শিরোনাম: যশোর-চুকনগর সড়কে গাছের ডাল কেটে নিচ্ছে প্রভাবশালীরা       বৈরি আবহাওয়ায় চলছে শারদীয় দুর্গোৎসব       মোরেলগঞ্জে ৫ হাজার মৎস্য ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে        কতদিন ধরে চলতে পারে বৃষ্টি?       যশোরে ধারাল অস্ত্রসহ একজন আটক       উপকূল অতিক্রম করছে গভীর নিম্নচাপ        মানবিক কারণে খালেদা জিয়া জামিনে মুক্ত আছেন : কাদের       মেহেরপুরে কুপিয়ে সরকারি কর্মচারীকে হত্যা       অগ্নিদগ্ধ শিশুকে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন ওসি রাজীব       কালীগঞ্জের সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক মারা গেছেন       
‘রিফাতকে মারতে পারলে বুঝবো তোমারে তোমার বাপেই জন্ম দিছে’
কাগজ ডেস্ক :
Published : Wednesday, 30 September, 2020 at 7:05 PM
‘রিফাতকে মারতে পারলে বুঝবো তোমারে তোমার বাপেই জন্ম দিছে’আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ৬ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় ৪ জনকে খালাস প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন বিচারক।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান। এসময় মিন্নিসহ ৯ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। হত্যার ঘটনায় মিন্নিকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। ফাঁসির আদেশের পরই মিন্নিকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান বাবু বলেন, রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ ছয়জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই মিন্নিকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সবাইকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন, ১. রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি (২৩), ২. আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন (২১), ৩. মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), ৪. রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২২), ৫. মো. হাসান (১৯), ৬. আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি (১৯)। এছাড়া খালাসপ্রাপ্তরা হলেন, মো. মুসা (২২), রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০), মো. সাগর (১৯), ও কামরুল ইসলাম সাইমুন (২১)। পলাতক মুসা ব্যতীত বাকিরা রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলা নিয়ে নানা রকম তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তবে বেশিরভাগ তথ্য উঠে এসেছে মিন্নি, রিফাত ও নয়নের ফোন কল সূত্রে।
রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে মিন্নির সঙ্গে নয়ন বন্ডের কথোপকথনসহ মেসেজ আদান-প্রদানের তথ্য উদ্ধার করে পুলিশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরগুনা জেলা পুলিশের এক সদস্যের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, মিন্নি একটি সিম ব্যবহার করতেন যেটি নয়ন বন্ডের দেয়া। সিমটি নয়ন বন্ডের মায়ের নামে রেজিস্ট্রেশন করা।
পুলিশের দাবি, রিফাত শরীফের সঙ্গে বিয়ের পরও নয়নের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে ওই সিমটি ব্যবহার করতো মিন্নি।
হত্যাকাণ্ডের দিন সকাল ৯টা ৮ মিনিটে ওই নম্বর দিয়েই নয়ন বন্ডকে কল করে ৬ সেকেন্ড কথা বলেন মিন্নি। এসময় তাদের ৪০ সেকেন্ড কথা হয়।
হামলার পর বেলা ১১টা ৩১ মিনিটে নয়ন বন্ড মিন্নিকে একটি এসএমএস পাঠিয়েছিলেন। পরে রিফাত শরীফ মারা যাওয়ার পর বিকেল ৪টার কিছু সময় আগে নয়ন বন্ড মিন্নির কাছে আরেকটি এসএমএস পাঠিয়েছিলেন।
পাঠানো ওই এসএমএসটিতে লেখা ছিল, আমারে আমার বাপেই জন্ম দেছে।
মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নেয়া ওই পুলিশ সদস্যের বরাতে গণমাধ্যমে বলা হয়েছিলো, রিমান্ডে মিন্নির কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিন্নি বলেছেন, রিফাত শরীফকে মারার পরিকল্পনার সময় মিন্নি নয়ন বন্ডকে বলেছিলেন, তুমি যদি রিফাত শরীফকে মারতে পারো, তাহলে বুঝব তোমারে তোমার বাপেই জন্ম দিছে।
আলোচিত এ হত্যা মামলার রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মিন্নির বাবা মোজাম্মমল হক কিশোর বলেন, আমার মেয়ে অপরাধী না। আমি এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবো। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে আমার মেয়ে কিছুই জানে না, তারপরও রায় দেওয়া হয়েছে ফাঁসি। তাকে নির্দোষ প্রমাণে আমরা উচ্চ আদালতে যাবো।
২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের ভিড়ে রিফাত শরীফকে (২৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ঘটনার পরদিন ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নিহত রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ। ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক দু’ভাগে বিভক্ত করে ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। এতে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এরপর ৮ জানুয়ারি থেকে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন আদালত। এ মামলায় মোট ৭৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর এ মামলার দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামান রায়ের জন্য বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিন ধার্য করেন। বুধবার মামলার রায় শুনতে আদালতে রিফাতের পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও মামলার আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী ও আসামিদের স্বজনরা হাজির হয়। আদালত চত্বরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। -পূর্বপশ্চিমবিডি




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft