আজ শনিবার, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৫ নভেম্বর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম: বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার কর্মী হওয়া অহংকারের : এনামুল হক শামীম       শিবচরে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুই বন্ধু মারা গেছে : আহত-১        পলাশবাড়ীতে প্রতিবন্ধীকতাকে জয় করে জীবন যুদ্ধে এগিয়ে যাচ্ছে সাহেব আলী       দিনাজপুরে এম আব্দুর রহিম গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন       রামুতে জস্নে জুলুস্ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত        লোকসানের মুখে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে নরসিংদীর সিনেমা হলগুলো       সংবিধান জনগণের ঊর্ধ্বে নয় : মওদুদ       ৭ মার্চ ভাষণের স্বীকৃতিতে শনিবার দেশব্যাপী শোভাযাত্রা       সর্বদলীয় সরকার পর্যন্ত ছাড় দেবে আ.লীগ, তার বেশি নয়       রোহিঙ্গাদের ওপর যৌন সহিংসতা যুদ্ধাপরাধের শামিল : জাতিসংঘ      
খালেদার বিদেশী সম্পদের তদন্ত চলছে : প্রধানমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক :
Published : Wednesday, 13 September, 2017 at 7:23 PM
খালেদার বিদেশী সম্পদের তদন্ত চলছে : প্রধানমন্ত্রীবিএনপি চেয়ার পারসন খালেদা জিয়া ও তার পরিবারসহ দলটির নেতাদের ১২টি দেশে ১২০০ কোটি টাকা পাচারের তদন্ত চলছে। তদন্তের মাধ্যমে সঠিক তথ্য পাওয়া গেলে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী একথা জানান। জিয়া পরিবারসহ বিএনপি নেতাদের ১২টি দেশে অর্থপাচারের তথ্য তুলে ধরে ফখরুল ইমাম বলেন, স¤প্রতি গ্লোবাল ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক প্রতিবেদন (জিআইএন) অনুযায়ী বিএনপির খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে তার পরিবার যে টাকা পাচার করেছে; তার একটা রিপোর্ট রয়েছে। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী শুধু দুবাই না, অন্তত ১২টি দেশে জিয়া পরিবারসহ বিএনপি নেতাদের সম্পদ আছে। যার প্রাক্কলিত মূল্য ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। কার কোথায় কী আছে তুলে ধরে ফখরুল ইমাম বলেন, সৌদি আরবে আহমেদ আল আসাদের নামে আল-আরাবার শপিং মলটির মালিকানা বেগম জিয়ার। কাতারে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন ‘ইকরা’র মালিকও বেগম জিয়া। জিয়াপুত্র আরাফাত রহমানের নামে এই সম্পদের পুরো মালিকানা। তাছাড়া তুহিন নামে তার (খালেদা জিয়ার) ভাতিজার তিনটি বাড়ি আছে কানাডাতে। এ ছাড়া সিঙ্গাপুরে ‘হোটেল মেরিন ডে’ মালিকানার ১৩ হাজার সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশারফের। ব্যারিস্টার আমিনুল হকের নামে লন্ডনে স্ট্যামফোর্ডে দুটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। ব্যারিস্টার মওদুদের নামেও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। মির্জা আব্বাসের স্ত্রীর নামে দুবাইতে রয়েছে বিলাসবহুল ভবন। সিঙ্গাপুরে মির্জা আব্বাস তার সন্তানের নামে কিনেছেন দুটি অ্যাপার্টমেন্ট। বিএনপি নেতা নজরুর ইসলামের সিঙ্গাপুরে বিশাল বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তদন্ত চলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে মানি লন্ডারিং এর জন্য তদন্তের একটা ব্যবস্থা আছে। তদন্ত করা হচ্ছে, তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাতো সবাই জানেন তারা (বিএনপি) ক্ষমতায় এসে হত্যা সন্ত্রাসের পাশাপাশি দুর্নীতি লুটপাট করে বিদেশে অর্থপাচার করা মানি লন্ডারিং করা এই অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে। তিনি বলেন, এরইমধ্যে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলের পাচার করা টাকা ফেরত এনেছি। আমরাই প্রথম বিদেশে পাচার হওয়া টাকা দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। সংসদের বিরোধী দল থেকে প্রশ্নটি আসায় ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি দলের কেউ প্রশ্নটি আনলে অনেকে আছেন, যারা মায়াকান্না করতো- সরকার হিংসা করে এগুলো বলছে। যাইহোক তদন্ত চলছে, তাতে সঠিক তথ্য পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। জঙ্গি অর্থায়নে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আরও বেশকিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জঙ্গি অর্থায়নের সাথে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রশ্নোত্তর পর্বে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ফরিদুল হক খানের প্রশ্নের জবাবে একথা জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গি কর্মকা- একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম নয়। তবে এ দেশের মানুষ ধর্মভীরু হলেও ধর্মান্ধ নয় বিধায় এ দেশের মানুষ জঙ্গি কর্মকা-কে সমর্থন করে না। ইতোমধ্যে জঙ্গি দমনে আমাদের সফলতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হচ্ছে। জঙ্গি দমনে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, জঙ্গিরা যেমন নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে তাদের কর্মকা--পরিচালনা করার চেষ্টা চালাচ্ছে, তেমনি তাদের অর্থের যোগানদাতারাও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। জঙ্গিদের অর্থায়নের সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে গোয়েন্দা সংস্থা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন সহযোগী সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। ২০১০ সাল থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত সন্ত্রাস বিরোধী আইনের ৭, ৮, ৯ এবং ১৩ ধারায় জঙ্গি অর্থায়ন সংক্রান্ত ৯০টি মামলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশ থেকে আসা রেমিটেন্স এবং দেশীয় অর্থ কোনো জঙ্গি তৎপরতায় ব্যবহৃত হচ্ছে কি না এ বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে। এ ছাড়া কোনো বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল ক্লিনিক, কোচিং সেন্টার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এনজিও, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে জঙ্গি তৎপরতা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, সীমান্তে অবৈধ অর্থের লেনদেন, আদান-প্রদান, চলাচল ও অস্বাভাবিক অর্থ আদান-প্রদান হচ্ছে কি না সে বিষয়ে নজরদারি অব্যাহত আছে। শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গি অর্থায়ন সংক্রান্ত দায়েরকৃত মামলাসমূহ সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জঙ্গি অর্থায়নের সাথে আরও বেশকিছু ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে সন্দেহ করা হচ্ছে। যাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। দেশে জঙ্গি অর্থেও উৎস অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও জোরদারকরণ এবং এ কার্যক্রম অধিকতর সমন্বয়ের লক্ষ্যে গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সমূহ নিয়মিমতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগ পাওয়া মাত্র তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft