http://www.gramerkagoj.com/

আর্কাইভ

আসাদ বেহেস্তী
মানুষ মারার রাজনীতিতে
নেইতো কোনো দর্শন,
কিংবা গাড়ি ভাঙ্গা এবং
গুলি-বোমা বর্ষণ।
তবু যারা মানুষ মারে
চলে মহান নীতিতে,
তাদের দলে আমিতো নেই
কোনো রকম প্রীতিতে!

দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আসামে
    A+ A A-

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের আসাম রাজ্যের জাতিগত দাঙ্গা থামছে না বরং তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যে এই দাঙ্গার কারণে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। জানান সাংবাদিক গৌতম চট্টোপাধ্যায়।
কলকাতার দৈনিক পত্রিকা সকালবেলা’র হয়ে কাজ করেন গোহাটিতে অবস্থারত সাংবাদিক গৌতম চট্টোপাধ্যায়। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এই অঞ্চলে এই দাঙ্গা হাঙ্গামা নতুন কিছু নয়, এর আগেও হয়েছে। এর কারণ, ১৯৯৩-৯৪ সালের বোরোল্যান্ড চুক্তি অনুযায়ী সেখানে যে বোরোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল এরিয়া ডিস্ট্রিক্ট বা বিটিএডি তৈরি হয়েছে-সেটা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে।
এই এলাকাটা স্বশাসিত এলাকা। এই এলাকা নিয়ে অবোরোদের অভিযোগ হলো, জায়গাটি বোরোদের নামে করা হলেও অনেক জায়গাতে তারাই সংখ্যালঘু। এমনকি কিছু গ্রাম আছে যেখানে শতকরা ৮০ ভাগ পর্যন্ত নাগরিক বোরো নয়। তাদের কথা হলো, এইসব এলাকা বোরোদের কাছে গেলে অবোরোদের রাজনৈতিক এবং সামাজিক অধিকার বিঘিœত হবে। এই নিয়ে অনেকদিন ধরে একটি চাপা ক্ষোভ ছিল। অন্যদিকে বোরো নেতৃবৃন্দের কথায়, এই জায়গা বোরোদের নামে করা হলেও সেখানে সকলের সমানাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সেটা মানতে রাজি নয় অবোরো জনগোষ্ঠী।
গৌতম চট্টোপাধ্যায় জানান, এর আগে অন্যান্য জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বোরোদের দাঙ্গা লাগলেও এবার সেটা লেগেছে মুসলমান সংখ্যালঘুদের সঙ্গে। তবে এর ফলে কিন্তু অন্যান্য গোষ্ঠীর মানুষও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই অস্থির পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠী, এমনটি মনে করেন বাঙালি সাংবাদিক গৌতম চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এই ধরণের পরিস্থিতিতে কেবল আসাম নয় অন্যান্য জায়গাতেও দাঙ্গার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মুম্বাইতে যে গণ্ডগোল হলো, সেটা আসামের দাঙ্গার প্রভাবের কারণেই হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষ ভারতের যেসব জায়গাতে বাস করছে, সেখানেও এই দাঙ্গার আতঙ্ক কাজ করছে। তাদের অনেকেই এখন সেসব জায়গা ছেড়ে চলে যাচ্ছে। কেবল বুধবারই প্রায় চার হাজার মানুষ ব্যাঙ্গালোর থেকে গৌহাটিতে চলে এসেছে বলে জানান গৌতম চট্টোপাধ্যায়।
গত এক মাস ধরে এই দাঙ্গা চললেও তা প্রশমন করতে রাজ্য সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ বলে তাদের দায়ী করেন গৌতম। এমনকি যেখান থেকে এই দাঙ্গা শুরু হয়েছিল, তা এখন ছড়িয়ে আশেপাশের জেলাগুলোতেও দেখা যাচ্ছে বলে জানান গৌতম। বৃহস্পতিবারও কামরুপ জেলাতে বাস জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে, পোড়ানো হয়েছে সেতু। দাঙ্গা ঠেকাতে পুলিশকে ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে হয়েছে। ‘‘সবচেয়ে ভয়াবহ হবে যদি এই দাঙ্গা এখন অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে”, এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক গৌতম চট্টোপাধ্যায়। সূত্র: ডিডব্লিউ।