http://www.gramerkagoj.com/

আর্কাইভ

আসাদ বেহেস্তী
মানুষ মারার রাজনীতিতে
নেইতো কোনো দর্শন,
কিংবা গাড়ি ভাঙ্গা এবং
গুলি-বোমা বর্ষণ।
তবু যারা মানুষ মারে
চলে মহান নীতিতে,
তাদের দলে আমিতো নেই
কোনো রকম প্রীতিতে!

কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করে নেয়া হয়েছে দাখিলা, ডিসির কাছে অভিযোগ : দেড় একর জমি নিয়ে সংঘর্ষের আশংকা
    A+ A A-

বিশেষ প্রতিনিধি : যশোরের ঘুরুলিয়া মৌজার এক একর ৪৮ শতক জমি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সরকারের তদন্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধে যাওয়া ও মামলা চলা সত্ত্বেও একটি পক্ষ যশোর সদর উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনারের কার্যালয়ে একজন ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করে ওই সম্পত্তির দাখিলা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন। এছাড়া সহকারী ভূমি কমিশনার বিষয়টি উপর মহলকে অবহিত করেছেন। এদিকে জোর করে দাখিলা নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জমির ভোগ দখলে থাকা কয়েকটি পরিবার তাদের কয়েক কোটি টাকার ওই সম্পত্তি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সূত্র জানিয়েছে, যশোরের ঘুরুলিয়ার মৃত জীতেন্দ্র নাথ দাসের স্ত্রী চিত্রাবালা দাসী তার জীবদ্দশায় তার নামীয় এক একর ৪৮ শতক জমি বিক্রি করেন। এর মধ্যে প্রতিবেশী পাঁচু দাসের কাছে ১৬ শতক, পুলিণ দাসের কাছে ৮১ শতক ও ডাক্তার কাজী নূরুল আলমের কাছে ৫০ শতক বিক্রি করেন।
এরপর ওই ক্রেতারা জমি ভোগ দখলে যান এবং বাড়ি ঘর তৈরি করে বসবাস শুরু করেন। এরপর চিত্রাবালদাসী গত হলে শেখহাটির আনসার আলী মোল্লার ছেলে নূরুল ইসলাম ওই জমির মালিকানা দাবি করে কিছু কাগজপত্র উপস্থাপন করে দাবি করেন চিত্রাবালা দাসীর ছেলে সুকচান ও মেয়ে সরলা বালার কাছ থেকে তিনি জমি ক্রয় করেছেন। সর্বশেষ এনিয়ে পাঁচু দাস ও পুলিণ দাসের উত্তারাধীকারীদের বিরুদ্ধে নূর ইসলাম স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে বিচার চেয়ে আবেদন করেন। উভয় পক্ষ ডেকে এবং তাদের সবার কাগজপত্র বিশ্লেষণ করে চেয়ারম্যান রায় দেন ওই জমির মালিক নূর ইসলাম নন। পাঁচু দাস ও পুলিন দাসের উত্তরাধিকারী গঙ্গা দাস, কেষ্ট দাসসহ ডাক্তার কাজী নূরুল আলমের ওয়ারেশগণ। চেয়ারম্যানের এ রায় না মেনে ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেন নূর ইসলাম। তিনি ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার মাধ্যমে বিরোধীয় সম্পত্তির মধ্যে থেকে ৮৯ শতক জমা খারিজ মিউটেশন করিয়ে নেন।
এব্যাপারে জমির একাংশের মালিক প্রয়াত ডাক্তার কাজী নূরুল আলমের ওযারেশগণ নূর ইসলামের বিরুদ্ধে সদর সহকারী ভূমি কমিশনারের কাছে ১৫০ ধারায় একটি মিস কেস করেন। এ কেসটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ২৯ জুলাই নূর ইসলাম ১০/১২ জন সহযোগী নিয়ে চড়াও হন সদর উপজেলা ভূমি অফিসে। এখানে নওয়াপাড়া ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামানকে লাঞ্ছিত করে তাকে দিয়ে জোর করে দাাখিলা নিয়ে নেন। নূর ইসলাম গংয়ের ভয়ে ওই সময় সহকারি ভূমি কমিশনার হাসান হাবিবও নিরাবতা পলন করতে বাধ্য হন। সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে দাখিলা কেটে নিয়ে যাওয়া ও ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামানকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ৩০ জুলাই জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান। বিষয়টি যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জহুরুল হক তদন্ত করছেন।
এদিকে এ ব্যাপারে সদর উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার হাসান হাবিব গ্রামের কাগজকে জানান, ২৯ জুলাইয়ের ঘটনাটি খুবই নিন্দনীয়। ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে জিম্মি করে দাখিলা নিয়ে নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি তার উপর মহলকে অবহিত করেছেন। তিনি আরও জানান, বিরোধীয় ওই জমি নিয়ে তার দপ্তরে একটি মিস কেচ বিচারাধীন রয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই উচছৃংখলতার মাধ্যমে দাখিলা নিয়ে গেছে একটি পক্ষ।
এদিকে জমি ভোগদখলে থাকা কয়েক পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন তারা বৈধ জমি ধরে রাখতে জেলা প্রশাসকের কাছে যাবেন, প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর কাছেও যাবেন। কোন অপশক্তির কাছে মাথা নুইয়ে জমি ছাড়বে না।
এ ব্যাপারে যশোর জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি জরুরী সভায় থাকায় ওই ঘটনাটির তদন্ত এবং ঘটনা পরবর্তী প্রশাসনের ভূমিকার ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি।


দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল -এর সকল খবর