http://www.gramerkagoj.com/

আর্কাইভ

আসাদ বেহেস্তী
মানুষ মারার রাজনীতিতে
নেইতো কোনো দর্শন,
কিংবা গাড়ি ভাঙ্গা এবং
গুলি-বোমা বর্ষণ।
তবু যারা মানুষ মারে
চলে মহান নীতিতে,
তাদের দলে আমিতো নেই
কোনো রকম প্রীতিতে!

খুলনার যেখানে-সেখানে অনুমোদনবিহীন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট গড়ে উঠেছে
    A+ A A-

খুলনা ব্যুরো : খুলনা মহানগরীর গোয়ালখালী মোড়ের ওপর পুরো রাস্তা জুড়ে দু’টি সাইনবোর্ড দিয়ে একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রচার করেছে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, গার্মেন্টস ডিজাইন এন্ড প্যাটার্ন মেকিং, সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল বিষয়ে ভর্তি চলছে। ইনস্টিটিউটের খালিশপুরস্থ ওয়েস্ট সাউথ ব্লকের ১১ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর তাপসী নামে বাড়িতে এর কার্যক্রম চলছে। ভর্তি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ জানায়, এখন মাত্র তিনটি বিভাগে ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি চলছে। কিন্তু ভর্তির জন্য কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন আছে কি না জানতে চাইলে বলা হয় এমডি স্যার নেই, পরে আসেন, আমরা এখানের কর্মচারী নই।
এভাবে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে অনুমোদনবিহীন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অনুমোদন না নিয়েই এসব প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী ভর্তি করায় ওইসব শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যে অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এমন মন্তব্য সংশ্লিষ্ট অনেকের।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে যেসব পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট খুলনায় গড়ে উঠেছে তাদের প্রত্যেকেরই শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য একটি কলেজ কোডের প্রয়োজন রয়েছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা যেমন ৭/৮টি তেমনি অনুমোদনবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউনিক পলিটেনকটি ইনস্টিটিউট, প্রাইম পলিটেকনিক, মডার্ন পলিটেকনিক, মেট্রোপলিটন, দেশ পলিটেকনিক, মডেল পলিটেকনিক প্রভৃতি।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানের পূর্বানুমতি এবং পাঠদান পত্র পাওয়ার পরই কেবল শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে। কিন্তু খালিশপুরের ইউনিক পলিটেকনিকে গিয়ে জানা যায়, পাঠদানের অনুমোদনই শুধু নয় বরং সেখানে এখন পর্যন্ত জনবল নিয়োগই সম্পন্ন হয়নি। শুধুমাত্র খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে অবসর নেয়া একজন শিক্ষককে সেখানের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে মাত্র। সেখানে অবস্থানরত অমিত নামে এক ব্যক্তি জানান, তিনি মাত্র দু’মাস হয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত। কিন্তু কি পদে তিনি চাকরি করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোন পদে নয়, এমডির ছেলের বন্ধু হিসেবে তিনি দেখাশোনা করছেন।
ওই সময় ঢাকায় অবস্থানরত প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আঃ রশিদ মোবাইলে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি অনুমোদনের জন্য ঢাকায় গেছেন। অনুমোদন হয়ে যাবে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান দেশের বাইরে থেকে আসছেন এখন কোন সমস্যা হবে না।
মণিরামপুর থেকে আগত এক যুবক জানান, তিনি যে কোন একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তির জন্য সম্প্রতি খুলনায় আসেন। কিন্তু একজন দালালের খপ্পরে পড়ে চলে যান খালিশপুরের ইউনিক পলিটেকনিকে। সেখানে ৫ হাজার টাকা নগদ দিয়ে ভর্তির পরই তিনি জানতে পারেন যে, ওই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ভর্তির অনুমোদন নেই। এ অবস্থায় তিনি অনেকটা অসহায় বলেও তার হতাশা ব্যক্ত করেন। এভাবে অন্যান্য অনুমোদনবিহীন পলিটেকনিকগুলোতে ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি করিয়ে চাকরি প্রত্যাশীদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। যা নিয়ে সচেতন অভিভাবক মহলও অনেকটা চিন্তিত।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিচালক (কারিকুলাম) আব্দুর রেজ্জাক বলেন, বোর্ডের অনুমোদন না নিয়ে কোন প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী ভর্তি করলে তার দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে। তাছাড়া শুধু শিক্ষার্থী ভর্তি নয়, বরং পাঠদান বিষয়ক সকল বিষয়ই বোর্ডকে অবহিত করতে হবে।


দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল -এর সকল খবর