

আসাদ বেহেস্তী
রক্ষা করতে জনগণের
জীবন এবং পণ্য,
মিছিল-মিটিং বন্ধ রবে
একটি মাসের জন্য।
গণতন্ত্রে আছে নাকি
এমন রেওয়াজ বেশতো,
জনমনে এসব কিছুর
থাকবে লেগে রেশতো!
মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি : বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃত্বের মারপ্যাচে সাধারন শ্রমিকদের বারোটা বাজছে। শ্রমিকদের দ্বি-বার্ষিক চুক্তি নবায়নের সময় আট মাস আগে অতিবাহিত হলেও চা-শ্রমিক ইউনিয়ন দুটি দলে বিভক্ত হওয়া ও আইনি জটিলতার কারণে চুক্তি নবায়নের বৈঠক বসেনি। ফলে মালিক - শ্রমিক চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়নি। গত আট মাসে দেশের ১৬৫টি বাগানে লক্ষাধিক শ্রমিক তাদের বর্ধিত সুবিধার প্রায় ১০ কোটি টাকা ন্যায্য পাওনা জমে গেছে। এতে কপাল পুড়ছে সাধারন শ্রমিকের আর লাভবান হচ্ছেন মালিক পক্ষ। তবে চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার জন্য সাধারন চা শ্রমিকরা দোষারোপ করছেন চা-শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাদের। অচিরেই চা শ্রমিক ইউনিয়ন ঐক্যবদ্ধ হয়ে চুক্তি নবায়ন না করলে যে কোন সময় তাদের মধ্যে জন্মানো ক্ষোভ বিশাল আকার ধারন করতে পারে।
চা-শ্রমিক ইউনিয়ন ও বিটিএ সূত্রে জানা গেছে, মালিকপক্ষের সংগঠন বাংলাদেশীয় চা সংসদ (বিটিএ) ও শ্রমিকদের সংগঠন চা-শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে প্রতি দুই বছর পর পর একটি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী দেশের ১৬৫টি চা বাগানে স্থায়ী কর্মরত প্রায় ৮৫ হাজার ও ক্যাজুয়েল আরো প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিকের মজুরিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বেড়ে থাকে। সর্বশেষ চুক্তির মেয়াদ ২০১১ খ্রি: ৩১ আগস্ট শেষ হয়েছে। মেয়াদ উত্তির্ণ হওয়ার পর শ্রমিক ইউনিয়নের বিবাদমান দুইপক্ষ রাম ভজন ও বিজয় বুনার্জী পৃথক দুটি দাবিনামা (চার্টার অব ডিমান্ড) বিটিএর কাছে পেশ করেছে। নিয়ম অনুযায়ী আগে বৈঠক হয় আর বৈঠকের সিন্ধান্ত অনুযায়ী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু প্রায় ৮ মাসের অধিক সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কারো সাথেই চুক্তি হয়নি। এদিকে নিজেদের মধ্যে সমস্যার সমাধান না করে দুটি পক্ষই বিটিএ কে উদ্দেশ্য করে পৃথক পৃথক আলটিমটাম দিয়েছে। এদিকে লেবার হাউজের দখলে থাকা বর্তমান চা-শ্রমিক ইউনিয়নের বিজয় বুনার্জি সমর্থিত আহ্বায়ক কমিটি দ্বি-বার্ষিক চুক্তি নবায়নের বৈঠকে বসার জন্য ১৬ মে পর্যন্ত সময় নিধারন করে দিয়েছে মালিক পক্ষকে। অপর দিকে চা-শ্রমিকদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত মাখন লাল কর্মকার- রামভজন কৈরি সমর্থিত অপর অংশটি ৩১ মে পর্যন্ত সময় দিয়েছে মালিক পক্ষকে। এ সময়ের মধ্যে তাদের সমর্থিত ইউনিয়নের সঙ্গে বিটিএ বৈঠক না করলে উভয় অংশের নেতারাই আন্দোলনে যাবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
এই পাটা পুতালের ঘষাঘষিতে নিঃশেষ হওয়া সাধারন শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুরনো চুক্তি অনুযায়ী তাঁদের মজুরি ও রেশন দেওয়া হচ্ছে। এ দিয়ে সংসার চালানো যায় না। সব জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। তাদের উৎপাদিত চায়ের দামও বেড়েছে। আর বিগত প্রায় ৯ মাসে তাদের মাসে কমপক্ষে ৮০ থেকে ১০০ টাকা করেও যদি বাড়ে তাহলে লক্ষাধিক শ্রমিক আট থেকে ১০ কোটি টাকা পাওয়ার কথা। চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা তা না পাওয়ায় কষ্ট করে জীবন যাপন করছেন। যত সময় যাবে এর পরিমান আরো বাড়বে। তবে চা শ্রমিকরা অভিযোগ করেন অনেক সময় চুক্তি স্বাক্ষরের পর বর্ধিত সুবিধার বকেয়া মাসের এই টাকা গুলো পুরোটা দিতে মালিক পক্ষ গরিমসি করে।
এদিকে চা শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে দ্বন্দ থাকায় ঠিকমতো যেমন শ্রমিক চাঁদা আদায় হচ্ছে না তেমনি কোন বাগানে সমস্যা হলে সেখানে দুই পক্ষের নেতাদের হস্তক্ষেপ থাকে ফলে মাঝে মাঝে বাগানে শ্রমিকরা কর্ম বিরতি পালন করে। এতে শ্রমিকসহ বাগান মালিকের ক্ষতি হয়।

