http://www.gramerkagoj.com/

আর্কাইভ

আসাদ বেহেস্তী
ফের এসেছে হরতাল ভাই
তাই পেছালো কাজ,
এটা ছাড়া নেই হাতিয়ার
তাইতো লাগে লাজ!
গণতন্ত্রের অনেক ভাষা
অনেক হাতিয়ার,
আসুন সবাই নতুন ভাবি
দেশ করি উদ্ধার।

কালামের জন্য সমর্থন চেয়ে ফেসবুকে মমতার অ্যাকাউন্ট
    A+ A A-

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি রাষ্ট্রপতি পদে এ পি জে আব্দুল কালামকে আসীন করার জন্য শেষমেশ ফেসবুককেই হাতিয়ার করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জীবনের প্রথম ফেসবুক পোস্টে কবি রবীন্দ্রনাথের কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো কালামকে সমর্থন করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানালেন।
ফেসবুক আর তৃণমূলের সম্পর্কের কথা কারও অজানা নয়। কিছুদিন আগেও তিনি ফেসবুকের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেছিলেন। তার দলীয় কর্মীরা ফেসবুককে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। ফেসবুকের বিরুদ্ধে কার্যত জেহাদ ঘোষণা করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কুখ্যাত কার্টুন কাণ্ডের পর নেত্রী অভিযোগ করেছিলেন ইচ্ছাকৃতভাবে তার ও তার দলের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে। মিথ্যে কথা ও অপপ্রচার চালিয়ে সরকারের ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে। আর এই কাজে মদত দিচ্ছে কিছু রাজনৈতিক দল। এক অধ্যাপক সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে করা হয়েছিল মামলাও। কিন্তু তাতেও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে কার্টুন বা ব্যঙ্গচিত্রের কোনও ভাঁটা পড়েনি। উল্টো তা আরও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়। কিন্তু আজ সেই অধ্যায়কে পেছনে ফেলে সেই ফেসবুককেই কাছে টেনে নিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।
ফেসবুকের ক্ষমতা নিয়ে এখন সবাই যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। মিশর আন্দোলন হোক বা দেশের মাটিতে লোকপাল নিয়ে বিতর্ক মানুষের মনে বিরাট প্রভাব ফেলেছে ফেসবুক। এই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট যেকোনো আন্দোলেন সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এসেছে। ইতিহাস সাক্ষী মিশরের গণঅভ্যুত্থানের লড়াইয়ের সূচনা হয়েছিল এই ফেসবুক থেকেই। স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে আমি তাহরির স্কোয়ার যাচ্ছি... এই ছোট্ট কথাটি মিশরের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে সেই সঙ্গে থাকবে ফেসবুকের নামও।
ফেসবুক কী করতে পারে তা বিলক্ষণ জেনে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এও জানেন এই মুহূর্তে দেশের আপামর যুব সমাজের সঙ্গে একসঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে গেলে ফেসবুকের জুড়ি মেলা ভার। তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে যখন জাতীয় রাজনীতির প্যাঁচে পড়ে গিয়েছেন তখন ত্রাতা হিসেবে ফেসবুককেই অবলম্বন করেছেন তিনি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে যখন সারা দেশের মিডিয়া মাতামাতি করছে তখন এই পরিস্থিতিতে একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা গণমাধ্যম বলে স্বীকৃত ফেসবুক কী কখনও পিছিয়ে থাকতে পারে? এই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট খুললেই রাইসিনা হিলসের লড়াই নিয়ে বিভিন্ন লেখা চোখে পড়তে বাধ্য। রাষ্ট্রপতি ভবনের ভাবী বাসিন্দা হিসেবে দেশের যুবসমাজ কাকে চান সে বিষয়ে বিভিন্ন জন তাদের মতামত জানিয়ে দিয়েছেন।
বর্তমান প্রজন্ম ফেসবুকের মাধ্যমে নিজেদের রায় দিচ্ছে দেখে বিষয়টিকে অত্যন্ত সুকৌশলে নিজের পছন্দ এপিজে কালামের জন্য জনগণকে আহ্বান জানানোর কাজে ব্যবহার করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলনেত্রী তাই তার জীবনের প্রথম পোস্টে কবিগুরুর চিত্ত যেথা ভয়শূন্য উচ্চ যেথা শির... দিয়ে শুরু করে খোলাখুলি কালামকে সমর্থন করে লেখেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নিয়ে দেশের কোটি কোটি মানুষের পছন্দকেই আমি আওয়াজ দিয়েছি।
পাশাপাশি নিজের সম্পর্কে জানাতে গিয়ে নেত্রী বলেছেন, “আমার দল একটি ছোট্ট দল। কোনো বড় দল নয়। অন্যান্য বড় দলের মতো আমাদের সামর্থ্যও নেই।” এর সঙ্গেও তিনি ফের জানিয়ে দেন কালামকে পছন্দ করে তিনি কোনো ভুল করেননি। এখনও সেই জায়গাতেই তিনি অনড়। মমতা বলেন, “আমরা সত্য অবলম্বন করে চলার চেষ্টা করি। জীবনে সর্বদা নীতিকে সঙ্গে করে লড়াই করেছি। আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল।”
এর সঙ্গে তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে দেশের যুবসমাজের প্রতি আহ্বান করে কালামকে রাষ্ট্রপতি করার জন্য সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদন করতে বলেন। মমতা তার পোস্টে লেখেন, “উঠে দাঁড়ান। আপনারা আওয়াজ তুলুন। আমি আপনাদের ইচ্ছেকে সম্মান করি।” পাশাপাশি কালামের উদ্দেশে বলেন, তিনি সত্যান্বেষী, জ্ঞানের ভাণ্ডার এবং প্রকৃত নিরপেক্ষ। সবচেয়ে বড় কথা তিনি সংকীর্ণ রাজনীতির ঊর্ধ্বে।

হট নিউজ -এর সকল খবর