

আসাদ বেহেস্তী
মানুষ মারার রাজনীতিতে
নেইতো কোনো দর্শন,
কিংবা গাড়ি ভাঙ্গা এবং
গুলি-বোমা বর্ষণ।
তবু যারা মানুষ মারে
চলে মহান নীতিতে,
তাদের দলে আমিতো নেই
কোনো রকম প্রীতিতে!
ফয়সল ইসলাম : যশোর স্বাস্থ্য বিভাগে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পাওয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদপত্রধারী চাকুরেরা নিরাপদেই আছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হলেও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্তাদের আশির্বাদ থাকায় বহাল তবিয়তে আছেন তারা। তবে নিয়োগ বোর্ডের শীর্ষ কর্তারা রয়েছেন মহা দুঃশ্চিন্তায়। জালিয়াতির ঘুষ কেলেংকারী ও চাকুরেদের জালিয়াতির দালিলিক প্রমাণ তদন্ত বোর্ডে যাতে না পৌঁছায় সে ব্যাপারে সতর্ক হয়েছেন নিয়োগ কর্তারা। যশোর স্বাস্থ্য বিভাগের কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদধারীদের প্রশ্রয়ে রেখেছেন উর্ধ্বতন কর্তারা। কর্মক্ষেত্রেও তারা বিভিন্ন সুযাগ-সুবিধা ভোগ করছেন।
এদিকে, নিজের স্বচ্ছতার প্রমাণ দিতে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাক্তার একেএম আব্দুস সামাদ মিয়া সোচ্চার হয়েছেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা ও চাকুরেদের জালিয়াতির বিষয় প্রমাণ হলে জড়িতদের শাস্তি হোক এ প্রসঙ্গে তিনি একাত্বতা জানিয়েছেন। দুদকের তদন্তের পর স্বাস্থ্য বিভাগীয় তদন্তের ব্যাপারে তিনি উদ্যোগ নেবেন বলে গ্রামের কাগজকে নিশ্চিত করেছেন।
২০১১ সালের ২৭ এপ্রিল যশোর স্বাস্থ্য বিভাগে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগের অস্বচ্ছতার অভিযোগে গ্রামের কাগজের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিভিন্ন মহল থেকে তথ্য আসে কোটি টাকার লেনদেনে সম্পন্ন হয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়া। টাকার জোরে অযোগ্য, জালিয়াতকারী ও প্রভাবশালীরা চাকরি নামের সোনার হরিণ শিকার করেছেন। যোগ্যতা ও মেধা থাকতেই প্রতিযোগীতা থেকে ছিটকে পড়েন টাকা না থাকা প্রার্থীরা। এসব বিষয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশে তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করেছিলেন যশোরের তিন সংসদ সদস্য। ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল তারা জানিয়েছিলেন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমপি কোটা মানা হয়নি। এ বিষয়ে ১ মে তথ্য বহুল সংবাদ প্রকাশ হয়।
এরই মধ্যে গ্রামের কাগজ দপ্তরে আরো একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে। যশোরের সাবেক সিভিল সার্জন তরুন কুমার সিকদারের বদৌলতে ভিনদেশী একজন চাকরি পেয়েছেন। যার পৈত্রিক নিবাস ভারতে। তিনি বর্তমানে যশোর স্বাস্থ্য বিভাগে চাকুরে। বর্তমানে যশোর শহরে বসবাসকারী ওই চাকুরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার একটি বিদ্যালয় থেকে শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদ যোগাড় করে চাকরি জুটিয়েছেন।
সার্বিক বিষয়ে কথা বলতে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাক্তার একেএম আব্দুস সামাদ মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অনিহার কারণে এতোদিন যাবৎ নিয়োগ প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতার অভিযোগটি ঝুলন্ত রয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে উদ্যোগ নেয়া হলে অনেক আগেই এটির সমাধান হতো। দুদকের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সেটি শেষ হওয়ার পর স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে আরো একটি তদন্ত করা হবে। তদন্তে চাকুরেদের জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া মাত্রই চাকরি থেকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

