


আসাদ বেহেস্তী
দু’সাংবাদিক হত্যা হলো
মিলছেনা এর জবাবটা,
হত্যা করেই যায়না বদল
সাংবাদিকের স্বভাবটা।
সাংবাদিকের কাজটা কঠিন
বিপদ ঘটে চতুর্দিক,
আনেই তুলে আসল খবর
কোনটা গরল কোনটা ঠিক !

কাগজ ডেস্ক : বিএনপির গণমিছিল কর্মসূচিতে বাধার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন জেলায় রোববার বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশের গুলিতে চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরে চারজন নিহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন- চাঁদপুরের লিমন (২৫) ও আবুল হোসেন গাজী (৫৫) এবং লক্ষ্মীপুরের মোঃ রুবেল (২২) ও আবুল কাশেম (৫০)।
এদের মধ্যে লিমনের বাসা চাঁদপুর শহরের গোয়াখোলা এলাকায়। আর আবুল হোসেন গাজীর বাবুরহাট এলাকায়। তিনি পেশায় রিকশাচালক।
আর আবুল কাশেম লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি। জেলা বিএনপির দাবি, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পশ্চিম লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা রুবেলও যুবদল কর্মী।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে গত ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামে এক জনসভা থেকে ২৯ জানুয়ারি সারাদেশে গণমিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।
কিন্তু আওয়ামী লীগ একই দিনে রাজধানীতে জনসভা করার ঘোষণা দিলে রোববার সব ধরনের সভা সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনাতেও। এছাড়া বগুড়া, হবিগঞ্জ, সিরাগঞ্জ ও পাবনাতে জারি করা হয় ১৪৪ ধারা।
এই পরিস্থিতিতে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ মহানগরগুলোর গণমিছিল কর্মসূচি একদিন পিছিয়ে দেয় বিএনপি। তবে জেলায় জেলায় রোববারের কর্মসূচি বহাল থাকে। সকালে সংবাদ সম্মেলন করে বগুড়াও তাদের গণমিছিল একদিন পিছিয়ে দেয়।
ঘোষণা অনুযায়ী সকালে বিএনপি নেতাকর্মীরা মিছিল বের করলে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বাঁধে। এসব ঘটনায় আহত হয় তিন শতাধিক।
সংঘর্ষ ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় পুলিশ লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নাটোর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, টাঙ্গাইল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দেশ শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গুলির ঘটনা তদন্তে চট্টগ্রাম রেঞ্জের পুলিশের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক বিশ্বাস আফজাল হোসেন ও চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর আলম মিনাকে প্রধান করে দুটি কমিটি করা হয়েছে।
ওই ঘটনায় পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না তাও তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহা পরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার।
গণমিছিলে পুলিশের বাধা ও সংঘর্ষের জন্য সরকারকে দায়ী করে প্রধান বিরোধী দল বলেছে, নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্যই সরকার পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটিয়েছে। বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সোমবার দুপুরে ঢাকায় গণমিছিল করবে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো।
চাঁদপুর
পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জেলা বিএনপি সকাল সোয়া ১১টার দিকে জেলা কার্যালয় থেকে মিছিল বের করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এর পরপরই দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
এক পর্যায়ে শহরের কালীবাড়ি, লেকেরপাড়, নতুনবাজার, চিত্রলেখা মোড়সহ শহরের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকটি গাড়িও ভাংচুর করা হয়। শহরের লেকের পাড় এলাকায় পুলিশ গুলি চালালে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়।
চাঁদপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মাহমুদুন্নবি মাসুম জানান, দুপুর ১২টার দিকে তিনজনেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে লিমন ও আবুল হোসেন গাজী নামে দুজন মারা যান।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমীর জাফর সাংবাদিকদের বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মেজিস্ট্রেট শামীমুল হক পাভেলের নির্দেশেই পুলিশ গুলি চালিয়েছে।
মডেল থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। পুরো শহরে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
এদিকে মিছিলে বাধা ও দুই জন নিহত হওয়ার ঘটনায় চাঁদপুরে সোমবার আধাবেলা হরতাল ডেকেছে জেলা বিএনপি।
লক্ষ্মীপুর
সকাল ১১টার দিকে শহরের দক্ষিণ তেমোহিনীর রামগতি বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বিএনপি-জামায়াত মিছিল বের করে। মিছিল শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ তাতে বাধা দেয়। বাধা উপক্ষো করে মিছিলটি শহরের আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও হাসপাতাল রোডের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে শুরু হয় সংঘর্ষ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিল থেকে নেতা-কর্মীরা আদর্শ সামাদ সরকারি বিদ্যালয় ও আশপাশে ব্যাপক ভাংচুর করে। এসময় পুলিশের উপরও হামলা হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে। লক্ষ্মীপুর-রামগতি গোটা সড়ক তখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে পুলিশের গুলিতে তিনজন আহত হয়। এছাড়া সংঘর্ষে পুলিশ-সাংবাদিকসহ আহত হয় আরো প্রায় ২০ জন। এদের অনেককে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক নিজাম উদ্দিন জানান, গুলিবিদ্ধ তিনজনকে ভর্তি করার পর রুবেল নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়।
সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল কাশেমও মারা যান বলে সাংবাদিকদের জানান সদর থানার ওসি মোঃ সরওয়ার।
তিনি জানান, রবিউল আহসান (১৭) নামে গুলিবিদ্ধ আরেকজনকে নোয়াখালী জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জমসেদ সাংবাদিকদের বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৬৮ রাউন্ড শট গানের গুলি ও ২০ টি টিয়ার শেল ছুঁড়তে বাধ্য হয়েছে।
তিনি জানান, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী কর্মীদের হামলায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল বাসার, আব্দুর রহিম, মো. ইয়াকুবসহ ১২ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
