

আসাদ বেহেস্তী
ফের এসেছে হরতাল ভাই
তাই পেছালো কাজ,
এটা ছাড়া নেই হাতিয়ার
তাইতো লাগে লাজ!
গণতন্ত্রের অনেক ভাষা
অনেক হাতিয়ার,
আসুন সবাই নতুন ভাবি
দেশ করি উদ্ধার।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র বাহরাইনের কাছে আবারও অস্ত্র রফতানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটিতে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে গণতন্ত্রের দাবিতে বিক্ষোভ চলে আসছে। এই অবস্থায় মার্কিন সরকার কিছু কাটছাঁট করে বাহরাইনের কাছে অস্ত্র বিক্রির কথা জানালো।
গত বছরের ফেব্র“য়ারি-মার্চ থেকে বাহরাইনে গণতন্ত্রের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে জনগণ। রাজধানী মানামা সহ দেশের বিভিন্ন জায়গাতে হাজার হাজার মানুষ দেশটির শাসন পদ্ধতিতে সংস্কারের দাবি জানায়। বিশেষ করে বিক্ষোভরত জনতার একটি বড় অংশই ছিল নারী। এই অবস্থাতে জনতার ওপর দমন পীড়ন শুরু করে বাহরাইন সরকার।
ব্যাপক দমন চালানোর মাধ্যমে গত এক বছরে এই আন্দোলন প্রায় থামিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে তারা। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, গত এক বছর বাহরাইনে অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও বহু মানুষ। শুধু বিক্ষোভকারীদের ওপর নয়, যারা আহতদের চিকিৎসা করেছে সেসব চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে বাহরাইন সরকার। আর সে সরকারকে সহায়তা করতে সেনা সদস্য পাঠায় প্রতিবেশী সৌদি আরব। গণতন্ত্রকামী মানুষের ওপর দমনাভিযানে প্রবল সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই পরিস্থিতিতে গত বছর দেশটিতে অস্ত্র রফতানি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ওবামা প্রশাসন। তবে গত শনিবার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে আবারও দেশটিকে অস্ত্র দেওয়ার কথা জানালো তারা।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রী ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড জানিয়েছেন, তারা বাহরাইনকে ক্ষেপণাস্ত্র এবং সাঁজোয়া যান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এবং জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য ব্যবহৃত হয়, এমন কোন কিছু তারা বিক্রি করবেন না। তবে বার্তা সংস্থাগুলোর খবর, এর বাইরেও ওয়াশিংটন বাহরাইনকে ফ্রিগেট রণতরী, বন্দর প্রতিরক্ষায় নৌযান এবং জঙ্গি বিমানের ইঞ্জিন সরবরাহ করতে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত বাহরাইন মার্কিন পঞ্চম নৌ বহরের সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গত ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটি মার্কিন বাহিনীর প্রতিরক্ষা কৌশলের অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে ইরানকে ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাহরাইন অন্যতম কৌশলগত অংশীদার। তাই দেশটিতে গণতন্ত্রকামীদের ওপর দমন পীড়ন চললেও সেই বিষয়ে কড়া অবস্থান নিতে নারাজ যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে মার্কিন ডেমোক্র্যাট সেনেটর প্যাট্রিক লিহি সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, বাহরাইনের নিরাপত্তা বাহিনীকে অস্ত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত মানুষের কাছে ভুল বার্তাই পাঠাবে।

