http://www.gramerkagoj.com/

আর্কাইভ

আসাদ বেহেস্তী
ফের এসেছে হরতাল ভাই
তাই পেছালো কাজ,
এটা ছাড়া নেই হাতিয়ার
তাইতো লাগে লাজ!
গণতন্ত্রের অনেক ভাষা
অনেক হাতিয়ার,
আসুন সবাই নতুন ভাবি
দেশ করি উদ্ধার।

নওগাঁর পত্মীতলায় ডিপ অপারেটরের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ
    A+ A A-

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি : নওগাঁর পত্মীতলায় শিহাড়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের গভীর নলকূপের এক অপারেটরের বিরুদ্ধে বোরো ক্ষেত্রে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর তার এই স্বেচ্ছাচারিতার কারণে প্রায় ৫০ জন কৃষকের শতাধিক বিঘা জমির ধান পুড়ে গেছে। এ সকল ধানের অর্ধেকও কৃষকরা ঘরে তুলতে পারবেন না। উপজেলা জুড়ে যখন কৃষকরা ধান কাটার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তখন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা বসে থেকে হা-হুতাশ করছেন। ধান পুড়ে যাওয়ায় মহাজনদের কাছ থেকে নেওয়া ধার-দেনা কিভাবে শোধ করবেন, পরিবার-পরিজন নিয়ে কিভাবেই বা জীবণ ধারণ করবেন তা নিয়ে কৃষকরা সংশয়ে রয়েছেন। এ ঘটনায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্ত্তৃপক্ষ ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সাথে কথা বলেছেন।
সোমবার দুপুরে সরেজমিনে জামালপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, গভীর নলকূপের আওতায় গ্রামের প্রায় ৫০ জন কৃষক ২শত ৫৫ বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপণ করেন। যার অপারেটর হিসাবে নিয়োগ করা হয় অলিউল আহাদ ওরফে আহাদ আলী হাজীকে। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে কৃষকদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে সে নিজ ইচ্ছামতো �ক্রীমে জমির পরিমাণ বাড়াতে থাকেন। এতে ডিপের উপর পড়ে যায় বাড়তি চাপ। এছাড়া উক্ত ডিপ টিউবওয়েল থেকে প্রায় ৫০টি বাড়িতে পানি সরবরাহ করা হয়। কৃষকরা প্রতি বিঘা জমির পানির খরচ হিসাবে অপারেটরকে ১হাজার ২শত টাকা ইতিমধ্যে পরিশোধ করেছে। এছাড়াও অনেকেই অতিরিক্ত আরো ১শত টাকা করে প্রদান করলেও বেশ কিছুদিন থেকে অপারেটর পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করেন। বিদ্যুৎ থাকার পরও তিনি ডিপ ঘরে তালা দিয়ে ঘুরে বেড়ান, লো-ভোল্টেজ থাকার কারণে মটার চলবে না, পার্টস নষ্ট হয়েছে ইত্যাদি ভাবে সময় ক্ষেপণ করতে থাকেন। এদিকে পানির অভাবে পুড়তে থাকে কৃষকদের ক্ষেতের ধান। কৃষকরা অভিযোগে আরো জানান, তাদের ধানে আহাদ আলী পানি না দিলেও তার নিজের ও আত্মীয় স্বজনদের লাগানো জমিতে ঠিকই পানি দেওয়ায় তাদের ধান ভাল হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্থ কৃষাণী শহিদা জানান, ডিপ ঘর থেকে তার জমির র্দুত্ব মাত্র ২০গজ হলেও তাকে পানি না দেওয়ায় ধান পুড়ে বিবর্ণ হয়ে গেছে। এছাড়াও খোতে রাণীর ৩বিঘা, বকুল ৪বিঘা, ওয়াহেদ আলী ২বিঘা, মিলন ৫বিঘা, মজিবুল ৩বিঘা, রকিবুল ৯বিঘা, খালেক ৩বিঘা, সিদ্দিকুর ২বিঘা, আঃ করিম ৫বিঘা, আবু তাহের ৪বিঘা সহ অনেকেই জমিতে বোরো লাগিয়েছেন। পানির অভাবে প্রত্যেকের ধান পুড়ে যাওয়ায় তারা অর্ধেক ধানও ঘরে তুলতে পারবেন না। ফলে তারা চরম হতাশ হয়ে পড়েছে।
বিষয়টি জানার পর সোমবার দুপুরে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্ত্তৃপক্ষের (বিএমডিএ'র) উপ-সহকারী প্রকৌশলী, উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার ও ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা তাদের সামনে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ক্ষতিপূরণের দাবী জানান। তারা সমিতির ভিত্তিতে ডিপ পরিচালনার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি দাবী জানান। উদ্ভুত পরিস্থিতে কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রন্থ কৃষক ও অপারেটর আহাদ আলীকে নিয়ে এক বৈঠকে মিলিত হন। কিন্তু অপারেটর আহাদ আলী সহযোগিতা না করায় বৈঠকটি অমিমাংসিত ভাবে শেষ হয়। এ বিষয়ে শিহাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অপারেটর আহাদ আলীর অতিরিক্ত মুনাফার লোভ ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষককে ক্ষত্রিগ্রস্থ হতে হলো। অন্যদিকে অপারেটর আহাদ আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আনিত অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয়। এ পর্যন্ত সাতবার মেশিন নষ্ট হয়েছে এবং ৭বার মেরামত করা হয়েছে। যা বিএমডিএ কর্ত্তৃপক্ষকে অবগত করানো হয়েছে। ২৫৫ বিঘার স্ক্রীমের মধ্যে ২/৩ বিঘা বোরো ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি জানান, এই স্ক্রীমে তার নিজেরও ৪০ বিঘা জমি আছে। স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনকে সামনে রেখে শুধুমাত্র রাজনৈতিকভাবে তাকে ছোট করার জন্য একটি বিশেষ মহল এই প্রচারণা চালাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সারাদেশ -এর সকল খবর