

আসাদ বেহেস্তী
মানুষ মারার রাজনীতিতে
নেইতো কোনো দর্শন,
কিংবা গাড়ি ভাঙ্গা এবং
গুলি-বোমা বর্ষণ।
তবু যারা মানুষ মারে
চলে মহান নীতিতে,
তাদের দলে আমিতো নেই
কোনো রকম প্রীতিতে!
কাগজ ডেস্ক : বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা গোষ্ঠীর বিরোধিতা সত্ত্বেও কৃষিতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা খাদ্য নিরপাত্তা নিশ্চিত করব। আমাদের লক্ষ্য ২০১৩ সালের মধ্যে খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন করা।
রোববার সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘দাতাদের কথা শুনে বিএডিসিকে অনেক দুর্বল করে ফেলা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের আগের মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে দাতারা কৃষিতে ভর্তুকি কমাতে বলেছিল। আমরা বলেছিলাম, আমরা ভর্তুকি দেবই। আমরা কৃষিতে ভর্তুকি দেবই।’
বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহাজোট সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর নন-ইউরিয়া সারের দাম তিন দফা কমানো হয়েছে। এখন সার কৃষকের পেছনে ছুটছে। এজন্য আমি মাননীয় কৃষিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’
তিনি বলেন, বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি ২৫ শতাংশ কম মূল্যে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। এজন্য প্রায় তিনশ’ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রাসায়নিক সার, বিদ্যুৎ, সেচ কাজে ব্যবহৃত ডিজেল এবং আখ চাষীদের সহায়তার জন্য চলতি অর্থবছরে ভর্তুকি বাবদ ছয় হাজার পাঁচশ’ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার বিষয়টি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষি উৎপাদন বাড়িয়ে নিজেদের চাহিদা পূরণ করে তা যেন আমরা বিদেশে রপ্তানি করতে পারি। প্রক্রিয়াজাত খাদ্যও যেন আমরা রপ্তানি করতে পারি সেজন্য কাজ করতে হবে।
এসময় বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ এবং সবার জন্য পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণী সম্পদমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস এবং পরিবেশ ও বনমন্ত্রী হাছান মাহমুদ প্রমুখ।
পুরস্কার পেলেন যারা:
কৃষিতে মহিলাদের অবদানের জন্য নরসিংদীর রায়পুরার সাদিকুন নাহার শিউলী; মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ, বিতরণ ও সেচের আওতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি); নতুন ফল, সবজি ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র; কৃষি সম্প্রসারণে অবদানের জন্য সুনামগঞ্জের এস এম আফসারুজ্জামান স্বর্ণ পদক পেয়েছেন।
তারা প্রত্যেকে ২৫ গ্রাম ওজনের একটি সোনার পদক, ২৫ হাজার টাকা এবং একটি সম্মাননাপত্র পেয়েছেন।
কৃষি উন্নয়নে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও উদ্বুদ্ধকরণ, প্রকাশনা ও প্রচারণামূলক কাজের জন্য বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির কৃষি বিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক এ কে এম জাকারিয়া; কৃষি গবেষণায় অবদানের জন্য গাজীপুরের ডাল ও তেলবীজ গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা দোলেয়ার হোসেন (মরণোত্তর); কৃষিতে মহিলাদের অবদানের জন্য রংপুরের আনিসা বেগম; প্রকাশনা ও প্রচারের জন্য শরীয়তপুরের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম; কৃষি সম্প্রসারণে অবদানের জন্য রংপুরের পীরগঞ্জের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদিন এবং কুমিল্লার বুড়িচংয়ের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশীদ; ফল চাষে সফলতার জন্য গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার মো. সুজাউদ্দৌলা রৌপ্য পদক পেয়েছেন।
তাদের সবাই ২৫ গ্রাম ওজনের একটি রুপার পদক, ১৫ হাজার টাকা এবং একটি সম্মাননাপত্র পেয়েছেন।
গুণগত মানের মাছের পোনা উৎপাদনে জন্য ময়মনসিংহের এ কে এম নুরুল হক, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বনায়নের জন্য চাঁদপুরের নেছার আহম্মদ ও হবিগঞ্জ গ্যাস ফিল্ডের ব্যবস্থাপক এ বি এম নাছিমুজ্জামান; কৃষি সম্প্রসারণে অবদানের জন্য গাইবান্ধার মো. শওকত আলী; জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, নওগাঁর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আক্কাস আলী এবং রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল আলম; সমন্বিত খামার ব্যবস্থার জন্য নোয়াখালীর মো. সাহেদুর রহমান; কৃষিতে নারীদের অবদানের জন্য ঢাকার মোসাম্মৎ আনোয়ারা ও পাবনার নুরুন্নাহার বেগম, সমন্বিত কৃষিভিত্তিক খামার স্থাপনের জন্য মৌলভীবাজারের আশীষ কুমার পাল; কৃষিতে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য লক্ষ্মীপুরের নিজাম উদ্দিন ফারুকী; বাণিজ্যিকভিত্তিক মাছ চাষের জন্য পাবনার মো. হাবিবুর রহমান; ছাগল পালনের জন রাজশাহীর মো. মিজানুর রহমান; কৃষি গবেষণার অবদানের জন্য সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মো. আবুল মিয়া; কৃষিতে প্রযুক্তি হস্তান্তরে সাফল্যের জন্য সাতক্ষীরার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রঘুজিত কমার গুহ; সমাজ উন্নয়ন ও বনায়নের জন্য যশোরের মোকাররম হোসেন ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছেন।
তারা সবাই ২৫ গ্রাম ওজনের একটি ব্রোঞ্জের পদক, সাড়ে সাত হাজার টাকা এবং একটি সম্মাননাপত্র পেয়েছেন।

