

আসাদ বেহেস্তী
মানুষ মারার রাজনীতিতে
নেইতো কোনো দর্শন,
কিংবা গাড়ি ভাঙ্গা এবং
গুলি-বোমা বর্ষণ।
তবু যারা মানুষ মারে
চলে মহান নীতিতে,
তাদের দলে আমিতো নেই
কোনো রকম প্রীতিতে!
মনিরুজ্জামান পলাশ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) থেকে : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষনের তিনদিন পর শ্বাষরোধ করে হত্যার অভিযোগ করে তার বাবা। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের জয়দরকান্দি গ্রামের পশ্চিম পাড়ায়। ঘটনাটিকে ধামা চাপা দিতে সালিশ নাটক ও টাকা বন্টনের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য লাশ উদ্ধার করে গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে থানায় নিয়ে আসে।
পরিবারের লোকজনের অভিযোগকরে বলেন, অজুফা আক্তারকে(২০) প্রতিবেশী বখাটে জসিম উদ্দিন (২০) পিটিয়ে ও গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে তার লাশ বসতঘরে ঝুলিয়ে রাখে। ঘটনার পর জসিম উদ্দিন ও তার পরিবারের লোকজন গা ঢাকা দিয়েছেন।
পুলিশ, গ্রামবাসী ও পরিবারের লোকজন জানান, জয়দরকান্দি গ্রামের জয়দর আলীর মেয়ে জয়দরকান্দি পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী অজুফা। গত কয়েক মাস যাবৎ প্রতিবেশী রাজ্জাক মিয়ার বখাটে ছেলে জসিম উদ্দিন অজুফাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। জসিমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিদ্যালয়ে আসা- যাওয়ার পথে মেয়েটিকে সে প্রায়ই উত্যক্ত করতো। মাঝে মধ্যে অজুফাকে সে কু-প্রস্তাব ও দিতো। জসিমরা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে মুখ খোলার সাহস পেত না অজুফার পরিবারের লোকজন। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ৯ টার দিকে ওই ছাত্রীকে জসিম উদ্দিন জোর পূর্বক ধর্ষণ কালে পরিবারের লোকজন তাকে আটক করে। এ ঘটনা ধামা চাপা দিতে গ্রামে একাধিক সালিস বৈঠক বসে।
অজুফার মা মিন্নিয়া বেগম বলেন, গত সোমবার দিবাগত রাত ১০ টার দিকে জসিম উদ্দিন অজুফাকে তার বসত ঘরে প্রথমে হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। গত মঙ্গলবারও ভোর থেকে পরিবারের লোকজন বসতবাড়ির অদুরে ধানকাটা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। বেলা ১১ টার দিকে অজুফা তার মা ও নানীর জন্য খাবার পানি আনতে ঘরে গেলে জসিম উদ্দিন তাকে গলায় দড়ি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। সন্তানের নির্মম ও বেদনা দায়ক মৃত্যু কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। তিনি বার বার চিৎকার করছেন আর মূর্ছা যাচ্ছেন। জয়দর আলী সহ গ্রামের একাধিক ব্যাক্তি জানান, ঘটনার পর স্থানীয় চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠক বসে। নিজের দোষ স্বীকার করে বখাটে জসিম। দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন সালিশকারকরা। দেড় লাখ টাকা অজুফার পরিবার আর ৫০ হাজার টাকা থানা পুলিশের। সালিশের রায় মানেননি জয়দর আলী।
পাকশিমুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী মোজাম্মেল হক বলেন, ধর্ষনের বিষয়টি শুনেছি। হত্যার বিষয়টি সত্য। প্রশাসনের পেছনে ৫০ হাজার টাকা খরচ করে ফেলেছি। আর দেড় লাখ টাকা এক জনের কাছে জমা আছে। বিষয়টি নিস্পত্তি করে ফেলেছিলাম। অন্যের প্ররোচনায় মেয়ের বাবা এমনটি করছে।
অজুফার বাবা জয়দর আলী কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার মাইয়াডারে জসিম খুন করছে। আমি বিষয়ডা থানা পুলিশরে জানাইবার জন্য সারা দিন চেষ্টা কইরা ফারি নাই। ইউপি চেয়ারম্যন মোজাম্মেল হক ও গ্রামের সর্দার আলফু মিয়া, মন্নর আলী ও সফর আলী বার বার কইছে থানারে জানাইয়া লাভ নাই । তারা আমারে দুই লাখ টেহা দেওয়ার প্রস্তাব দিছে। অজুফার বাবা বলেন, আমরা মামলার প্রস্তুতি নিছিলাম। ফরে হুনি পুলিশ বাদী অইয়া অপমৃত্যুর একটা মামলা দিছে। পুলিশ আমার কথার কোন গুতুত্ব দিছে না।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যাবস্থা নিব। টাকা লেন দেনের কোন বিষয় আমার জানা নেই।

