http://www.finamate.com/

আর্কাইভ
শিক্ষকের হিংস্রতা

আসাদ বেহেস্তী
দু’সাংবাদিক হত্যা হলো
মিলছেনা এর জবাবটা,
হত্যা করেই যায়না বদল
সাংবাদিকের স্বভাবটা।
সাংবাদিকের কাজটা কঠিন
বিপদ ঘটে চতুর্দিক,
আনেই তুলে আসল খবর
কোনটা গরল কোনটা ঠিক !

জোর লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা বিএনপির
    A+ A A-

জোর লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা বিএনপির

কাগজ ডেস্ক : গণতন্ত্র হত্যার জন্য সরকার সুপরিকল্পিতভাবে রোববারের হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে বলে অভিযোগ তুলে জোর লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। রোববার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ ঘোষণা দেন।

বস্তুত রোববার সারাদেশের জেলাগুলোতে বিএনপির পূর্ব ঘোষিত গণমিছিল কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারদের সঙ্গে সংঘর্ষে তিন জন বিএনপি কর্মী নিহত ও কয়েকশ’ কর্মী আহত হওয়ার ঘটনায় এ সংবাদ সম্মেলন ডাকে বিএনপি।

তবে সংবাদ সম্মেলনে নতুন কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। এ বিষয়ক এক প্রশ্নে জবাবে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেছেন, ‘আমরা তো আগেই কর্মসূচি (সোমবার গণমিছিল) দিয়েছি। নতুন কর্মসূচি নেওয়া হলেও সে সিদ্ধান্ত হবে রাতে।’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র হত্যার জন্য সরকার সুপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। এ ঘটনা দেশের রাজনীতির ইতিহাসে ন্যক্কারজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে। উদ্ভূত পরিস্থিতে হত্যা, জখম, গ্রেফতার, ছুঁড়ে দেওয়া টিয়ারসেলের বৃষ্টির মধ্যেও শত নির্যাতন আলিঙ্গন করে বিএনপি জোর লড়াই অব্যাহত রাখবে।’

গণতন্ত্রকে ব্যাহত করতে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সরকার সারাদেশে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আজকের ঘটনায় ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী কর্তৃক দেশজুড়ে নৈরাজ্য সৃষ্টির এক নতুন ও ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত স্থাপন হলো।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি ও চারদলীয় জোট তাদের পূর্বঘোষিত গণমিছিল কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালনের প্রস্ততি যখন সম্পন্ন করেছে ঠিক সেই সময় গত ২৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় ২৯ জানুয়ারি গণমিছিলের পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে।’

ফখরুল বলেন, ‘গণতান্ত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা ও পালনের ক্ষেত্রে রীতি রেওয়াজ আছে। যেহেতু বিএনপি ও চারদলীয় জোট কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে আগে সেহেতু একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ একই দিনে একই সময় কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে না।’

রোববার ঘোষিত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সোমবারের সমাবেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে আমরা আশা করি আওয়ামী লীগ আগামীকালের কর্মসূচি প্রত্যাহার করবে। অন্যথায় আজ যা ঘটেছে তার দায়-দায়িত্বসহ আগামীকাল কিছু ঘটলে তার দায়-দায়িত্বও সরকারকে নিতে হবে।’

তিনি জানান, গণমিছিল করতে গিয়ে রোববার লক্ষ্মীপুরে যুবদল নেতা ও রনি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। চাঁদপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন ছাত্রদল নেতা লিমন সোহেল ও যুবদল নেতা আবুল প্রধান।

এছাড়া সারাদেশে ১১৭৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৭০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সারাদেশে গ্রেফতার হয়েছে ১২৩৪ নেতাকর্মী।

পুলিশি নির্যাতন, হামলা, মামলা ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের প্রবল বাধার মুখেও সারাদেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও দাবি করেন মির্জা ফখরুল।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দীন আলম, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবীর খোকন, অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের ভূঁইয়া এমপি, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, স্বেচ্ছা বিষয়ক সম্পাদক হাবীব উন নবী খান সোহেল, ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ।

উল্লেখ্য, রোববার রাত সাড়ে আটটায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুলশানে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।