

আসাদ বেহেস্তী
ফের এসেছে হরতাল ভাই
তাই পেছালো কাজ,
এটা ছাড়া নেই হাতিয়ার
তাইতো লাগে লাজ!
গণতন্ত্রের অনেক ভাষা
অনেক হাতিয়ার,
আসুন সবাই নতুন ভাবি
দেশ করি উদ্ধার।
কাগজ ডেস্ক : মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ট্রাইব্যুনালের শুনানির আগে বলেন, “আমি আদালতের কার্যক্রম অনুসরণ করা ও বোঝার প্রচেষ্টা অনেক আগেই ছেড়ে দিয়ে আদালত চলাকালে পবিত্র কুরআন মাজীদ তেলাওয়াতে মগ্ন থাকি এবং শেষ বিচারের মালিকের ফয়সালার প্রতীক্ষায় প্রহর গুনি।”
এ সময় তিনি ট্রাইব্যুনালকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনার প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক বিচারপ্রার্থী হিসেবে আমার অবস্থান তথা অনুভূতি প্রকাশের কোনো অবকাশ থাকলে আমি বলতে চাই যে, বিচারের নামে আমাকে নিয়ে যা করা হচ্ছে তাতে আমি হতভম্ব, স্তম্ভিত ও বিস্মিত, বিমূঢ়।”
তিনি বলেন, “তাই আমি আদালতের কার্যক্রম অনুসরণ করা ও বোঝার প্রচেষ্টা অনেক আগেই ছেড়ে দিয়ে আদালত চলাকালে পবিত্র কুরআন মাজীদ তেলাওয়াতে মগ্ন থাকি এবং শেষ বিচারের মালিকের ফয়সালার প্রতীক্ষায় প্রহর গুনি। আদালতের রেওয়াজ পূরণের দায়িত্ব আমার আইনজীবীদের হাতে ছেড়ে দিয়েছি।”
তিনি আরো বলেন, “এখন আইনজীবী উপস্থিত থাকার সেই ন্যূনতম শর্তটা মান্য করার বিলম্বটি মেনে নেয়ার ফুসরতও যদি আপনাদের না থাকে, তাহলে সবর করা ছাড়া আমার কি বা করার আছে! আমার আইনজীবীর অনুপস্থিতিতে আমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের ক্ষেত্রে আমার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি বিচার প্রাপ্তিতে আমার কোনো পার্থক্য নির্ণয় করবেন না।”
এ ক্ষেত্রে আদালতের কাছে আমার একটি নিবেদন থাকবে যে, অন্ততপক্ষে ৭২ বছরের এই বৃদ্ধ বয়সে এই রাজনৈতিক ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রতিদিন আদালতে উপস্থিত থাকার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন থেকে অব্যাহতি দিয়ে আমার অনুপস্থিতিতে আদালত ও প্রসিকিউশন মিলে যা যা করার তা সম্পন্ন করতে পারেন।”
সাঈদী বলেন, “কার হিম্মত আছে আপনাদের কাছে জানতে চাইবে যে, JUSTICE HURRIED JUSTICE BURRIED বা JUSTICE NOT ONLY TO BE DELIVERED, BUT TO BE SEEN ALSO এই অমোঘ বাণীসমূহ এই আদালতে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ক্ষেত্রে বাক্য হিসেবেই থেকে যাবে।’’
মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনার-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে দুই সদস্যের টাইব্যুনালে শুনানির শুরুর প্রথমেই তিনি দাঁড়িয়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে এসব বলেন।
তখন তিনি বলেন, “দেশে আজও হরতাল পালিত হচ্ছে। ফলে সকল প্রকার চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় সঙ্গত কারণেই সোমবারে ন্যায় মঙ্গলবারে আমার আইনজীবীগণ আদালতে উপস্থিত থাকতে সক্ষম হননি। অনুরূপ পরিস্থিতিতে সোমবার আসামি হিসাবে আমার অবস্থান ব্যাখ্যা করার পর আপনি আদালত মুলতবি করেছিলেন। একই পরিস্থিতিতে আজকে আবার আদালত কার্যক্রম চালানোর প্রয়াস পাবেন তা আমি আশা করিনি।’’
তিনি বলেন, “আমাদের দেশে হরতাল চলাকালে নিম্ন কিংবা উচ্চ আদালতের কোথাও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় না। সুবিচারের স্বার্থে এই রেওয়াজ দীর্ঘদিন থেকেই বহাল রয়েছে। ব্যতিক্রম শুধু এই আদালত। তাতেও আমার কোনো আপত্তি থাকার সুযোগ থাকতো না, যদি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমার আইনজীবীগণ আদালতে হাজির হতে সক্ষম হতেন।”
সাঈদী বলেন, “আইন অনুযায়ী ওকালাতনামা আদালতে দাখিল করার পর আসামির কোনো কিছু বলার অধিকার রহিত হয়ে যায়। আসামির কৌশুলিই তার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এবং সুবিচার প্রাপ্তির জন্য তৎপর থাকেন, তাই আইনজীবীর অনুপস্থিতিতে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সুবিচার পরিপন্থী। আসামি হিসাবে আমার এই অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আরো প্রবিধানযোগ্য। বিশেষ করে এমন একটি সময়ে, যখন এই সম্মানিত আদালত একাধারে আইন প্রণয়ন এবং সেই আইনকে অনুসরণপূর্বক বিচারকার্য সমাধান করার দ্বিবিধ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে স্বাক্ষ্য আইনের একটি শাশ্বত ধারার ব্যত্যয় ঘটিয়ে আসামির চিরায়ত অধিকার হরণ করে আইও-কে দিয়ে সাক্ষীদের স্বাক্ষ্যগ্রহণের এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করছেন।”
তিনি বলেন, “আমি একজন ব্যক্তিমাত্র। আমার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এবং মিথ্যাচার একাকার হয়ে গিয়ে আমার জন্য যে ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির আবহ সৃষ্টি করেছে তা উপলব্ধি করা কিংবা মোকাবিলা করার কোনো ক্ষমতাই আমার নেই।”
তিনি বলেন, “আমি আজ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বেপরোয়া যথেচ্ছাচার এবং তা বাস্তবায়নের এক আগ্রাসী মিথ্যাচারের শিকার। আপনার এই মহান আদালত রাষ্ট্রের একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমি ব্যক্তি সাঈদীকে আশ্রয় দেয়ার জন্য তথা ন্যায়বিচার করার জন্য ওয়াদাবদ্ধ। আমি আপনার সেই শপথ ও দায়বদ্ধতার বিষয়ে আস্থাশীল থাকতে চাই।”
আমাকে কথাগুলো বলতে দেয়ার জন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

