

আসাদ বেহেস্তী
মানুষ মারার রাজনীতিতে
নেইতো কোনো দর্শন,
কিংবা গাড়ি ভাঙ্গা এবং
গুলি-বোমা বর্ষণ।
তবু যারা মানুষ মারে
চলে মহান নীতিতে,
তাদের দলে আমিতো নেই
কোনো রকম প্রীতিতে!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সঙ্কট নিরসনের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। এ লক্ষ্যে গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের এক হাজার ১৫৬ কোটি টাকা ছাড় করতে যাচ্ছে সরকার।
বাপেক্সসহ বিভিন্ন গ্যাস কোম্পানির তিনটি প্রকল্পে এ টাকা ব্যয় করা হবে। তহবিল গঠনের আড়াই বছরেরও বেশি সময় পর এই অর্থ ছাড় করার অনুমোদন দিয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। ১০টি অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কূপ খনন, শাহজীবাজার গ্যাসক্ষেত্রে একটি প্রসেসিং প্ল্যান্ট স্থাপন, সুনেত্র গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়নে বরাদ্দ দেয়া অর্থ ব্যয় করা হবে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের নীতিমালা অনুযায়ী প্রকল্প অনুমোদন হওয়ায় এখন চাইলেই কোম্পানিগুলোকে টাকা দেয়া হবে বলে জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ২০০৯ সালের ১ আগস্ট থেকে ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের দাম ১১ দশমিক ২২ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়। দেশের গ্যাসখাত লাভজনক হওয়ায় কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বর্ধিত দাম দিয়ে একটি তহবিল গঠনের পরমর্শ দেয়। গ্যাস খাতের অনুসন্ধান এবং খনি উন্নয়নের অর্থ সংকট দূর করার চিন্তাভাবনা থেকে বিইআরসিও গ্যাস উন্নয়ন তহবিল গঠনের নির্দেশ দেয়। কিন্তু শুধু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় গ্যাস উন্নয়ন তহবিল ব্যবহার নীতিমালা চূড়ান্ত না হওয়ায় এতদিন পেট্রোবাংলার এ্যাকাউন্টে অলস পড়েছিল এই টাকা। গত ফেব্রুয়ারিতে কয়েক দফা সংশোধন করার পর তহবিল ব্যবহারের নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। বর্তমানে গ্যাস উন্নয়ন তহবিলে এক হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা জমা রয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, বাপেক্স ১০টি কূপ খননের জন্য এক হাজার ১৪ কোটি টাকা এবং শাহজীবাজার গ্যাস ফিল্ড কর্তৃপক্ষকে দেয়া হবে ৪৫ কোটি। বাপেক্সের সুনেত্র গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নে এখান থেকে ৫১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গ্যাজপ্রমকে দিয়ে কাজ করানোর জন্য এক হাজার ২২৪ কোটি ২০ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেছে পরিকল্পনা কমিশন। গ্যাজপ্রমের সঙ্গে আগামী ২৬ এপ্রিল চূড়ান্ত চুক্তি করতে যাচ্ছে পেট্রোবাংলা। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পেট্রোবাংলার সঙ্গে রাশিয়ার জাতীয় গ্যাস কোম্পানি গ্যাজপ্রমের চুক্তি অনুমোদন করেছেন।
প্রকল্পের আওতায় তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ১৯, ২০, ২১, ২২ নম্বর কূপ ও রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্রের ৮ নম্বর কূপ উন্নয়ন করা হবে। আর বাপেক্সের বেগমগঞ্জ, শাহাবাজপুর, শ্রীকাইল, সেমুতাং ও সুন্দলপুর গ্যাসক্ষেত্রে পাঁচটি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হবে। পেট্রোবাংলা দাবি করছে ১০টি কূপ মিলে ২৫ থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে।
এ প্রসঙ্গে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর বলেন, যেহেতু গ্যাজপ্রম নিজেরাই রিগ নিয়ে এসে কূপ খননের কাজ করবে তাই খুব দ্রুত কাজ শেষ হবে। চুক্তির ১৮ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এর আগেই কাজ শেষ হবে। এতে দেশের গ্যাস সঙ্কট অনেকটা নিরসন হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে ২০০৮-০৯ মৌসুমে ব্লক ১১-তে নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জের তিন উপজেলায় বাপেক্স নিজস্ব অর্থায়নে ৩০৪ দশমিক ১৯ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক ভূতাত্ত্বিক জরিপ চালায়। জরিপের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ওই এলাকায় দুটি সম্ভাবনাময় গ্যাসস্তর চিহ্নিত করা হয়। এ সম্ভাবনাময় গ্যাস অঞ্চলটি আশাজাগানিয়া সুনেত্র। পরে ২০০৯-১০ অর্থবছরে আরও ২৫০ থেকে ৩০০ লাইন কিলোমিটার জরিপ চালানো হয়। বাপেক্স আশা করছে, গ্যাস পাওয়া গেলে ২০১৩ সালের মধ্যে ওই এলাকার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেয়া সম্ভব হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী দু’বছরে সুনেত্রতে তারা চারটি কূপ খনন করবে। যার প্রথমটির কাজ শুরু করার জন্য রিগ নেয়া হচ্ছে।
বাপেক্সের কর্মকর্তারা বলেন দেশের গ্যাস মজুদ দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য নতুন গ্যাস স্তর খুঁজে বের করা জরুরী। এ জন্য বাপেক্সের দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক জরিপ দল গঠন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রকল্পগুলোও অর্থায়নের অভাবে ঝুলে আছে। গ্যাস উন্নয়ন তহবিল থেকে এসব প্রকল্পে অর্থায়ন করা হলে গ্যাস খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

