http://www.finamate.com/

আর্কাইভ
শিক্ষকের হিংস্রতা

আসাদ বেহেস্তী
দু’সাংবাদিক হত্যা হলো
মিলছেনা এর জবাবটা,
হত্যা করেই যায়না বদল
সাংবাদিকের স্বভাবটা।
সাংবাদিকের কাজটা কঠিন
বিপদ ঘটে চতুর্দিক,
আনেই তুলে আসল খবর
কোনটা গরল কোনটা ঠিক !

সরকার দেশকে ভারতনির্ভর করে রেখেছে: ফারুক
    A+ A A-

কাগজ ডেস্ক : বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, “শুধু পানি নয়,সব বিষয়ে বাংলাদেশকে ভারতনির্ভর করে রাখা হয়েছে।” সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নতজানু পররাষ্ট্রনীতি দিয়ে দেশের মানুষকে ধোঁকা দেবেন না।”
রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ফ্রি থিংকার্স ফোরামের আয়োজনে ‘ভারতের পানি কূটনীতি:সংকটে প্রতিবেশী দেশ’ শীর্ষক আলোচনাসভায় তিনি কথা বলেন।
সংসদের বিরোধীদলের উপস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন,“যে সংসদের স্পিকার ডান ও বাম চোখ সমান না রেখে একদিকে কথা বলেন সে সংসদে গিয়ে কি আমরা কথা বলতে পারি?”
তিনি বলেন, “আমরা এখনো সংসদে যেতে প্রস্তুত। যদি সংসদে আলোচনার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃবহাল করা হয়।”
আলোচনাসভায় ভারতের বাংলাদেশবিরোধী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আর কোনো সভা-সেমিনারের মাধ্যমে প্রতিবাদ নয়, প্রতিরোধ গড়ার আহবান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন,খালেদা জিয়া’র সরকারের আমলে তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন,এখনও শেখ হাসিনা সরকারকে মনমোহন একই কথা বলছেন ‘তোমাদের ক্ষতি হয় এমন কিছু করবো না।’ ফারাক্কা বাঁধের কারণে প্রতি বছরে চার বিলিয়ন ডলার পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে তারা বলেন,ভারতকে সেটির ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সচিব পানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ড.আসাফ উদ দৌলাহ। অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক ছিলেন আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।
আরো অংশ নেন বিএনপি নেতা আবু নাসের মো.রহমত উল্লাহ,মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল ও কবি কামার ফরিদ।
অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিয়া বলেন, “খালেদার আমলে তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন,এখনও শেখ হাসিনাকে মনমোহন একই কথা বলছেন ‘তোমাদের ক্ষতি হয় এমন কিছু করবো না।’” এতে দেশের দুর্দশা আরো বাড়বে বলেও জানান তিনি। এজন্য দেশ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান তিনি।
ড. আসাফ উদ দৌলাহ বলেন,“আজকের দিনে ডেমোক্রেসি মানে কার গায়ে কতো শক্তি আছে সেটা। যেখানে আমরা দেশের অস্তিত্ব নিয়ে চিৎকার করছি, সেখানে সরকার চুপ।”
দেশদ্রোহীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “যারা সামান্য লোভে দেশের স্বার্থ বিক্রি করতে পারে তারা মাকেও বিক্রি করতে ”
ভারতের বিরুদ্ধে আমার প্রস্তাব,ফারাক্কা বাঁধের কারণে প্রতি বছরে চার বিলিয়ন ডলার পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে বাংলাদেশের। সেটির ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ভারতকে।
৫৭টি নদীই একদিন বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা ধুলোয় গড়াগড়ি করবো একদিন। এর চেয়ে দুঃখের বিষয় আর কিছু হতে পারে না। আমরা পলাশীর যুদ্ধ দ্বিতীয়বার দেখতে চাই না। একবার পদ্মার পাড়ে যান। ইন্টারন্যাশনাল কোর্টে আমরা গিয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করবো। হয় সরকারকে এসবে উদ্বুদ্ধ করতে হবে নয়তো এমন সরকার আনতে হবে যারা এসবে আন্দোলন করবে।”
মাহমুদুর রহমান বলেন,“প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি ত্রিপুরা ঘুরে এসেছেন ডক্টরেট নেয়ার জন্য। সেখানে বলেছেন,ভারতকে অনেক কিছু দেয়াতে আমি বিপদের মধ্যে আছি। জনগণ বিরক্তের মধ্যে আছে। তিনি বলেছেন, ভারতকে ঋণগ্রাহী বলতে পারি না। ভারতের কাছে তার ব্যক্তিগত ঋণ। বাংলাদেশের প্রকৃত অবস্থা এখন ভারতের একটা রাজ্য থেকেও দুর্বল। বাংলাদেশ ভারতের কাছে একটি শোষণ করার রাষ্ট্র ছাড়া আর কিছুই নয়।”
“আমরা যে পানি আগ্রাসনের কথা বলছি, সেটি বর্তমান সরকারের সহযোগিতায় ভারত থেকে চালানো আগ্রাসন। এটি একটি রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড। তিতাস নদীকে ধ্বংসের মতো রাষ্ট্রদ্রোহী আর কিছু হতে পারে না। আমরা ক্ষমতায় এলে এর বিচার হবে।”
তিনি বলেন, “ফেনী নদী থেকে ভারত ইতিমধ্যে পানি প্রত্যাহার শুরু করে দিয়েছে।
আমার ব্যক্তিগত ধারণা বাংলাদেশের ৩০ ভাগ মানুষ ভারতের দালাল। তারা ভারতের যেকোনো অপকর্মে সহযোগিতা করবে।”
তিনি আরো বলেন, “যারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি তাদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। ৩০ ভাগ যারা, তারা যদি কমও হয় তারা যদি আমাদের মধ্যে ঐক্যের অভাবের সুযোগ পেয়ে আঘাত করবে। আমাদের মিডিয়ার মাধ্যমে জানাতে হবে। বেশিরভাগ মিডিয়া ও সেগুলোর সম্পাদক ভারতের পক্ষে।”
বিদেশী একটি সংগঠনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের গত তিন বছরে গণমাধ্যমের উপর হস্তক্ষেপের কারণে দেশ ভাগ পিছিয়ে গেছে। ভারতের সঙ্গে ছয়টি রাষ্ট্রের সীমান্ত থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র বাংলাদেশ সীমান্তে তারা গত আট বছরে এক হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। পাকিস্তান ও চীনের একটি মানুষকেও হত্যা করেনি।”
“যখন বাঙালিদের ওপর নির‌্যাতন হচ্ছে তখন প্রধানমন্ত্রী ত্রিপুরায় গিয়ে সেখানে গান শুনাচ্ছেন। ভারতের দালালদের সচেতন করার মাধ্যমে দেশের প্রতি ফেরাতে হবে।” বলে উল্লেখ করে তিনি।