

আসাদ বেহেস্তী
মানুষ মারার রাজনীতিতে
নেইতো কোনো দর্শন,
কিংবা গাড়ি ভাঙ্গা এবং
গুলি-বোমা বর্ষণ।
তবু যারা মানুষ মারে
চলে মহান নীতিতে,
তাদের দলে আমিতো নেই
কোনো রকম প্রীতিতে!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে দুইটি আত্মঘাতী গাড়িবোমা বিস্ফোরণে অন্তত ৫৩ জন নিহত এবং ৩৭০ জন আহত হয়েছে। সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে সকালের ব্যস্ত সময়ে আÍঘাতী গাড়িবোমা হামলাকারীরা এ বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে লোকজন কর্মস্থলে যাওয়ার সময় দামেস্কের দক্ষিণে আল-কাজ্জাজ এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে বলে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়। মহাসড়কের পাশে এ বিস্ফোরণে সিরিয়ার গোয়েন্দা বাহিনীর একটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায়, একটি বিস্ফোরণস্থল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ডজনখানেক গাড়ি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সেগুলোর কয়েকটির ভিতরে মৃতদেহ পড়ে আছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৮টার অল্প কিছুক্ষণ আগে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটার পরপরই বিকট শব্দে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণস্থলে পুড়ে যাওয়া গাড়ি এবং ছিন্নবিচ্ছিন্ন মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে টেলিভিশন ফুটেজে। রাস্তায় দেখা গেছে দু’টি বড় গর্তও।
জানা যায়, সেনা গোয়েন্দা দপ্তরের মূল ভবনের প্যালেস্টাইন ব্রাঞ্চ লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়। হামলায় মূল ভবনের ভিত নড়ে গেলেও কোনও চিড় বা ফাটল ধরা পড়েনি। কিন্তু ভবনটির চারদিকের দেওয়াল পুরো ধসে গিয়েছে। বাড়িটির বেশিরভাগ কাচ ভেঙে গিয়েছে।
যে জায়গায় হামলা চালানো হয়েছে সেখানে রয়েছে ১০ তলা উঁচু সামরিক গোয়েন্দা ভবন ও সদরদপ্তর। এর পাশেই রয়েছে আরেকটি সামরিক নিরাপত্তা গোয়েন্দা ভবন। বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হয়েছে এটিও।
এ ভবনটি সিরিয়ার প্যালেস্টাইন ব্রাঞ্চ সামরিক গোয়েন্দা কেন্দ্রেরই অংশ। বোমা বিস্ফোরণে এ কেন্দ্রের ফটকও সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এক অধিবাসী।
গৃহযুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ায় জাতিসংঘের শান্তিবাহিনীর প্রধান নরওয়ের মেজর জেনারেল রবার্ট মুড জানিয়েছেন, এভাবে কোনওদিন কোনও সমস্যার সমাধান হবে না। সমস্যা বেড়েই যাবে। শুধু শুধু নিরীহ শিশু ও মহিলারা মারা যাচ্ছেন। সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জিহাদ মাকদিসি তাঁর ফেসবুক পেজের মাধ্যমে জনগণের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, সবাই যেন জখমদের বাঁচাতে রক্ত দিতে হাসপাতালের ছুটে যান। দামাস্কাস শহরে প্রাণকেন্দ্রে এখন কার্যত কার্ফু। টহল দিচ্ছে সেনা। বিস্ফোরণের পর যেন শ্মশানের শান্তি নেমে এসেছে পুড়ে কালো হয়ে যাওয়া একটা শহরে।

