

আসাদ বেহেস্তী
নিম্নের চাপ শেষে
লঘুচাপ আসছে,
তার চাপে কৃষকের
ফসলটা ভাসছে।
ভেসে যায় ঘর-বাড়ি
ভেসে যায় সম্বল,
রিলিফেতে মেলে রুটি
আর দু’টো কম্বল!
মোঃ অককাস আলী, নওগাঁ থেকে : নওগাঁর মহাদেবপুরে দেবরপুর ডিএনজি উচ্চ বিদ্যালয় দীর্ঘ ৪ বছর ধরে বিএসসি শিক্ষক ছাড়া চলছে। বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের শিক্ষা জীবন অনিশ্চিত ভেবে অন্য স্কুলে চলে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুই-এক জন চলেও গেছে। গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন যে, ২০০৮ সালের ২৫ অক্টোবর বিএসসি শিক্ষক সুলতান মাহমুদ অবসরে যান। এরপর একাধীকবার শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হলে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির মাঝে বিরোধ সৃষ্টি হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। এব্যাপারে বিদ্যালয়ে সরজমিনে গেলে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র সাইফুজ্জামান, নবম শ্রেণীর ছাত্রী তাসমিন জান্নাত আশা, সাবারণ তহুরা এবং দশম শ্রেণীর ছাত্র সাখাওয়াৎ অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে গণিত অন্যতম। অথচ ২ বছর যাবৎ তারা এ বিষয়ে কোন শিক্ষা পাচ্ছে না। ভবিষ্যতে তাদের শিক্ষা জীবনে এর প্রভাব পড়বে বলে আশংকা করছে। দ্রুত শিক্ষক না পেলে অন্যত্র চলে যাবে বলে ভাবছেন। সরজমিন কালে অভিভাবক ও সংশি¬ষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম, অভিভাবক খাইরুল ইসলাম ও শামসুল ইসলাম বলেন দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করে দিয়ে চিন্তা মুক্ত ছিলাম। কিন্তু তাদের আভ্যন্তরীক দন্ডের কারনে স্থানীয় প্রভাবশালী দেবরপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তার, জাহিদুল ইসলাম ও আইয়ুব হোসেন, গোসাইপুর গ্রামের আছিমুদ্দীন এবং লোদনী গ্রামের কাজল রেখাদের আধিপত্য বিস্তারের ফলে শিক্ষার মান স্থবির হয়ে পড়ছে। তাড়া তাদের সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছে। কেননা বিদ্যালয় কখনই গণিত শিক্ষক ছাড়া চলতে পারে না। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের ৯ জন শিক্ষক, ৩ জন শিক্ষিকা, ১ জন অফিস সহকারী ও ৩ জন পিয়ন অভিযোগ করে বলেন, কিছু ব্যক্তিস্বার্থন্বেষী মহলের কারনে বিদ্যালয়ের সুনাম হারাতে বসেছে। তারা এর দ্রুত সমাধান চান। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সারোয়ার জাহান জানান, বিদ্যালয়ের কৃষি ও কাব্যতীর্থ পদ দীর্ঘদিন যাবৎ শূন্য। গত ২ বছর আগে গণিত শিক্ষক অবসরে যাবার পর থেকে সেটিও শূন্য। নিয়োগ দেওয়ার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. আকরাম হোসেন চৌধুরী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ৩ মার্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর পাঠিয়ে দেন। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপে সংসদ সদস্যর চিঠিকে তোয়াক্কা না করে নিয়োগ প্রক্রীয়া বার বার ভেস্তে দেন। কমিটি গঠনে নানা প্রতিকুলতার মাঝে এগুনো যায়না। এমনকি নিজেদের মনোনিত ব্যক্তিদের কমিটির নির্বাচনে ব্যর্থ হয়ে আদালতে মামলা করেন ২০০৭ সালের শেষের দিকে। তদন্ত স্বাপেক্ষে সেটির বাস্তবায়ন না হলে পুনরায় নিয়োগ প্রক্রীয়া শুরু করেন। এসময় অভিভাবক সদস্য হিসাবে আছিমুদ্দীন ও কাজল রেখা ভোটার লিষ্টে নাম না থাকলেও প্রধান শিক্ষককে নানা রকম ভয়ভীতি দেখিয়ে অভিভাবক সদস্য হওয়ার চেষ্টা করেন এবং পত্মীতলা উপজেলার তৈয়বুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে ওই স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে প্রার্থী ঘোষনা করেন। অথচ বিধি মোতাবেক স্থানীয় এমপির মোননিত ব্যক্তিই সভাপতি হয়ে থাকেন। তারা সেটা মানেন না। এরই প্রতিবাদে বর্তমান কমিটির আহবায়ক গিয়াস উদ্দীন মন্ডল বাদী হয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ৮ এপ্রিল ও ২০ এপ্রিল আদালতে মামলা দায়ের করেন। তারপর থেকেই নিয়োগ প্রক্রীয়া বন্ধ। এ ব্যাপারে কমিটির আহবায়ক গিয়াস উদ্দীন মন্ডলের সাথে কথা বললে তিনি জানান, জাহিদুল তার সাঙ্গপাঙ্গ দিয়ে একাধীকবার গণিতের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রীয়া বন্ধ করে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা জীবন অনিশ্চিতের পথে ধাবিত করছে। এসময় তিনি আরও বলেন, পরিচালনা কমিটির বিদ্যুৎশায়ী সদস্য পদে ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক সিরাজুল হত্যা মামলার ১নং আসামী মোশারফ হোসেনকে নির্বাচিত করার জন্য বিভিন্ন রকম চাপ দিতে থাকেন। ফলে তারা বেশীদূর যেতে পারেননি। তারা দ্রুত উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহিদুল হকের সাথে কথা বললে তিনি জানান, যেহেতু বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ দিবে কমিটি। কমিটি নির্বাচনে মতবিরোধ থাকায় তারা নিয়োগ দিতে পারছে না। এ ব্যাপারে তাহাদের কিছুই করার নেই। সবশেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আখতারুজ্জামানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ওই বিদ্যালয়ের বিষয়ে তার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে স্থানীয় সংসদ সদস্যর সাথে আলাপ করে অবশ্যই এর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কবে হবে সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমাধান, তা কেউ বলতে পারছে না। না কি গণিতের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা জীবন বন্ধ হয়ে যায় সেটিই দেখার বিষয়।

