

আসাদ বেহেস্তী
নিম্নের চাপ শেষে
লঘুচাপ আসছে,
তার চাপে কৃষকের
ফসলটা ভাসছে।
ভেসে যায় ঘর-বাড়ি
ভেসে যায় সম্বল,
রিলিফেতে মেলে রুটি
আর দু’টো কম্বল!
কাগজ ডেস্ক : ‘শান্তির জন্য খাদ্য কর্মসুচি’র আওতায় আমেরিকা কর্তৃক বাংলাদেশকে দেয়া ৬০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যপণ্য আনুষ্টানিকভাবে খালাস ও হস্তান্তর উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন সাইলো প্রঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিকোলাস ডিন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকাস্থ আমেরিকান দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত নিকোলাস ডিন বলেছেন, বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরে সাম্প্রতিক শ্রম অসন্তোষের সঙ্গে আমেরিকার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা নেই।
তিনি বলেন, আমেরিকা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী হিসাবে কোনো ধরনের নৈরাজ্য আর সন্ত্রাসকে সমর্থন করে না।
তিনি বলেন, উন্নয়নের অপরিহার্য শর্ত হিসাবে আমেরিকা বাংলাদেশের সর্বক্ষেত্রে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা কামনা করেন। এ কারণেই আমেরিকা দেশের প্রধান অর্থনৈতিক খাত গার্মেন্টস সেক্টরেও একটি শান্তিপুর্ন ও উৎপাদন-বান্ধব স্থিতিশীল পরিবেশ চায়।
সম্প্রতি আশুলিয়াসহ ঢাকার আশেপাশে তৈরি পোষাক শিল্প কারখানার শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে প্রভাবশালী একটি দেশের ইন্ধন রয়েছে। সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী যে অভিযোগ করেছেন সে দেশটি আমেরিকা না ভারত এবং এক্ষেত্রে আমেরিকার অবস্থান কি এমন প্রশ্নের জবাবে ডিন বলেন, “তৈরি পোশাক খাত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চালিকা শক্তি হিসাবে ভুমিকা রাখেছে। বন্ধুরাস্ট্র ও উন্নয়ন সহযোগী হিসাবে আমেরিকা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে নানাভাবে অবদান রাখেছে।”
খাদ্য সহায়তার চাইতেও বাংলাদেশের বেশি প্রয়োজন জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো উন্নয়নে প্রত্যক্ষ সাহায্য। খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন অনেকটা স্বয়ংসম্পর্ন। তারপরেও আমেরিকা কেন খাদ্যপণ্য সহায়তায় অগ্রাধিকার দিচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে নিকোলাস ডিন বলেন, “গণতান্ত্রিক প্রতিষ্টানসমুহের প্রসার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জলবায়ু অভিযোজন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলাসহ দরিদ্র্য জনগোষ্টির জীবনমান উন্নয়ন সামগ্রিক অর্থনেতিক উন্নযনেরই অংশ। আর শান্তির জন্য খাদ্য কর্মসূচির মাধ্যমে এ কাজগুলোই সম্পন্ন করা হচ্ছে।”
এছাড়াও বাংলাদেশের জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো উন্নয়নে আমেরিকা অব্যাহত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। নতুন তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রের উন্নয়ন , পল্লী বিদ্যুতায়ন, এনার্জি রেগুলেটরি খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বন্দর, সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে যুক্তরাস্ট্র বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা প্রদান করছে বলে ডিন উল্লেখ করেন।
এসব খাতসমূহে শুধুমাত্র সরকারকে নয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতক উন্নয়নে অবদান বাড়াতে আমেরিকা বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও এখাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষে উল্লেখযোগ্যভাবে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

