http://www.gramerkagoj.com/

আর্কাইভ

আসাদ বেহেস্তী
ফের এসেছে হরতাল ভাই
তাই পেছালো কাজ,
এটা ছাড়া নেই হাতিয়ার
তাইতো লাগে লাজ!
গণতন্ত্রের অনেক ভাষা
অনেক হাতিয়ার,
আসুন সবাই নতুন ভাবি
দেশ করি উদ্ধার।

মিয়ানমার সফরে অ্যাশ্টন
    A+ A A-

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মিয়ানমারে গেছেন ক্যাথারিন অ্যাশটন। সেদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থন ব্যক্ত করতেই তাঁর এই সফর। মিয়ানমারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূতাবাস ধাঁচের একটি দপ্তর খোলা হতে পারে। মিয়ানমারের ওপর থেকে ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে এই তো গত সপ্তাহেই। কারণ নির্বাচনী ফলাফলে দেখা গেছে গণতান্ত্রিক পট পরিবর্তনের ইঙ্গিত। আর সেই ‘ঐতিহাসিক’ পরিবর্তনকে সমর্থন জানাবে না ইইউ! 
সঙ্গত কারণেই সেই সমর্থন আরও দৃঢ় করতে অ্যাশটনের এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ বৈকি। গোটা বিশ্বের মানচিত্রে দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত এশিয়ার এই দেশটি অবশেষে সু চি-র হাত ধরে এই সম্প্রতি আবারও মূল স্রোতে ফিরতে শুরু করেছে। সু চি-র সঙ্গে অবশ্যই বৈঠকে বসেছিলেন অ্যাশটন। বৈঠক করেছেন তিনি মিয়ানমারের সামরিক শাসকদের কয়েকজন ওপরের তলার নেতার সঙ্গেও। সু চি-র সঙ্গে বৈঠকের পর ক্যাথারিন অ্যাশটন আর সু চি এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা কথাও বলেছেন।
যে সাংবাদিক সম্মেলন প্রসঙ্গে ফরাসি সংবাদসংস্থা এজেন্সে ফ্রঁসে প্রেসে জানাচ্ছে, মিয়ানমারের উন্নয়নে যে পদ্ধতিগত কাজ শুরু করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তা আগামীতে আরও জোর আর গুরুত্ব পাবে বলে মন্তব্য করেছেন দুই নেত্রীই। এছাড়া ইয়াঙ্গনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের যে দপ্তরের বিষয়ে জানানো হয়েছে, তার বিশদ রূপরেখাও এই সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন অ্যাশটন।
বলা হয়েছে, ইউরোপের তরফে যেসব সহায়তা দেওয়া হবে মিয়ানমারকে, সেগুলির যথাযথ বিলিবণ্টন ছাড়াও মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বড়মাপের ভূমিকা নেবে এই দপ্তর।
আদতে মিয়ানমারের উন্নয়নের জন্য পশ্চিমা বিশ্বের সাহায্য সহায়তার দিকটি যথেষ্ট প্রয়োজনীয় উপাদান। যে কারণে গণতান্ত্রিক সংস্কারের ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে আগ্রহ দেখাচ্ছে মিয়ানমারের প্রশাসন।
সুচিকে মুক্তি দেওয়া, তাঁকে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করার পথ প্রশস্ত করা এবং তারপরে প্রশাসনে তাঁকে নিয়ে যাওয়া, এই সব পদ্ধতিগত সাফল্যের মধ্যে পশ্চিমা দুনিয়া স্পষ্ট নিজেদের ইচ্ছার এবং প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছে। প্রতিফলন আরও অনেক কিছুরই রয়েছে। যেমন ইউরোপ থেকে বিনিয়োগের সম্ভাবনার প্রতিফলন। পশ্চিমের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক তৈরির সম্ভাবনা। এইসব বিষয়গুলিও উঠে আসছে এবার আলোচনায়। দরিদ্র দেশ মিয়ানমার তাদের সার্বিক উন্নয়নে এসবকিছুই কাজে লাগাতে চায়।
সম্ভাবনা যেখানে তৈরি হয়েছে, সেখানে তারা কোন ইতিবাচক দিককেই নিজেদের অনুকূলে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবে না। তাছাড়া ইউরোপ তাদের সাহায্য সহায়তা নিয়ে মিয়ানমারের দিকে হাত বাড়ালে পশ্চিমের অন্যান্য ধনী দেশগুলির সেদেশে পৌঁছনো কিছুটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। সুতরাং অ্যাশটনের সফর তাই মিয়ানমারের জন্য অত্যন্ত আদৃত একটি বিষয়।
ক্যাথারিন অ্যাশটনের সফর শেষ হলেই যে মিয়ানমারের বিষয়ে কাজ শেষ হয়ে যাচ্ছে ইউরোপের, তা কিন্তু নয়।
ইয়াঙ্গনে মিয়ানমার প্রশাসনের একটি উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানাচ্ছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রধান ক্যাথারিন অ্যাশটন মিয়ানমারকে আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, আগামীতে গোটা বিশ্বের সঙ্গে মিয়ানমারের যোগসূত্র তৈরি করার কাজটিতে গুরুত্ব আরোপ করবেন তিনি। সে বিষয়ে বেশ বিশদে কিছু পরিকল্পনার কথাও তিনি জানিয়েছেন।
মিয়ানমারকে এবার মূলস্রোতে ফেরানোর বিষয়ে পশ্চিমের উদ্যোগ বেশ জোরেসোরেই শুরু হল। অ্যাশটনের সফরকে তাই সাফল্যমণ্ডিত বলা যেতেই পারে।

হট নিউজ -এর সকল খবর