


আসাদ বেহেস্তী
দু’সাংবাদিক হত্যা হলো
মিলছেনা এর জবাবটা,
হত্যা করেই যায়না বদল
সাংবাদিকের স্বভাবটা।
সাংবাদিকের কাজটা কঠিন
বিপদ ঘটে চতুর্দিক,
আনেই তুলে আসল খবর
কোনটা গরল কোনটা ঠিক !

ফয়সল ইসলাম : আজ যশোর বিএমর’র দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন। ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা শেষে দু’প্যানেলের ৪৬ প্রার্থী এখন ভোটারদের রায়ের অপেক্ষায়। আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বাচিপ ও বিএনপি সমর্থিত ড্যাব প্যানেলের প্রার্থীরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিজয় নিজেদের কব্জায় রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। উদ্দেশ্য আগামী দু’বছরের জন্যে পেশাজীবী এ সংগঠনটির নেতৃত্ব দেয়া। নিজেদের পক্ষে ভোটারদের আকৃষ্ট করার জন্যে উভয় প্যানেলই বৈচিত্রময় কৌশল নিয়েছিল। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে কোনভাবেই ছাড় দিতে রাজি নয়। উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে ভোট প্রার্থণা করেছেন স্বাচিপ প্যানেলের প্রার্থীরা। অপরদিকে ড্যাব নেতারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকার তথা স্বাস্থ্য বিভাগে ঘটে যাওয়া বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে পুঁজি করে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার কৌশল নিয়েছে। তাদের প্রচারনায় নানা মিথ্যা ও তথ্যবিভ্রাট বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। যার দালিলিক প্রমাণও রয়েছে।
ড্যাব নেতারা বিএমএ’র নেতৃত্বে থাকাকালীন স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী ও সমর্থনকারী ডাক্তাররা নানা দুর্ভোগ ও অত্যাচারের শিকার হয়েছেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ২০০৯ সালের ১৮ জুন বিএমএ’র নির্বাচন অনুষ্ঠানে ভোট প্রার্থনাকালে ভোটারদের কাছে পূর্বের কৃতকর্মের জন্যে ক্ষমা চেয়ে তারা আরেকবার জয়ী করার আবেদন জানান। কিন্তু পোড় খাওয়া ডাক্তাররা ড্যাব নেতাদের প্রতিশ্রুতিতে আস্থা আনতে না পারায় প্যানেল ধরে তাদের পরাজয় বরণ করতে হয়। স্বাচিপ প্যানেল নিরস্কুষ বিজয়ী হয়ে ডাক্তার তথা স্বাস্থ্য বিভাগের স্বার্থ সংরক্ষণের নেতৃত্ব গ্রহণ করে।
গেল দু’বছরের বিএমএ’র নেতৃত্বদানকারী ডাক্তার সালাহ উদ্দিন আহমেদ, আতিকুর রহমান খান, ইয়াকুব আলী মোল্লা, একেএম কামরুল ইসলাম বেনুসহ সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনারী কেয়ার ইউনিট চালু, ডাক্তার-নার্সসহ সকল স্বাস্থ্য সেবীর সার্বক্ষণিক নিরাপত্বার জন্যে হাসপাতালে স্থায়ী পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা, যশোর মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও শিক্ষা কার্যক্রম চালু, যোগ্যতা অনুযায়ী যশোরে কর্মরত ডাক্তারদের দলমত নির্বিশেষে পদোন্নতি ও স্বাস্থ্য বিভাগে উন্নত সেবার ব্যবস্থা হয়েছে। এতো কিছুর পরও উত্তরাধীকার সূত্রে পাওয়া বিএমএ ভবন নিয়ে বড় ধরণের একটি জঠিলতা ও আর্থিক বিষয়ে করা বিভিন্ন কারসাজি কাটিয়ে উঠতে পারেননি ঈর্শ্বনীয় উন্নয়নের নেতৃত্বদানকারীরা।
যশোরের ডাক্তারসহ সর্বমহলে মাঝে একটি তথ্য বহুল প্রচারিত আছে বিএমএ’র মালিকানাধীন একটি ভবন আছে। ২০০৪ সাল থেকে এ তথ্য প্রচারিত হচ্ছে। বিএমএ ভবন নামে যে ভবনটি কথা বলা হয় তা আধৈ নিজস্ব ভবন নয়। ভবনটি ব্যবহারের জন্যে নিয়মিত ভাড়া দিয়ে বিএমএ’র কার্যক্রম পরিচালিত হয়। চুক্তিনামায় সংগ্রহের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে ভবনটি আসল মালিক যশোর ইনস্টিটিউট। বিএমএ ভাড়াটিয়া মাত্র।
চুক্তিনামায় উল্লেখ আছে, ২০০৩ সালের ১২ জানুয়ারি বিএমএ’র তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক যশোর ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে ভাড়া হিসেবে ইনস্টিটিউট মার্কেটের তিনতলার ছাদ ভাড়া নেন। ১৩৪৯ বর্গফুট জায়গার জন্যে প্রতি বর্গফুট ২ টাকা হারে ভাড়া পরিশোধের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ৫ বছর পরপর এ চুক্তিকৃত ভাড়ার সাথে ৫ শতাংশ বৃদ্ধির কথা বলা আছে। ওই সময় বরাদ্দকৃত জায়গার জন্যে এককালীন ৬২ হাজার ৬শ ৭৫ টাকা দিতে হয় ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষকে। ছাদ বরাদ্দ নিয়ে ভবন, সিঁড়িসহ আনুসাঙ্গিক নির্মাণ কাজের ব্যয় বহন করে বিএমএ। এতেই ভবনটি নাম হয়ে যায় বিএমএ ভবন। অথচ ভবনটির আসল মালিক যশোর ইনস্টিটিউটকে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করতে হচ্ছে। চুক্তিতে স্পষ্ট করা হয়নি কত বছরের জন্যে ভবনটি বিএমএ’র কজ্বায় থাকবে। এবারের নির্বাচন উপলক্ষ্যে বিএমএ ভবন নিয়ে ছলচাতুরির বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। যা সাধারণ ভোটারদের মাঝে ডাক্তার মোজাম্মেল হোসেন-ডাক্তার এমদাদুল হক প্যানেলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে স্পর্শ কাতর এ বিষয়টি। এ সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে স্বাচিপ সমর্থিত প্যানেল। উন্নয়নের কথার সাথে সাথে ড্যাব নেতাদের ব্যর্থতার বিষয় সমূহ উল্লেখ করে ভোটাদের আকর্ষণ করছেন তারা। এতে ডাক্তার আতিকুর রহমান খান-ডাক্তার কামরুল ইসলাম বেনু প্যানেল শতভাগ আশবাদি নির্বাচনে ২০০৯ সালের মতো এবারও নিরস্কুশ জয় হবে তাদের। ভোট শুরু হবে সকাল ৯টায়। চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
