আজ বৃহস্পতিবার, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৩ নভেম্বর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম: ‘নোলক’এ ওমর সানি-মৌসুমী       'স্বামী-সন্তান আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকতে চাই'       কবে মুক্তি মিলবে জনগনের ?       নিবিড় পর্যবেক্ষণে মহিউদ্দিন চৌধুরী       কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে : প্রধানমন্ত্রী       নিশ্চিত নাজমুল হুদা, অপেক্ষায় কাদের সিদ্দিকী        ২০ শিক্ষার্থীকে পিটিয়েছে ছাত্রলীগ নেতা!       মোদির গলা ও হাত কাটতে প্রস্তুত বিহারের অনেকেই!       ঘোড়ামারা আজিজসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড       এসএসসি পরীক্ষা শুরু ১ ফেব্রুয়ারি      
অর্থাভাবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী কোটচাঁদপুরের এতিম মামুনের লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম
আলমগীর কবির, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) থেকে :
Published : Thursday, 14 September, 2017 at 12:53 AM
মাত্র ৮ মাসের ব্যবধানে পিতা মাতার মৃত্যুতে গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী এক ছাত্রের লেখাপড়া বন্ধ হতে বসেছে। হুসাইন আল-মামুন নামে এই ছাত্রের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার পৌর এলাকার বেনেপাড়ায়। তার বাবা শের আলী, ছিলেন মাংস বিক্রেতা। স্ত্রী, দু’পুত্র ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে তাদের সংসার চলতো কোনমতে। ২০১৬ সালের ১৫ নভেম্বর আকষ্মিক ব্রেইন স্ট্রোকে মা জাহানারা বেগম মৃত্যুবরণ করেন। মায়ের মৃত্যুর মাত্র ৮ মাসের মাথায় গত ২২ আগস্ট বাবা শের আলী সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। পিতার মৃত্যুর পর হুসাইন আল-মামুন ও ছোট ভাই ইমন বৃদ্ধা দাদী ফতে বিবিকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন। পিতার রেখে যাওয়া জীর্ণ ডেরা (ঘর) ছাড়া কিছুই নেই। পিতার মৃত্যুর পর থেকে প্রতিবেশীদের দেয়া সাহায্যের চাল ডাল দিয়ে আপাতত চলতে হচ্ছে তাদের। ছোট ভাই ইমন কোটচাঁদপুর পাইলট বালক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্র। মামুন এখন তার এতিম ছোট ভাই ও বৃদ্ধা দাদীর পেটের খাবার জোগাড় করবে না নিজেরা লেখাপড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হওয়ার চেষ্টা করবে-এমন কিংকর্তব্যবিমূঢ় পরিস্থিতির মুখোমুখি। তিনি ২০১৩ সালে কোটচাঁদপুর পাইলট বালক বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি ও ২০১৫ সালে কোটচাঁদপুর সরকারি কেএমএইচ ডিগ্রি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এইচএসসি পাশ করেন। উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পর ২০১৬ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শণ বিভাগে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া শুরু করেন। কিন্তু বাড়ি থেকে পড়ার খরচ চালাতে না পারার কারণে নিকটবর্তী গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। তার বাবা বেঁচে থাকা কালেই আর্থিক দৈনতার কারণে দ্বিতীয় সেমিসটারের ভর্তি ও পরীক্ষার ফিও দিতে পারেননি। এক পর্যায়ে তার সহপাঠীদের অনুরোধে নাজির আলম নামে এক বড় ভাই তাকে ভর্তি ও ফি বাবদ টাকা ধার দেন। তারপরও ৫’শ টাকা কম পড়ায় বন্ধুরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের শরণাপন্ন হন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ মামুন ও সহপাঠীদের আবদার গ্রহণ না করার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মহিলা শিক্ষক নিজ থেকেই ৫’শ টাকা তাকে সহায়তা দেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত বড় ভাইয়ের কাছ থেকে নেয়া ধারের টাকা শোধ করতে পারেননি। অন্যদিকে মেসেও বাকি পড়েছে সাড়ে ৬ হাজার টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান শহর থেকে বেশ দূরে। যে কারণে মামুন অনেক চেষ্টা করেও একটি টিউশনও যোগাড় করতে পারেননি। মামুনের সাথে কথা বলে জানা যায়, লেখাপড়া শুরু থেকেই মেসে কোন দিনই তিনি তিন বেলা খাবার খাননি। কারণ হিসাবে জানিয়েছেন, পিতা ও পরিবারের উপর থেকে চাপ কমানোর জন্যই তিনি এমনটি করেন। কোন কোন দিন এক বেলা খেয়েই দিন পার করেন। এ অবস্থা দেখে মেসের সহপাঠীরা তাদের খাবার থেকে মুষ্টি ভাত তুলে তাকে খেতে দেয়। এ হচ্ছে তার পিতা শের আলী বেঁচে থাকা কালিন চিত্র। এখন বাবা নেই। দাদী ছোট ভাইকে নিয়ে দু’মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকার পথ খুঁজবে নাকি লেখাপড়া শিখবে তা নিয়েও সংশয়, সংকটের অন্ত নেই। কূলকিনারাহীন এতিম দুই ভাইয়ের লেখাপড়া করার প্রবল আগ্রহ রয়েছে তাদের। কিন্তু কে ধরবে তাদের এ দুর্দশার হাল। স্থানীয়ভাবে জনপ্রতিনিধি সহ সমাজ পতিদের দারে দারে ধর্ণা দিলেও আসেনি তেমন কোন ফল। যে কারণে মামুন মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, দানশীল বিত্তবান ব্যক্তি ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা সহযোগীতার হাত বাড়ালে এতিম দুই ভায়ের লেখাপড়া শেখার সুযোগ সৃষ্টি হবে। সাথে সাথে যদি কোন সহানুভূতিশীল মানুষ তাদের লেখাপড়ার জন্য সহায়তা দিতে চাইলে মামুনের ব্যক্তিগত বিকাশ ০১৭৭৬-২৫১৮৭৮ নম্বরে সহায়তা পাঠাতে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft