

আসাদ বেহেস্তী
মানুষ মারার রাজনীতিতে
নেইতো কোনো দর্শন,
কিংবা গাড়ি ভাঙ্গা এবং
গুলি-বোমা বর্ষণ।
তবু যারা মানুষ মারে
চলে মহান নীতিতে,
তাদের দলে আমিতো নেই
কোনো রকম প্রীতিতে!
কাগজ ডেস্ক : গতকাল শনিবার বিডিআর বিদ্রোহে দায়ের করা মামলায় ৩৬ ব্যাটালিয়নের ৩১০ জনের মধ্যে এক রায়ে ৫২ জনকে সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছর কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
এছাড়া রায়ে দুজনকে সাড়ে ছয় বছর, ১৩ জনকে ছয় বছর, ৩১ জনকে পাঁচ বছর, ৫৩ জনকে চার বছর, পাঁচজনকে সাড়ে তিন বছর, ৫৮ জনকে তিন বছর, তিনজনকে আড়াই বছর, ৫০ জনকে দুই বছর, ৩৭ জনকে এক বছর, তিনজনকে ছয় মাস এবং দুজনকে চার মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।সর্বনিম্ন শাস্তিপ্রাপ্ত দুইজনকে ১০০ টাকা করে জরিমানাও করা হয়। এছাড়া একজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
গতকাল শনিবার পিলখানায় স্থাপিত বিশেষ আদালত-১০-এর বিচারক কর্নেল খোন্দকার ওবায়দুল আহসান এ রায় ঘোষণা করেন। এই মামলার অভিযোগ দায়ের করার প্রায় দুই বছর পর রায় প্রদান করা হলো।
রায় ঘোষণার আগে আদালতে আসামিদের হাজির করা হয়। মামলার প্রসিকিউটর মেজর সুজাউল হক আসামিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন।৩১০ আসামির মধ্যে ৬৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। তাদের সবার বিরুদ্ধেই ফৌজদারী আইনে বিচার হবে।বেকসুর খালাসপ্রাপ্ত আসামির নাম সিপাহী আব্দুর রশিদ। তার বিরুদ্ধে অন্য কোন মামলা না থাকলে তাকে চাকরিতে পূনর্বহাল করা হবে।
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্র“য়ারি ঢাকার পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ শুরু হয়, পরদিন ঘটে এর অবসান। পিলখানায় বিদ্রোহের সূত্র ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানেও জওয়ানরা বিদ্রোহ করে। রক্তক্ষয়ী এ বিদ্রোহে বিডিআর মহাপরিচালক মে. জে. শাকিল আহমেদসহ ৫৭ সেনা কর্মকর্তা নিহত হন।
রক্তাক্ত ওই বিদ্রোহের পর সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিডিআরের নাম পরিবর্তন হয়েছে, পরিবর্তন এসেছে পোশাকেও। এ বাহিনীর নাম এখন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি।
বিদ্রোহের প্রায় নয় মাস পর বিডিআর আইনে বিদ্রোহের বিচারের জন্য ২০০৯ সালের ১৫ নভেম্বর ছয়টি বিশেষ আদালত গঠন করা হয়। আসামির সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরে আদালতের সংখ্যা বাড়িয়ে ১০টি করা হয়।
এই সব আদালতের মধ্যে পিলখানায় স্থাপন করা হয় দুটি এবং ঢাকার বাইরে আদালত বসানো হয় আটটি। পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফৌজদারি আইনে সাধারণ আদালতে বিচার চলছে।
২০১০ সালের ১৫ মার্চ নায়েব সুবেদার গিয়াস উদ্দিন ৩৬ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের ৩১০ আসামির বিরুদ্ধে বিশেষ আদালতে বিদ্রোহের অভিযোগ দায়ের করেন। প্রায় ১১ মাস পর ২০১১ সালের ২২ ফেব্র“য়ারি এই মামলার অভিযোগ গঠন শেষে সাক্ষ্য গ্রহন শুরু হয়।
প্রথমে এই মামলাটি ‘বিশেষ আদালত-৫’-এ ছিল। পরে বিশেষ আদালত পুনর্গঠিত হওয়ার পর মামলাটি বিশেষ আদালত-১০ এ স্থানান্তর করা হয়।
পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিভিন্ন সেক্টরের মোট ১১টি মামলা হয়। এর মধ্যে এর আগে পাঁচটি মামলার রায় হয়েছে।

