

আসাদ বেহেস্তী
বাজেট করতে পাশ
সংসদ বসছে,
এই নিয়ে কেউ কেউ
অংকটা কসছে!
অংকের মারপ্যাচে
পিষে যত যন্ত্র,
বাঁচবার মন্ত্রটা
যপে গণতন্ত্র!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বার্লিনে সামরিক কুচকাওয়াজের মাধ্যমে গত শুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভাদিমির পুতিনকে স্বাগত জানিয়েছেন। এসময় অবশ্য চ্যান্সেলর কার্যালয়ের সীমানার বাইরে ছিল সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ, বিক্ষোভ। সিরিয়ায় সহিংসতা দমনে জাতিসংঘের উদ্যোগে এক বড় বাধা রাশিয়া। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এই সদস্য সিরিয়ার উপরে কড়া বিধিনিষেধ আরোপের পক্ষে নয়। ফলে নিরাপত্তা পরিষদে এসংক্রান্ত প্রস্তাবের বিপক্ষেই অবস্থান সেদেশের। এই নিয়ে যখন পশ্চিমা বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা, তখনই জার্মানি, ফ্রান্স সফর করছেন পুটিন। তৃতীয়বার ক্রেমলিনে ফেরার পর এটাই তাঁর প্রথম বার্লিন সফর।
বার্লিনে দুই নেতার বৈঠকে ‘সিরিয়া’ বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে, এমনটা বোঝা গিয়েছিল আগেই। বৈঠক শেষে সেদিকেই ইঙ্গিত দিলেন চ্যান্সেলর ম্যার্কেল। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ম্যার্কেল জানান, তিনি এবং পুতিন দু’জনই রাজনৈতিক পথে সিরিয়া সংকটের সমাধান চান। ম্যার্কেল বলেন, হুলায় সর্বশেষ হত্যাকাণ্ড আরো একবার সিরিয়ায় ভয়ংকর মানবিক বিপর্যয় এবং সেদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘণের বিষয়টি ফুটিয়ে তুলেছে।
তিনি বলেন, ‘‘আমরা দু’জনই একটি বিষয় পরিষ্কার করেছি যে, আমরা রাজনৈতিক সমাধান চাই এবং আনান এর পরিকল্পনাকে এক্ষেত্রে স্টার্টিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। কিন্তু আমাদের সর্বশক্তি এবং ক্ষমতা নিয়ে কাজ করতে হবে, বিশেষ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেণ্ড আনানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এবং প্রয়োজনে অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করতে হবে।”
বৈঠক শেষে পুতিন বলেন, ‘‘সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের শঙ্কা তৈরি করছে এরকম কোন পক্ষকেই সমর্থন করছি না আমরা। সিরিয়ার উপর কোন ধরনের শক্তি প্রয়োগেও রাজি নয় রাশিয়া।”
এর আগে, জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডো ভেস্টারভেলে বলেন, ‘‘আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, রাশিয়ার বোঝা উচিত আমরা যখন সিরিয়ায় সহিংসতা বন্ধে করতে চাইছি, তখন আসলে রাশিয়ার কৌশলগত সুবিধার বিরোধিতা করছি না।’’
তিনি বলেন, সিরিয়া সংকটে রাশিয়া এবং আসাদ শাসক গোষ্ঠীর প্রতি সেদেশের মনোভাব বড় ভূমিকা পালন করছে। তবে সিরিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপের ব্যাপারে সতর্ক মনোভাব প্রকাশ করেছেন ভেস্টারভেলে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক পথ কঠিন হলেও সংকট নিরসনে আমাদেরকে সে পথেই আগাতে হবে।
ম্যার্কেল যখন বার্লিনে পুতিনকে স্বাগত জানান, তখন তাঁর কার্যালয়ের বাইরে কিছু মানুষ ছিল প্রতিবাদ মুখর। সেখানে একজনের হাতে রাশিয়ার পতাকার আদলে একটি ব্যানার শোভা পাচ্ছিল যাতে রাশিয়ান ভাষায় লেখা রয়েছে ‘পুতিন একজন চোর’। শুক্রবার দুপুরে বেলারুস থেকে বার্লিনে পৌঁছান পুতিন। এখান থেকে আবার প্যারিসে গন্তব্য তাঁর।
সিরিয়ার হুলা হত্যাকাণ্ডের পর বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ সিরিয়ার রাষ্ট্রদূতদের বহিষ্কার করেছে। কিন্তু রাশিয়া এবং চীন এখনো সিরিয়ার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। রোববার অবশ্য হুলা হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাতে জাতিসংঘের প্রস্তাবে সম্মত হয় দেশ দুটি। কিন্তু আপাতত সিরিয়ার বিরুদ্ধে এটুকু পদক্ষেপকে যথেষ্ট মনে করছে রাশিয়া।
