http://www.finamate.com/

আর্কাইভ
শিক্ষকের হিংস্রতা

আসাদ বেহেস্তী
দু’সাংবাদিক হত্যা হলো
মিলছেনা এর জবাবটা,
হত্যা করেই যায়না বদল
সাংবাদিকের স্বভাবটা।
সাংবাদিকের কাজটা কঠিন
বিপদ ঘটে চতুর্দিক,
আনেই তুলে আসল খবর
কোনটা গরল কোনটা ঠিক !

সতর্ক হয়ে যান: দলীয় এমপিদের প্রধানমন্ত্রী
    A+ A A-

শেখ হাসিনাকাগজ ডেস্ক : নিজের দলের ২ শতাধিক সংসদ সদস্যের কার্যক্রমে নাখোশ হয়েছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি তাদের বিরুদ্ধে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি, উন্নয়ন কার্যক্রমে অবহেলা এবং সংগঠন শক্তিশালী করতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন।
জানা গেছে, সারাদেশের তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মি এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই ওইসব এমপির তালিকা করেছেন।
রোববার সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাপক্ষে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে শেখ হাসিনা এ অভিযোগ তোলেন বলে দলের উচ্চ পর্যায়ের একটি সূত্র বার্তা২৪ ডটনেটকে জানায়। এসময় প্রধানমন্ত্রী এমপিদের সর্তক করে দেন বলেও তিনি দাবি করেন।
তার ভাষ্যমতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘সময় শেষ হয়ে আসছে। বাকি ২ বছরের মধ্যে ওইসব এমপি নিজেদের সংশোধন না করলে দল তাদের সেভাবেই মূল্যায়ন করবে। এমনকি আগামীতে মনোনয়নসহ দলীয় দায়িত্ব বণ্টনের বেলাতেও তাদের খেসারত দিতে হবে।’’
সূত্র জানায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপিদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘এখনো সময় আছে সতর্ক হয়ে যান। সাধারণ মানুষ ও কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করুন।’’
সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ, আবুল মাল আবদুল মুহিত, সুবিদ আলী ভূঁইয়া প্রমুখ।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচন কমিশন গঠন, বিরোধীদলের আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।’’
এদিকে দলের উচ্চ পর্যায়ের একটি সূত্র বার্তা২৪ ডটনেটকে জানায়, বৈঠকে আলোচনায় অংশ নিয়ে অধিকাংশ এমপি সার্চ কমিটিতে দলীয়ভাবে নাম না দেয়ার পক্ষে মত দেন।
তারা বলেন, সরকারি দলের পক্ষ থেকে যদি নাম দেয়া হয় এবং সেই নাম অনুযায়ী যদি নির্বাচন কমিশন নিয়োগ হয় তাহলে সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। বিতর্ক হবে। বিরোধীদল এটাকে ইস্যু করে আন্দোলন শুরু করবে।”
তারপরও সার্চ কমিটির কাছে নামের তালিকা পাঠনোর সিদ্ধান্ত হয় আওয়ামী লীগের আজকের বৈঠকে। জানা গেছে, দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সার্চ কমিটিতে নাম দেয়ার পক্ষে ছিলেন।
সংসদ সদস্যদের সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আপনাদের সবার আমলনামা আমার হাতে রয়েছে। এরমধ্যে ২ শতাধিক এমপির আমলনামা আমি দেখেছি। বাকিগুলো দেখছি। সংসদ সদস্যদের বিগত ২ বছর ৯ মাসের কর্মকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন গোয়ন্দা সংস্থার তথ্যের আলোকে মন্ত্রীদের আমলনামা তৈরি করা হয়েছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘সব এমপির কর্মকাণ্ড যাচাই-বাছাই শেষ হলে আমি এমপিদের ২৫ জন করে টিম করে ধারাবাহিক বৈঠক করবো। সময় শেষ হয়ে আসছে। এলাকার জনগণের প্রতি দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীদের দূরত্ব কমিয়ে আনতে হবে। তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হলে তা দ্রুত সমাধান করতে হবে।’’
বৈঠকে বিরোধীদলকে রাজপথে আন্দোলন না করে সংসদে আসার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘‘বাইরে আন্দোলন না করে তারা (বিরোধীদল) যদি সংসদে এসে তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে কথা বলেন তাহলে ভালো হয়। তারা সংসদে এসে কথা বললে জনগণ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে। তার মতে, বিরোধীদল নেতিবাচক রাজনীতি শুরু করেছে। জনগণ এ রাজনীতির জবাব দেবে।’’
একই সূত্র আরো জানায়, ২ শতাধিক এমপির কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ। স্থানীয় নেতাকর্মী এবং গোয়েন্দা সংস্থার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী নিজেই এসব এমপির তালিকা করেছেন।
বৈঠকে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমরা সার্চ কমিটির কাছে নামের তালিকা পাঠাব। আমরা ১৪ দলসহ জোট মহাজোটের সকলের সঙ্গে এটা নিয়ে বসব। সবার সঙ্গে বৈঠক করে আমরা সার্চ কমিটির কাছে তালিকা পাঠাব। এ তালিকা ১৪ দল বা মহাজোটগতভাবে অভিন্ন হতে পারে আবার পৃথকও হতে পারে।’’
বৈঠক শেষে সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিং করেন সরকারি দলের চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ।
আবদুস শহীদ সাংবাদিকদের জানান, ‘‘১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে আলোচনা করে সার্চ কমিটিতে নাম দেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। সংসদীয় দলের বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনার বিষয় নিয়েও কথা হয়।’’
বিধি অনুযায়ী প্রতি বছরই রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর যে আলোচনা হয় এবং কত ঘণ্টা আলোচনা হবে, কে কে আলোচনায় অংশ নেবেন এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।” 
ব্রিফিংয়ে উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ জানান, ‘‘১১৮ ধারা অনুসারে রাষ্ট্রপতি সবার মতামত চেয়েছেন। রাজনৈতিক দলগুলো সার্চ কমিটিতে যেসব নাম দেবেন সেগুলো বিচার বিশ্লেষণ করেই রাষ্ট্রপতি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। আর যদি কোনো রাজনৈতিক দল সার্চ কমিটিতে নাম না পাঠায় তাহলে সার্চ কমিটির পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব বলে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন।’’