শিরোনাম: আজ মহাষষ্ঠীতে কল্পারম্ভ ও অধিবাস       হার্ডলাইনে কর্মকর্তারা, ব্যত্যয় ঘটলেই শাস্তি       পুনঃনির্বাচনের দাবিতে যশোরে বিএনপির বিক্ষোভ       যমেক হাসপাতালে এইচআইভি অ্যাডভোকেসি সভা       সংক্ষিপ্ত পরিসরে যশোরে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা       মাশরাফির দুই সন্তান করোনায় আক্রান্ত       শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি হলেন চুন্নু ও কৃষক লীগের সদস্য মোশাররফ       পরীক্ষা দেয়া লাগবে না কাউকেই       পূজা মণ্ডপে এমপি নাবিলের অর্থ প্রদান       আ’লীগ নেতা ফারাজী শাহাদত হোসেন ও এজেডএম ফিরোজের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত      
যশোরে কথিত মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে নিয়োগ
লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ইদ্রিস চক্র, খতিয়ে দেখার দাবি সভাপতির
শিমুল ভূইয়া
Published : Sunday, 18 October, 2020 at 12:04 AM
লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ইদ্রিস  চক্র, খতিয়ে দেখার দাবি সভাপতিরযশোর সদর উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব নেই। অথচ একটি পক্ষ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে টাকা হাতানো শুরু করেছে। তারা কেউই মুক্তিযোদ্ধা কিংবা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের না। সকলেই বিতর্কিত ও বিভিন্ন মামলার আসামি। কথিত এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতিকে না জানিয়ে চক্রটি মানুষের কাছ থেকে ইতিমধ্যে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।  
এ বিষয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডে অভিযোগ দিয়েছেন অনেকেই। এদিকে, মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের প্যাডে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত উল্লেখ করা হলেও আদৌ অনুমোদন আছে কিনা তার সদুত্তর কেউই দিতে পারেনি। এ পর্যন্ত কতজন আবেদন করেছেন, কত টাকার ব্যাংক ড্রাফট এসেছে তার উত্তরও নেই কারো কাছে।
সূত্র জানায়, যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের কথা বলে ২৩ পদের বিপরীতে মোট ৯১ জন নিয়োগ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় গত ৮ সেপ্টেম্বর। ওই বিজ্ঞপ্তিতে যেখানে সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আইনুল হক ও অধ্যক্ষ নুরমোহাম্মদের নাম রয়েছে। আগ্রহীদের ১০ অক্টোবরের মধ্যে বিভিন্ন পদে চারশ’ থেকে শুরু করে এক হাজার টাকা করে অফেরতযোগ্য ব্যাংক ড্রাফট দেওয়ার কথা বলা হয়। বিজ্ঞপ্তি দেখেই বেকার যুবক-যুবতীরা আবেদন করতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। বহু আবেদন জমা হয়। যদিও কতজন আবেদন করেছে সেটি কেউই বলেননি।
সূত্র জানায়, শুধু যশোর সদর উপজেলায় না, সারাদেশের প্রতিটি উপজেলায় এই নামে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে যশোরে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার কথা বলা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের নাম ভাঙিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান বগুড়ার আব্দুল মান্নান বিভিন্ন জেলায় নিয়োগ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে তিনি উচ্চপদে রাখছেন তবে কর্তৃত্ব থাকছে তার পছন্দের কয়েকজনের হাতে। ঠিক তেমনটিই হয়েছে যশোরের ক্ষেত্রেও। কথিত যশোর মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল কলেজের সভাপতি করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা আইনুল হককে। অথচ তার কোনো কর্তৃত্ব নেই। পরিচালক মান্নান খুলনা বিভাগীয় কোঅর্ডিনেটর বানিয়েছেন অমুক্তিযোদ্ধা রওশন আলম নামে একজনকে। তিনি নড়াইল তুলরামপুরের আশার আলো কলেজের প্রিন্সিপ্যাল। আর তার খালাতো ভাই বহুল বিতর্কিত ইদ্রিস আলমকে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সদস্য বানানো হয়েছে। মূলত ইদ্রিস আলমই নিয়োগের নামে অর্থবাণিজ্যে নেমেছেন। তিনি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম। তার কথার বাইরে কোনো কাজই হয়না। ইতিমধ্যে তিনি প্রিন্সিপ্যাল নিয়োগ দিয়ে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। একইসাথে উপাধ্যক্ষ সুজয় কুমার সুরের কাছ থেকে নিয়েছেন পাঁচ লাখ ও প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক নুরমোহাম্মদের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া ওই এলাকার তোফায়েল আহম্মেদ,রাবলু লস্কর ও আব্দুল হামিদকে সাথে নিয়ে তিনি নিয়োগ বাণিজ্যে লিপ্ত হয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সূত্র জানায়, ইদ্রিস আলম ছিলেন জেস টাওয়ারে অবস্থিত কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পিয়ন। তোফায়েল ফতেপুরের ঘোপ এলাকার চায়ের দোকানি। অথচ কয়েক মাসের ব্যবধানে তারা আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। চড়ছেন নতুন নতুন মোটরসাইকেলে। দিনরাত ওই এলাকায় লোকজন নিয়ে মহড়া দিয়ে বেড়াচ্ছেন। এলাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের তদারকি প্রয়োজন। তাহলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আইনুল হক বলেন, তিনি নিজে একজন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। এ কারণে তাকে সভাপতি করা হয়েছে। তার নাম ব্যবহার করে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে। এরপরই তার প্রয়োজন শেষ হয়ে গেছে বলে প্রচার করছেন ইদ্রিস। তিনি আরো বলেন,ইদ্রিস যা করছেন তাতে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
খুলনা বিভাগীয় কোঅর্ডিনেটর রওশন আলমও কতজন আবেদন করেছেন তার উত্তর দিতে পারেননি। তিনি নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়ে বলেন, কেউ যদি এমনটি করে তাহলে সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে,তিনি এসব কাজের সাথে জড়িত না। এছাড়া,মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন আছে কিনা তার উত্তর দিতে পারেননি তিনি। রওশন বলেন, অনুমোদন লাগবেনা। তারা কারিগরি শিক্ষাবোর্ড থেকে অনুমোদন এনেছেন।
এ বিষয়ে ইদ্রিস আলমের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। প্রতিষ্ঠানে গিয়েও পাওয়া যায়নি তাকে।
পরিচালক আব্দুল মান্নান সরকারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে যশোর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রাজেক আহম্মেদ বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ভাঙিয়ে একটি চক্র অর্থ হাতানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft