্যে অর্থ সহায়তা কার্যক্রম উদ্বোধন       আমরণ অনশনে রায়হানের মা       যশোরে ফেনসিডিলসহ এক ব্যক্তি আটক       পাইকগাছায় ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার       মধুখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় দু’জন নিহত, আহত ৫        কাঠ ব্যবসায়ীকে গলাকেটে হত্যা       এল ক্লাসিকোতে রিয়ালের জয়       পাঞ্জাবের কাছে হারলো হায়দরাবাদ       প্রেসিডেন্ট কাপ ক্রিকেটের ফাইনাল আজ       টিকার জন্যে ঋণ চাইল বাংলাদেশ       
করোনা কেড়ে নিয়েছে স্বাভাবিক জীবন
ঠোঙ্গা বানিয়ে ও মজুরি করে সংসার চলছে বাদক আর চিত্র শিল্পীর
স্বপ্না দেবনাথ :
Published : Thursday, 24 September, 2020 at 1:20 AM
ঠোঙ্গা বানিয়ে ও মজুরি করে সংসার চলছে বাদক আর চিত্র শিল্পীরসময়ের পরিক্রমায় করোনা পরিস্থিতির সাথে অভ্যস্ত হয়ে জনজীবন অনেকটা স্বাভাবিকভাবে চলছে। অফিস আদালত, হাট বাজার সর্বত্র কার্যক্রম পরিচালনা শুরু হলেও স্থবিরতা কাটেনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। বৃহৎ পরিসরে কবে থেকে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড বা অনুষ্ঠানের অনুমতি মিলবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। এ পরিস্থিতিতে যাদের পেশা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্তদের দিন দিনঅনেড়বর সংস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
করোনার আগে যশোরে ব্যস্ত সঙ্গীত শিল্পী, চিত্রশিল্পী এবং বাদ্যযন্ত্রীদের অনেকে বাধ্য হয়ে অনেড়বর সংস্থানের লক্ষ্যে সম্পৃক্ত হচ্ছেন ভিনড়ব ভিনড়ব কাজে। উপমহাদেশের প্রখ্যাত দোতারা বাদক, সুরকার ও গীতিকার কানাইলাল শীলের দৌহিত্র বিকাশ শীল। যশোরসহ দেশ ও দেশের বাইরে দোতারা বাদক হিসেবে বিকাশ শীলের সুনাম রয়েছে। অর্থবিত্ত না থাকলেও বরাবরই শিল্পসংস্কৃতি চর্চায় ধনী বিকাশ ও তার পরিবার। অন্য কাজে পারদর্শী হয়ে দোতারাকে ধ্যানজ্ঞান করে এটাকেই নেশা-পেশা করেছেন তিনি। করোনা পরিস্থিতিতে গত ছয় মাস কোনো অনুষ্ঠান না থাকায় আয়ের পথ রুদ্ধ। কাগজের ঠোঙ্গা তৈরি করে বিμির মাধ্যমে কোনো রকমে আট সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ চালাচ্ছেন। অর্থের অভাবে এই গুনী দোতারা বাদকের অসুস্থ বোন ও মায়ের চিকিৎসা বন্ধ। সদ্য এসএসসি পাস করা মেয়ের লেখাপড়ার খরচ নিয়েও অকুলপাথারে পড়েছেন বিকাশ। অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে বিকাশ শীল বলেন, আর্থিক অবস্থায় টান পড়েছে সকল স্তরের মানুষেরই। কিন্তু তার অবস্থা অনেক বেশি বেগতিক। হাতে কাজ নেই, আয় বন্ধ। কিন্তু নিত্যদিনের খরচ তো বন্ধ নেই। অন্য কাজ করার মতো অবস্থাও নেই। পরিবারের সকলে মিলে কাগজের ঠোঙ্গা বানিয়ে তা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন। সরকারি অনুদান বা অন্য সহায়তা কিছু পেয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কতদিন অন্যের সহযোগিতায় চলা যায়! যশোরের পাশাপাশি অন্য জেলা উপজেলাতে বিভিনড়ব অনুষ্ঠানে মঞ্চ মাতানোর জন্যে ডাক পড়তো তার। অংশ নিয়েছেন টিভি চ্যানেলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও। শীতকাল এলেই বিভিনড়ব জায়গায় প্রোগ্রাম লেগেই
থাকতো। তবে, এবার কী হবে তা অনিশ্চিত। স্বল্প পরিসরে হলেও অনুষ্ঠান করার অনুমতি প্রদানের জন্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
চারুতীর্থ যশোরের সাধারণ সম্পাদক ও চিত্র শিল্পী সজল ব্যানার্জী। সংগঠনের শতাধিক আঁকিয়ে শিক্ষার্থী যার দুয়ারে অঙ্কন শিক্ষার জন্যে ভিড় জমাতো। সেই চারুশিল্পী এখন ঘুরছেন অন্যের দুয়ারে দুয়ারে। পৌঁছে দিচ্ছেন অর্ডার করা খাদ্য। পেটের দায়ে তুলির বদলে তাকে ধরতে হয়েছে ফুডপান্ডার ব্যাগ।
সজল বলেন, পরিবার নিয়ে অন্তত একবেলা খেয়ে বাঁচতে হলে কিছু একটা করতে হবে। অন্য কাজ না জানাতে দিনমজুরের মতো তিনি ফুডপান্ডায় কাজ করছেন। আর্ট স্কুল বন্ধ। নেই উপার্জন। অন্য উপায় না পেয়ে এ কাজ বেছে নেওয়া। আর্থিক টানাপড়েনে চারুতীর্থও বন্ধ হতে চলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিল্পপ্রেমীদের সামান্য ইতিবাচক চিন্তা তাকে ও তার সংগঠনকে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে পারে। তার ও সংগঠনের শিল্পীদের আঁকা শতাধিক চিত্র কর্ম রয়েছে। যেগুলো তিনি বিক্রি করতে চান। এ পরিস্থিতিতে স্বল্প পরিসরে চিত্র প্রদর্শনীর অনুমতি চান তিনি। তা সম্ভব না হলে ব্যক্তিগতভাবে চিত্রকর্মগুলো সাধ্যমতো অর্থের বিনিময়ে সংগ্রহের জন্যে শিল্পপ্রেমীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন সজল।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft