http://www.finamate.com/

আর্কাইভ
শিক্ষকের হিংস্রতা

আসাদ বেহেস্তী
দু’সাংবাদিক হত্যা হলো
মিলছেনা এর জবাবটা,
হত্যা করেই যায়না বদল
সাংবাদিকের স্বভাবটা।
সাংবাদিকের কাজটা কঠিন
বিপদ ঘটে চতুর্দিক,
আনেই তুলে আসল খবর
কোনটা গরল কোনটা ঠিক !

গোলপাতা মৌসুমকে টার্গেট করে সুন্দরবনে জল ও বনদস্যু বাহিনী বেপরোয়া জেলে বাওয়ালীরা জিম্মি
    A+ A A-

খুলনা জেলা প্রতিনিধি : বনে বাঘ, জলে জলদস্যু বাহিনী বেপরোয়া হয়ে ওঠায় সাগর মোহনায় ও গহীন সুন্দরবনের ভিতরে নিরস্ত্র লক্ষাধীক জেলে বাওয়ালীরা জিম্মি। মুক্তিপনের দাবিতে একের পর এক বিভিন্ন জলদস্যু বাহিনী অসহায় জেলে বাওয়ালীদের অপহরণ করে চলেছে। প্রতিদিনই জেলে বাওয়ালীদের উপর অমানষিক অত্যাচার নির্যাতনসহ তাদের মালামাল টাকা পয়সা লুটপাট করে নিয়ে যাওয়ায় অনেক জেলে বাওয়ালীরা অতিষ্ট হয়ে তাদের পেশা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। এলাকার একাধিক জেলে ও বাওয়ালী তাদের নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, স¤প্রতি গহীন সুন্দরবনে বাঘের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি সাগর মোহনায় ও সুন্দরবনের ভিতরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুখ্যাত জলদস্যু মুকুল, অভিজিৎ, রাজু, জুলুফ, শহিদুল, মৃত্যুঞ্জয়, জিহাদ, মজলু, রফিক, গামা ও মঞ্জু বাহিনী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। জলদস্যু বাহিনীদের মহাতান্ডবে সাগর মোহনায় মৎস্য আহরণকারী জেলে ও সুন্দরবনের বিধিন্ন গোলপাতা কুপে বাওয়ালীরা হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। এ সকল বাহিনীর কাছে রয়েছে অত্যাধুনিক দেশী-বিদেশী অস্ত্র গোলাবারুদ ও দ্রুতগামী নৌযান। বর্তমানে সুন্দরবনের হিংস্র বাঘের কবল থেকে রক্ষা পাওয়া গেলেও জলদস্যু বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিনই জেলে বাওয়ালীদের উপর চালানো হচ্ছে একের পর এক অমানুষিক অত্যাচার নির্যাতন। প্রায়ই এসকল কুখ্যাত জলদস্যু বাহিনী সাগর মোহনায় ও সুন্দরবনের ভিতরে জেলে বাওয়ালীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের সর্বস্ব লুট করে নিচ্ছে এবং অনেক জেলেদের মুক্তিপনের দাবিতে অপহরণ করা হচ্ছে। গত ২ মাসের ব্যবধানে সাগর মোহনায় প্রায় ২ শতাধিক জেলেদের অপহরণ করা হয়েছে এবং অনেক জেলের নিকট থেকে মুক্তিপন পেয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত অনেক জেলে এসকল জলদস্যু বাহিনীর নিকট আটক রয়েছে। আনেক জেলেরা জলদস্যু বাহিনীর বেপরোয়া তোপের মুখে তাদের জাল, দড়ি, নৌকা সর্বস্ব ফেলে রেখে নিজেদের জীবন বাঁচাতে ও তাদের দীর্ঘদিনের পেশা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। সুন্দরবনের বিভিন্ন গোলপাতা কুপে এবং সাগর মোহনার গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য আহরণ কেন্দ্র গুলিতে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য র‌্যাব, কোষ্টগার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও বনবিভাগের টহল ব্যবস্থা জোরদার করা না হলে সরকার বিপুল পরিমানে রাজস্ব পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে। স¤প্রতি গোলপাতা আহরণ মৌসুমকে টার্গেট করে জলদস্যু বাহিনীরা বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বাওয়ালী হায়দার শেখ, কামাল গাজী, অবনী রায়, বিধান রায় জানায়, গোলপাতা আহরণের বিভিন্ন রুটে কুখ্যাত জলদস্যু মুকুল, মৃত্যুঞ্জয়, জিহাদ, গামা, শহিদুল, মজলু, রফিক, অভিজিৎ বাহিনী অবস্থান নিয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন কুপে ঢোকার সময় বাওয়ালীদের কাছ থেকে নৌকা প্রতি ৪-৫ হাজার টাকা করে নিচ্ছে। বনবিভাগ থেকে পাশ নিয়ে বাওয়ালীরা পর্যায়ক্রমে ৩-৪ ট্রিপ গোলপাতা সুন্দরবন থেকে সংগ্রহ করতে পারবে। প্রত্যেক ট্রিপের জন্য এসকল বাহিনীকে টাকা দিতে হচ্ছে। কেউ টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে ওই সকল বাওয়ালী ও জেলেদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের উপর চালানো হয় অমানুষিক অত্যাচার নির্যাতন। জলদস্যু নির্মুলে আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনী র‌্যাব, কোষ্টগার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের যৌথ বেশ কয়েকটি অভিযান গহীন সুন্দরবন ও সাগর মোহনায় পরিচালিত হওয়ায় ও জলদস্যু বনদস্যুদের সাথে গুলি বিনিময়ের ঘটনায় কয়েকটি বাহিনী প্রধান সহ তাদের সহযোগী জলদস্যু সদস্যরা নিহত হয়েছে। কুখ্যাত বনদস্যু রাজু বাহিনীর সাথে কোষ্টগার্ড ও র‌্যাব-৮ এর সাথে বন্দুক যুদ্ধের ঘটনায় রাজু বাহিনীর ২ সক্রিয় সদস্য নিহত হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রচুর অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে র‌্যাব-৬ ও কোষ্টগার্ড সদস্যরা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু বাহিনী প্রধান কাশেম ও তার সহযোগী শহিদুলকে আটক পূর্বক বিদেশি তৈরি ৫টি বন্দুক ও গোলাবারুদ উদ্ধার করলেও নতুন নতুন গড়ে ওঠা জল ও বনদস্যুদের অপহরণ ও চাঁদাবাজীর কারণে বাওয়ালীদের দীর্ঘকালের পেশা ছাড়ার উপক্রম হয়েছে। 
গোলপাতা আহরণকারী বাওয়ালীরা জানায়, বনবিভাগের পক্ষ থেকে ঝুল কাঠ দেওয়ার প্রতিশ্র“তি দেওয়ার পর বাওয়ালীরা বনে যেতে শুরু করে। এ বছর বাওয়ালীরা গোলপাতা আহরণের প্রথম মৌসুমে বিএলসি বাবদ ২শ’২৫ টাকা এবং পাশ করার সময় গোলপাতার মন প্রতি ১০টাকা ৭৩ পয়সা করে আদায়ের নিয়ম থাকলেও সেই পুরানো প্রথা অনুযায়ী মন শতকরা হাজার হাজার টাকার উৎকোচের বিনিময়ে নৌকা ছেড়েছে। পশ্চিম বনবিভাগের খুলনার নলিয়ান রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক জহিরুল হক জানান, গত ১২, ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি রেঞ্জের ৫টি ষ্টেশন থেকে গোলাপাতা আহরণ করার লক্ষ্যে পাশ ছাড়া হয়। এ বছর প্রথম পর্যায়ে ৪লাখ মন গোলপাতা আহরণের লক্ষ্য মাত্র ধরা হলেও কিন্তু সেই তুলনায় তার অর্ধেক হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে গত ২৭ জানুয়ারি থেকে গোলপাতা আহরণের জন্য পাশ ছাড়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত নলিয়ান রেঞ্জের (২টি গোলপাতা কুপ) শিবসা কুপ ও আড়ো শিবসা কুপে ৪শ’৭৭টি নৌকা গোলপাতা আহরণের জন্য ছাড়া হয়েছে। অপরদিকে সাতক্ষিরা রেঞ্জের কদমতলা ষ্টেশন অফিস সুত্রে জানা গেছে গত ১৪ জানুয়ারি রেঞ্জের ৪’টি ষ্টেশন থেকে গোলপাতা আহরণের লক্ষ্যে পাশ ছাড়া হয়। বুড়িগোয়ালিনী ষ্টেশন থেকে ৬৫টি কদমতলা ষ্টেশন থেকে ৪৬টি ও কোবাদক ষ্টেশন থেকে ৩১টি নৌকার বাওয়ালীরা পাশ নিয়েছে বলে জানা যায়।

অন্যান্য সংবাদ -এর সকল খবর