

আসাদ বেহেস্তী
মানুষ মারার রাজনীতিতে
নেইতো কোনো দর্শন,
কিংবা গাড়ি ভাঙ্গা এবং
গুলি-বোমা বর্ষণ।
তবু যারা মানুষ মারে
চলে মহান নীতিতে,
তাদের দলে আমিতো নেই
কোনো রকম প্রীতিতে!

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি : নওগাঁর মান্দা উপজেলার চকগোপাল মাঠে বিবাদমান জমির ধান কাটতে গিয়ে শুক্রবার দুপুরে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় শ্রীকৃষ্ণ (৩২) নামে আরও এক আদিবাসী শ্রমিকের মৃত্য হয়েছে। এ নিয়ে ওই ঘটনায় হিতের সংখ্যা দাঁড়ালো- চার। শনিবার ভোর রাতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শ্রীকৃষ্ণ মারা যান। তিনি নিয়ামতপুর উপজেলার পুঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা।
এ দিকে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনায় শুক্রবার রাতে ডালিমের ভাই আব্দুস সালাম বাদি হয়ে চকগোপাল ও পাশের ৩ টি গ্রামের ৩৬ জনের নামে এবং অজ্ঞাত আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলা হবার পর পুলিশ রাতে অভিযান চালিয়ে ৪ আসামীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, চকগোপাল গ্রামের মৃত বয়তুল্যার ছেলে আশরাফ আলী (৪৫), আব্দুল জব্বার (৪২), আব্দুল জব্বারের ছেলে শাহীনূর রহমান (২২) ও পাশের নওগাঁ সদর উপজেলার কাকলাসী গ্রামের মৃত তুমজ উদ্দীনের ছেলে জাফের আলী (৪৮)।
মান্দা থানার ওসি আব্দুল্লাহেল বাকি জানান, নওগাঁর পুলিশ সুপার ওয়াই এম বেলালুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমার উজ জামান, সহকারী পুলিশ সুপার (মহাদেবপুর-মান্দা) শরীফ উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাওসার জাহান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি আরও জনান, নির্ভূল তদন্ত চলছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
উল্লেখ্য, ১০ বিঘা জমি নিয়ে চকগোপাল গ্রামের কৃষক আনোয়ার ও ডালিমের সাথে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। এ নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। চলতি বোরো মওসুুমে আনোয়ার জমি গুলোতে ধান রোপন করলেও ডালিম এক দল ভাড়া করা আদিবাসী শ্রমিক নিয়ে পাকা ধান কাটতে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। তাদের মধ্যে প্রায় ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলে। এতে আনোয়ারের লোকজনের আঘাতে মহারাম (৫০), মদন (৪৫) ও ইলিয়াস (৪৮) নামে তিন আদিবাসী শ্রমিক ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এদিকে ঘটনার পর থেকে চকগোপাল গ্রামে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে জানান ওসি।

