আজ শনিবার, ৬ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২১ অক্টোবর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম: সিদ্ধান্ত ছাড়াই মিয়ানমারে জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের সফর শেষ       রুশ সাম্রাজ্যে তিন নারীর ইসলাম গ্রহণের কাহিনী       প্রধান বিচারপতির আর কাজে ফেরার সুযোগ নেই : আবদুল মতিন খসরু       রাখাইনের হিন্দুদের বৌদ্ধধর্ম গ্রহণের প্ররোচনা কুখ্যাত বৌদ্ধ ভিক্ষু ভিরাথুর       ইসিতে বিএনপির প্রস্তাব জনস্বার্থবিরোধী : ওবায়দুল কাদের       এসকে সিনহার দুর্দশার জন্য বিএনপিই দায়ী : তোফায়েল       আইরিশদের বিপক্ষে লিড নিয়েছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল       ওয়ানডের শীর্ষে প্রোটিয়ারা       দ্বিতীয় বিভাগ হ্যান্ডবল লিগের চারটি খেলা সম্পন্ন       ঝিকরগাছা উপজেলা প্রশাসন কাপ ফুটবলে সেমির টিকিট নিশ্চিত করলো নাভারণ ইউনিয়ন      
বিএডিসির কেউ জড়িত কিনা দেখার দাবি
যশোরে সার কেলেংকারী ঘটনায় আটক এড়াতে অভিযুক্ত দু’জাহিদের দৌঁড়ঝাঁপ
দেওয়ান মোর্শেদ আলম :
Published : Tuesday, 20 June, 2017 at 12:28 AM
যশোরে সার কেলেংকারী ঘটনায় আটক এড়াতে অভিযুক্ত দু’জাহিদের দৌঁড়ঝাঁপনির্ধারিত মূল্যের চেয়ে উচ্চমূল্যে কালোবাজারে বিক্রির চেষ্টায় পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সরকারি এমওপি সার উদ্ধার ঘটনায় হৈচৈ পড়ে গেছে। ২০১৫ সালে কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) যশোর গুদামের ৭৬ লাখ টাকার ৩২০ মেট্রিক টন সার আত্মসাৎ ঘটনায় যেমন সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়, তেমনি আবার ১৪ জুন পাচারের সময় হাতেনাতে তিন জন আটক হলে পরিকল্পনাসহ নানা রহস্য উন্মোচিত হয়ে পড়ে। এবার এই কেলেংকারীতে জড়িয়েছে নওয়াপাড়ার মেসার্স জুয়েল এন্টারপ্রাইজের মালিক জাহিদ হোসেন ও দিনাজপুরের ফুলবাড়ি এলাকার জাহিদুল ইসলাম পিন্টু। আটক এড়াতে তারা দৌঁড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।
গত ১৪ জুন সকালে যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের চুড়ামনকাটির চৌগাছা মোড়ে একটি ট্রাক ভর্তি ৭শ’৪০ বস্তা সরকারি এমওপি সার উদ্ধার হয়। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের ট্রাক (যশোর ট-১১-৪০২৯) বোঝাই এমওপি সার নওয়াপাড়া থেকে চোরাচালান হয়ে দিনাজপুরের জাহিদুল ইসলাম পিন্টুর কাছে যাচ্ছিল এ তথ্যে অভিযান চালায় যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা। সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে উচ্চমূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে এই সার নেয়া হচ্ছিল দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে। এ সময় ট্রাকের ড্র্রাইভার ঝিকরগাছার বোধখানা গ্রামের মৃত তাহাজ্জত আলীর ছেলে ইমামুল হোসেন, যশোর সদর উপজেলার সীতারামপুরের আমীর হোসেনের ছেলে সগির হোসেন, বকচরের আব্দুস সাত্তারের ছেলে আবদার আলীর বাসার ভাড়াটিয়া আবুল কালামকে (৩৬) আটক করা হয়। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা পুলিশকে জানায়, ট্রাকের মধ্যে ৭শ৪০ বস্তা সার আছে, যার ওজন ৩৭ টন। যা প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি। ওই সারের মালিক স্টেশন বাজার নওয়াপাড়ার পলাতক আসামি মেসার্স জাহিদ ট্রান্সপোর্ট এজেন্সীর। বর্ণিত মিউরেট অব পটাশ সার ফরিদপুর জেলার টেপাখোলা যাওয়ার কথা থাকলেও অন্যায় ও অবৈধভাবে উচ্চমূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়িতে যাচ্ছিল। ওই ঠিকানার চালানের কাগজ ছিল। সার কেলেংকারির সাথে জড়িত চক্রটি চোরাচালান ও কালোবাজারী করে দেশে কৃত্রিম সার সংকট সৃষ্টি করে উন্নয়নের কাজ ব্যাহত ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা করে।
এ ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা সংস্থার úক্ষে ডিবির এসআই মাসুদ রানা এজাহার দাখিল করেন, যার নম্বর ৭৪। ১৯৭৪ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫/২৫ বি ধারায় মামলা রেকর্ড হয়। মামলায় ধৃত তিন জন ছাড়াও সার কেলেংকারির হোতা অভয়নগরের নওয়াপাড়ার মেসার্স জুয়েল এন্টারপ্রাইজের মালিক জাহিদ হোসেন ও  দিনাজপুরের  জাহিদুল ইসলাম পিন্টুকে আসামি করা হয়। মূলত এই দুই জাহিদই সার কেলেংকারীর হোতা। তবে এই চক্রে বিএডিসির কোন কর্মকর্তা জড়িত কিনা এটাও ক্ষতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। যে সার যাওয়ার কথা ফরিদপুরের টেপাখোলায়, সে সারের চালান হচ্ছে দিনাজপুরের ঠিকানায়! বিষয়টির শেকড় বেশ গভীরে বলেও মন্তব্য অনেকের।
এদিকে জেলা গোয়েন্দা শাখার মামলায় আটক এড়াতে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন নওয়াপাড়ার জাহিদ হোসেন ও দিনাজপুরের জাহিদুল ইসলাম পিন্টু। লোক মাধ্যমে পুলিশকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ। তবে তথ্য মিলেছে, পুলিশ তাদের আটক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। আটক এড়াতে তারা আত্মগোপনে গেছে এমন তথ্যও মিলেছে।  আমন মৌসুম শুরুতেই বিএডিসির সার কালোবাজারে চলে যাওয়ার ঘটনায় হৈচে পড়ে গেছে। এর আগেও কোন চালান কালো বাজরে গেল কিনা তাও ক্ষতিয়ে দেখার দাবি কৃষকদের।
এদিকে তথ্য এসেছে ২০১৫ সালের সার কেলেংকারীতে নওয়াপাড়ার মাহিন ট্রেডিংয়ের মালিক আব্দুল মতিন ও টিএস ট্রেডিংয়ের রাশেদ মাহমুদ প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে দুদকের চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়। আর ওই চার্জশিটে বিএডিসি সার গুদামের কয়েক কর্মকর্তাকেও দোষী করা হয়। আর এবারের এই সার কেলেংকারীতে জুয়েল এন্টারপ্রাইজের মালিক জাহিদ হোসেন ও দিনাজপুরের জাহিদুল ইসলাম পিন্টু ছাড়াও বিএডিসির কর্মকর্তারা জড়িত থাকতে পারেন। এই দুই জাহিদকে আটক করা হলে বেরিয়ে আসতে পারে চাঞ্চল্যকর আরও তথ্য। 




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft