শিরোনাম: যশোরে পরকীয়ার জেরে যুবক খুন       এল ক্লাসিকোতে আজ মুখোমুখি বার্সা-রিয়াল       চেন্নাইকে হারিয়ে শীর্ষে ফিরলো মুম্বাই       দুই ম্যাচের জন্য ব্রাজিল দল ঘোষণা       তিন স্থান থেকে সাতজন আটক ফেনসিডিল ও মদ উদ্ধার       শেষ পর্যন্ত মারাই গেল শিশুটি!       সন্ধিতে জ্ঞানের প্রজ্ঞায় উদ্ভাসিত হবে ভক্ত হৃদয়       বৃষ্টিতে ট্রেনের নিচে ঠাঁই নিচ্ছেন যাত্রীরা (ভিডিও)       খয়েরতলা পাগলাদহ ও নওদাগ্রাম এলাকায় সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র       কৃষকলীগ নেতা অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেনকে সংবর্ধনা      
তোষামোদী মোসাহেবি যুগে যুগে
মিজানুর রহমান
Published : Wednesday, 30 September, 2020 at 12:29 AM
তোষামোদী মোসাহেবি যুগে যুগেফরাসী সম্রাট নেপোলিয়ন একবার তাঁর এক সহযোগীকে বলেছিলেন, আমাকে কেউ ফ্ল্যাটারি অর্থাৎ তোষামোদ করতে পারবেনা। তদুত্তরে সহযোগী বললেন, আমি আগামীকাল সকালে এসে এর জবাব দেব। পরদিন সকালে এসেই তিনি বললেন, স্যার, আমি কাল সারা রাত বসে বসে চিন্তা করেছি- সত্যিই আপনার মতো ব্যক্তিকে কেউ ফ্ল্যাটারি করতে পারবেনা। নেপোলিয়ন তখন হেসে বললেন, ‘আমাকে এখন তোষামোদ করা হলো’।
যুগে যুগে রাজারা অমাত্যবর্গ পরিবেষ্টিত হয়ে থাকতেন। এই অমাত্যবর্গের একটি প্রধান কাজ ছিল রাজার তোষামোদ করা। বস্তুত তোষামোদের মাধ্যমেই তারা তাদের পদ বা অবস্থান ধরে রাখতেন। সামন্তযুগে জমিদারদের ভিতরেও একই সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল। তারা প্রশংসা শুনতে ভালবাসতেন, চারপাশের কর্মচারীদের একটি প্রধান কাজ ছিল জমিদারের গুণকীর্তন করা, তিনি যে মহান, তা বারংবার বলা। রাজা বা জমিদারদের বেশীরভাগেরই তেমন কোন কাজ ছিল না, ভোগবিলাসী অলসভাবে জীবন কাটিয়ে গেছেন তারা। চাটুকার পরিবেষ্টিত হয়ে থাকতে তারা ভালবাসতেন। রাজা বা জমিদার আঙ্গুরফলকে মিষ্টি বললে মিষ্টি, টক বললে তারাও টকই বলতেন। জমিদার বা রাজাদের খামখেয়ালীপনার জন্যও কেবল প্রজাসাধারণের নয়, ঐ চাটুকারদেরও অনেক বিড়ম্বনা সইতে হয়েছে। তবে তোষামোদকারীদের প্রাপ্তির দিকটি অনেক বেশী বলেই তারা ঐসব বিড়ম্বনা, গঞ্জনা সয়ে গেছেন। সামন্তযুগে অমাত্যবর্গের মাঝে মোসাহেবের স্বীকৃত পদ ছিল, যদিও বাস্তবতা হল উজির থেকে শুরু করে সকল পারিষদকেই রাজার তোষামোদি করতে হত। না করে উপায় কী? পদ হারানো ও সুবিধাবঞ্চিত হওয়া ছাড়াও তখন গর্দান হারানোরও ভয় ছিল।
রাজাদের শাসনামল বহু আগেই আমরা পার হয়ে এসেছি। সামন্তযুগও অতীত। কিন্তু রয়ে গেছে তোষামোদের-মোসাহেবির সংস্কৃতি। এখন সর্বত্র রাজা বা জমিদারদের ভূতেরা আজো ভিন্ন নামাবলী গায়ে চাপিয়ে একইভাবে আসীন। তারা প্রশংসা চান, তোষামোদ চান, খাঁটি প্রশংসা আর ভেজাল তোষামোদের মাঝে যে দূরত্ব রয়েছে তা উপলব্ধি করার পরও তারা তোষামোদ চান। অতীতের তুলনায় ক্ষমতার রূপ পাল্টে গেলেও সম্পর্কের রসায়ন একই রয়ে গেছে। তোষামোদকারীরও অভাব নেই, কেননা তারা সকলেই জানে টিকে থাকতে হলে বা সুবিধা পেতে হলে এর কোন বিকল্প নেই। ক্ষমতাধর যিনি তিনি অতিসামান্য হলেও সে নিজেকে অতিমানব ভাবতে ভালবাসেন। চাটুকার ও স্তাবকবৃন্দের প্রশংসা তার মাঝে এই প্রতীতি জন্মায় যে, সে একজন অতিমানব, ক্ষমতা অধিক হলে তো কথাই নেই, নিজেকে ভাবে দেবতা। প্রশংসা আর স্তুতির জোয়ারে ভেসে সে তখন বাস্তবতা ভুলে যায়। তোষামোদ এমন একটি কুহক বলয় তৈরী করে যা বাস্তবতা থেকে তাকে দূরে সরিয়ে নেয়, তৈরী করে একটি ঘোর।
মানুষের স্বভাবের ভিতর আছে আধিপত্য বিস্তারের, অন্যকে দাস বানাবার মানসিকতা। ‘আমি সঠিক’ ‘আমি সকলের চেয়ে উৎকৃষ্ট’-এই কূপমন্ডুকতা। চাটুকার প্রভূর এই প্রয়োজনটি মেটায়। সকল প্রাণীর মাঝে কুকুর যে মানুষের গৃহাভ্যন্তরে এতখানি ঠাঁই পেয়েছে, তার বড় কারণ কুকুরের অতুলনীয় প্রভূভক্তি। ভারতে দীর্ঘ দু’শ বছরের ব্রিটিশ শাসনের সমালোচনা করতে গিয়ে কার্ল মার্কস লিখেছিলেন, ভারতীয়দের মাঝে দাস মনোবৃত্তি সৃষ্টি করাই ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সবচেয়ে বড় কুকীর্তি।
মানুষ মূলত আত্মপ্রেমী, সেটা অস্বাভাবিক নয়, অস্বাভাবিক হল ‘আমিই একমাত্র জ্ঞানী, বাকী সকলেই বোকা’, এই হীনমন্যতাসম্ভূত কূপমন্ডুকতা। স্তাবকেরা প্রভূদের এই মনোকাঠামো জানে, আর জানে বলেই তোষামোদির মাধ্যমে প্রথমে প্রভূর মন জয় করে, পরে সুবিধা আদায় করে নেয়।
আমাদের প্রশাসন, আমাদের রাজনীতির অঙ্গন ভরে আছে এইসব দুধের মাছিতে। একটি দল ক্ষমতাসীন হলেই মৌসুমী সমর্থকদের রীতিমত ঢল নামে, চাটুকারীতার জোয়ার বয়ে যায়। কে কত বড় সমর্থক, তার নির্লজ্জ মহড়া, বেহায়া প্রতিযোগিতা চলে। এরা জানে ক্ষমতাবানদের ভিতরকার সেই চিরন্তন দুর্বলতা তারা তোষামোদে গলে যান। বিডিনিউজ ডট কমে এক লেখায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা এ সকল সুসময়ের বন্ধুদের অনুরোধ করেছেন জাতির পিতা বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ার হিড়িক থেকে নিবৃত্ত থাকতে। কেননা তিনি উপলব্ধি করেছেন ঐ ভন্ডদের আসল মতলব। তারা আদিখ্যেতা দেখিয়ে সরকারী বা নিরীহ মানুষদের সম্পদ হাতিয়ে নেবে। এই মৌসুমী পাখিদের হারিয়ে যেতে বা পাখার রঙ বদলাতেও বেশী সময় লাগে না।
দূ:খজনক হলেও এটা সত্য যে রাজনীতির ময়দান এখন তোষামোদের স্বর্গ। বক্তৃতায় মূল বক্তব্য থাকে সিকি ভাগ, বাকী তিন-চতুর্থাংশ জুড়ে মঞ্চে উপবিষ্ট নেতা-নেত্রীদের গুণকীর্তন, মাহাত্ম্যবর্ণন। সভাস্থলে বিশেষনের একটি ঢল বয়ে যায়, শ্রোতারা বারংবার কেবল অতিবিশেষায়িত পরিচিতি শোনেন। সরকার বদল হলেই দল বদল করেন এমন একজন সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদের গল্প তো আমরা সবাই জানি। তাকে যখন জিজ্ঞেস করা হল সে কেন এত দলবদল করেন? তার নির্লিপ্ত উত্তর, আমি তো একটাই দল করি, সরকারী দল; এখন সরকার বদল হলে আমি কী করব? সুতরাং রাজনীতির ময়দানের চাটুকারদের কোন দল বা আদর্শ নেই, তারা ক্ষমতার ও সুবিধার ভাগ চায়। আমাদের রাজনীতিতে অনেক পালের গোদা আছেন যারা এ দল ও দল করে বর্তমান অবস্থানে এসেছেন। এসকল বক ধার্মিক আসলে জ্ঞানপাপী। তারা এদেশের মানুষদের ভাবেন গোল্ডফিশ, যার মেমোরী অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী, এ্যাকুরিয়ামের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে গেলে গোল্ডফিশ ভুলে যায় সে খাবার খেয়েছিল কিনা। না আমাদের জনগন গোল্ডফিশ নন, তারা সরলবিশ্বাসী, বারংবার বিশ্বাস করে তারা ঠকেছেন, কিন্তু কতদিন তারা ঠকবেন?
রাজাদের আমলের মোসাহেবীর একটি গল্প আছে। রাজার মোসাহেব মারা গেছে; রাজা নতুন মোসাহেব নিয়োগ দিবেন। রাজ্যময় ঢোল পিটিয়ে তা জানিয়ে দেয়া হল। ইন্টারভিউ নিবেন রাজা নিজেই। প্রচুর লোক আবেদন করল, কেননা চাকুরীটি লোভনীয়। রাজা প্রত্যেককে একটিই প্রশ্ন করেন; প্রশ্নটি হল, ‘কী মিয়া, কাজটি কি তুমি পারবে?’ কেউ বলে, ‘অবশ্যই পারব, মহারাজ’, কেউ বলে, ‘জীবনবাজী রেখে তা পারব’, ইত্যাদি। রাজা তাদের বেরোবার দরোজাটি দেখিয়ে দেন, অর্থাৎ অমনোনীত। যাকে শেষাবধি নেয়া হল তাকেও ঐ একই প্রশ্ন করা হলে সে সরাসরি কোন উত্তর না দিয়ে রাজাকেই সবিনয়ে হাত কচলাতে কচলাতে জিজ্ঞেস করল, ‘মহারাজের কী মনে হয়’? রাজা বল্লেন, ‘আমার মনে হয় তুমি পারবে না।’ তখন সে বলে, ‘তাহলে হুজুর, আমি পারবোনা’। পরক্ষণেই রাজা বল্লেন, ‘না, এখন মনে হচ্ছে পারবে’। তখন লোকটি বলে, ‘তাহলে মহারাজ, আমি পারবো’। রাজা তার উজিরকে ডেকে বল্লেন, ‘একে নিয়ে নাও, কেননা এর নিজস্ব কোন মতামত নেই।’ আমাদের হাল আমলের তোষামোদকারীদেরও নিজস্ব কোন মতামত নেই। থাকলেও তারা তা প্রকাশ করবেনা, কেননা তাদের লক্ষ্য তর্কে জেতা বা সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছানো নয়, বরং কর্তার মনোভঞ্জন। সে কাজ তারা নিষ্ঠার সাথেই করে যাচ্ছে, করবে ততদিন যতদিন এর সুফল থাকে। তাহলে এই দুষ্টচক্রটি ভাঙ্গতে পারে একমাত্র তারাই যারা তোষামোদকে এতকাল প্রশ্রয় দিয়েছেন। কেননা লক্ষ লক্ষ মানুষকে দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে কিছু সুবিধাভোগীকে আরাম-আয়েসের আকাশে তুলে দিতে এ দেশ স্বাধীন হয়নি। এইসব ভিজে বেড়ালদের চিনতে না পারলে হাঁড়ির একটা মাছও থাকবেনা। নেতাদের বুঝতে হবে দুধের মাছিরা সুসময়েই পাতে এসে পড়ে, দিনবদল হলে এদের আর দেখা পাওয়া যায়না।
গণতন্ত্রের অবয়ব নিয়ে মতভেদ আছে। কতটুকু হলে গণতন্ত্র বলব আর কী না থাকলে বলব গণতন্ত্র নেই, এ নিয়ে সমাজে আছে অনেক বাহাস। কখনো মনে হয়, নির্বাচনই হলো গণতন্ত্রের চরম পরীক্ষা। তবে যিনি বা যাঁরা নির্বাচিত হন, তিনি বা তাঁরাই যে সেরা, এটা কি সব সময় বলা যায়?
রাজনীতি যখন নেতিবাচক হয় বা নেপথ্যে চলে যায়, তখন বুদ্ধিজীবীরা পথ দেখান-এ রকম একটি আবেগময় কথা চালু আছে। আমাদের দূর্ভাগ্য, দ্রোহের বদলে এখন বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের মধ্যে পদ-পদবি-পদকের মোহ এত বেশি যে তাঁরা বৃহৎ মোসাহেবে পরিণত হয়েছেন। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া সবাই নিজেদের ভাসিয়েছেন গড্ডলিকাপ্রবাহে। সবাই ওপরে ওঠার মই খুঁজছেন।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ সংখ্যায় পীর হাবিবুর রহমানের চমৎকার একটি লেখা প্রকাশিত হয়। শিরোনাম ছিল ‘দাসত্বের নবসংস্করণ মোসাহেবি’। তিনি লিখেছেন, ‘গোটা রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার দিকে তাকালে আজকাল মনে হয় দাসপ্রথা সেই কবে বিলুপ্ত হলেও দাসত্বের মানসিকতা আমাদের বদল হয়নি। একালে দাসত্বের আধুনিক বা নবসংস্করণের নাম মোসাহেবি বা চাটুকারিতা। জনগণ তার প্রাপ্য মর্যাদা ও অধিকার না পেয়ে কেউ কেউ লাভ-লোভের মোহে এক অসুস্থ সংস্কৃতিতে ক্ষমতাবান প্রভুদের সামনে মোসাহেব চরিত্রে আবির্ভূত হচ্ছে দাসের মানসিকতায়।’
চারদিকে দেয়াল, ইলেকট্রিকের খাম্বা, সড়কদ্বীপ, পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে যে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও ভালোবাসার প্রকাশ, তা প্রকৃতপক্ষে তোষামোদ-মোসাহেবির বহিঃপ্রকাশ। যে অর্থ খরচা হয় এই প্রাণঢালা অভিনন্দন ও ভালোবাসা নিবেদনে, তার শত গুণ উশুল হওয়ার নিশ্চয়তা না থাকলে অত  টাকা কেন ঢালবে ঐ মোসাহেব? আসলে আমরা ভুলে যাই যে দুর্নীতি আর অপরাধের সঙ্গে মোসাহেবির অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। নির্দ্বিধায় বলা যায় মোসাহেবি হচ্ছে দুর্নীতি-অপরাধের পূর্বধাপ।
একটি রক্তস্নাত জনযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল বলে আমরা যত দাবিই করি না কেন, আমাদের রাষ্ট্র এখনো জনগণের রাষ্ট্র হয়ে ওঠেনি। এর কারণ হলো ঔপনিবেশিক আমলের আইনকানুন। যেখানে অনায়াসে অনুপ্রবেশ করেছে মতলববাজ মোসাহেব। বেশ আগে থেকেই রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব চলে গেছে একটি মোসাহেব মাফিয়া রাজনৈতিক বর্গের হাতে। অনুগ্রহজীবী এই মোসাহেব সম্প্রদায় ঘুন পোকার মতো নি:শেষ করছে মুল্যবোধ। রাজনীতি ও অর্থনীতির সাথে যুক্ত এই অশুভ প্রবল শক্তিধর মোসাহেব শক্তির আঁতাতের কাছে সমাজ, রাষ্ট্র ও সাধারণ মানুষ এখন জিম্মি। এই জিম্মিদশা কীভাবে কাটবে, সেটাই বড় প্রশ্ন!
লেখক ও সমাজ কর্মী
(০১৭১১-৮৭৭০৮৭ শুধুমাত্র এসএমএস)





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft