http://www.gramerkagoj.com/

আর্কাইভ

আসাদ বেহেস্তী
ফের এসেছে হরতাল ভাই
তাই পেছালো কাজ,
এটা ছাড়া নেই হাতিয়ার
তাইতো লাগে লাজ!
গণতন্ত্রের অনেক ভাষা
অনেক হাতিয়ার,
আসুন সবাই নতুন ভাবি
দেশ করি উদ্ধার।

ছাত্র-ছাত্রিদের মেধা শক্তি বাড়াতে প্রাইভেট টিচিং ছাড়তে হবে : সাবেক অধ্যক
    A+ A A-

মোঃ আককাস আলী, মহাদেবপুর প্রতিনিধি :
নওগাঁর মহাদেবপুর সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ বলেছেন, ছাত্র-ছাত্রিদের মেধা শক্তি বাড়াতে প্রাইভেট টিচিং ছাড়াতে হবে। ছাত্র-ছাত্রিরা প্রাইভেট এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়াই সিমাবদ্ধ জ্ঞান অর্জন করছে। ফলে ছাত্র-ছাত্রিরা শিক্ষত হলেও জ্ঞান সম্পর্ন শিক্ষার আলো তারা অর্জন করছে না। তারা শুধু সার্টিফিকেটের শিক্ষায় শিক্ষত হয়ে ঘরে ফিরছে। তিনি বলেন বর্তমান সরকার জাতিকে শিক্ষত করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করলেও প্রাইভেট টিচিং বন্ধ না করায় শিক্ষার মান নিম্মে যাচ্ছে। সরকার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করলেও প্রাইভেটকে শিক্ষকেরা ব্যবসা হিসাবে চালিয়ে যাচ্ছে বলে আমার বিশ্বাস। তিনি গতকাল সকালে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময়ে তাঁর উপরোক্ত বক্তব্যগুলো তুলে ধরে সরকারের নজরে নিয়ে যাওয়ার আহব্বান জানান। কারন তিনি মনে করেন সাংবাদিকেরা দিতে পারে বলিষ্ঠ লেখনির মধ্যমে উন্নত সমাজ। উলে¬খ্য মহাদেবপুরে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাই এখন কোচিং সেন্টার ও প্রািইভেট পড়ার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষা না দিয়ে নানা ফাঁকিবাজি এবং শিক্ষক স্বল্পতার কারণে এ অবস্থা হয়েছে বলে ওয়াকিবহাল সূত্রগুলো মনে করছে। জানা গেছে ওইসব স্কুলগুলোতে এমন পরিস্থিতি দাড়িয়েছে যেন সিলেবাস তৈরি, হাজিরা দেওয়া, শিক্ষার্থীদের হাজিরা নেওয়া এবং পরীক্ষার আয়োজন করা ছাড়া স্কুলের শিক্ষকদের এখন আর তেমন কোন কাজ নেই। অভিযোগে প্রকাশ, প্রধান শিক্ষকেরা অধিকাংশ সময় ব্যস্ত থাকেন স্কুলের আয়-ব্যায়ের হিসাব নিয়ে। অন্য শিক্ষকেরা ব্যস্ত থাকেন প্রাইভেট টিউশনি বা কোচিং সেন্টার নিয়ে। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত থাকলেও তারা সেখান থেকে পাঠ্য বই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা পায় না। ফলে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষার সুবিধা থেকে। সরেজমিনে দেখা গেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি যতটা না থাকে তার চেয়ে বেশী উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, কোচিং সেন্টারে বা স্কুল শিক্ষকের বাসায়। উপজেলায় প্রায় অলিগলিতে গজিয়ে উঠেছে কোচিং সেন্টার ও শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশনি। অনেক গ্রাম অঞ্চলের শিক্ষকও প্রাইভেট কোচিং এর জন্য তারা উপজেলায় বাসা ভাড়া নিয়ে তাদের কোচিং কার্যক্রম চালিয়ে স্কুলে ক্লাসের সময়ে শুধু উপস্থিত হয়ে তারা ক্লাস পরিচালনা করছে। স্কুল থেকে ফিরে এসে আবারও সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা কোচিং ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। উপজেলা সদর ছাড়া গ্রাম অঞ্চলে এখন এলাকা ভিত্তিক নামীদামী শিক্ষকদের নাম ভাঙ্গিয়ে ছোট বড় অনেক কোচিং সেন্টার গজিয়ে উঠেছে। প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে কোচিং সেন্টার এবং প্রাইভেট টিউশনে। পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে শিক্ষার্থীদের শেষ পর্যন্ত প্রাইভেট টিউটরের কাছেই যেতে হচ্ছে। আরও জানা গেছে, সরকারী বেতন নেওয়ার পরও শিক্ষকেরা স্কুলে পাঠদানে ততটা মনোযোগী নন। বেশীরভাগ শিক্ষকই স্কুলের চেয়ে বাসায় কোচিং পড়াতে আগ্রহী। উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীরা ও তাদের অভিভাবকগণও এ প্রতিযোগীতায় মেতে উঠেছে তাদের ভাল রেজাল্টের জন্য। সাগর, মাসুদ, সোহাগ, মিন্টু, কুমকুম, আঁখি, নার্গিস, নিঝুম সহ উপজেলার নামীদামী বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সপ্তম, অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণীর কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলাপে জানা যায়, অধিকাংশ শিক্ষার্থী গণিত এবং ইংরেজী বিষয় শিক্ষকের বাসায় গিয়ে পড়ে। প্রতি বিষয়ের জন্য তাদের মাসে ২৫০-৩০০ টাকা হারে বেতন দিতে হয়। তারা জানিয়েছে, তাদের ক্লাশের প্রায় অনেকেই প্রাইভেট পড়তে হয়। প্রাইভেট না পড়লে ১ম, ২য় সাময়িক এবং বার্ষিক পরীক্ষায় ওইসব প্রাইভেট স্যারেরা পাশ করে দেয় না। তাই বাধ্য হয়েও কখনও কখনও পাশের আশায় ওইসব স্যারদের কাছে প্রাইভেট পড়তে হয়। অন্যদিকে কলেজের ছাত্র/ছাত্রীদের ও একই অবস্থা। উপজেলায় এ রকম অসংখ্য কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট টিউটর হলরুম গড়ে উঠেছে। কবে এই ঘুনে ধরা প্রথা বিলুপ্ত হয়ে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা চালু এবং নতুন আঙ্গিকে শিক্ষকেরা স্কুলে পাঠদান শুরু করবে সেই অপেক্ষায় মহাদেবপুরের অভিভাবক মহল।

সারাদেশ -এর সকল খবর