http://www.gramerkagoj.com/

আর্কাইভ

আসাদ বেহেস্তী
মানুষ মারার রাজনীতিতে
নেইতো কোনো দর্শন,
কিংবা গাড়ি ভাঙ্গা এবং
গুলি-বোমা বর্ষণ।
তবু যারা মানুষ মারে
চলে মহান নীতিতে,
তাদের দলে আমিতো নেই
কোনো রকম প্রীতিতে!

মৌলভীবাজারে ভেষজ গাছপালা থেকে বৈদেশীক মুদ্রা আয় সম্ভব
    A+ A A-

মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি : কমলগঞ্জ ভেষজ রোড এর গাছপালা থেকে বছরে লাখ লাখ টাকার আয়ুর্বেদী ঔষধের কাঁচামাল পাওয়া যাবে যার ফলে এর আমদানির উপর চাপ কমবে রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণের বৈদেশীক মুদ্রা আয় সম্ভব।
বর্তমানে দেশের মডেল ভেষজ রোডের ৫ হাজার বৃক্ষ মানুষের শাররীক রোগ-বিয়োগের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। গাছগুলো কাটার মেয়াদ ৫ বছর আগে পূর্ণ হলেও তা কাটছেননা মালিকরা। আর দেশের কোন আয়ুবেদী প্রতিষ্ঠান ছাড়া তারা এগুলো কারো কাছে বিক্রি করবেন না বলে জানান। কারণ আর্য়ুবেদী প্রতিষ্ঠান এ দিয়ে আয়ূবেদী ওষুধ তৈরি করবে যা লাগবে মানুষের কল্যানে।
একটা সময় ছিল আমাদের দেশের অধিকাংশ গ্রামের মানুষই তাদের অসুখে বিসুখে গ্রাম্য বনাজী ওষুধই ব্যবহার করতেন। তবে ব্যাপক হারে এলোপ্যাথিক ঔষধের আর্বিভাব ও নতুন প্রজন্মের ভেষজ বৃক্ষ সম্পর্কে ধারণা না থাকার কারণে আমাদের দেশ থেকে প্রায় বিলুপ্ত হতে বসেছে ওষুধী বৃক্ষগুলো। কিন্তু মৌলভীবজারের কমলগঞ্জের সওজের রাস্তার উপর ৪ কিলোমিটার সামাজিক বনায়নে ঔষধি বৃক্ষ আবার কয়েকটি গ্রামের মানুষকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে সেই আদি যুগে। আর ওষুধী বৃক্ষের কারণে সে রাস্তার নামই হয়ে গেছে ওষুধী রাস্তা। যা রুপ নিয়েছে দেশের একটি মডেল ওষুধী সড়ক হিসেবে।
১৯৯২/৯৩ খ্রি: সওজ, বন বিভাগ, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপকারভোগী এই চার পক্ষীয় অংশিদ্বারিত্বে কমলগঞ্জ উপজেলার ফূলবাড়ি থেকে ভানুগাছ ধলই নদীর পুরাতন ব্রিজ পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার রাস্তায় প্রায় ৫ হাজার অর্জুন বৃক্ষ রোপণ করা হয়। বর্তমানে সারাদেশে বন বিভাগ স্থানীয়দের অংশদিয়ে পাটনারব্যাজ বনায়ন করছে। কিন্তু সব জায়গায়ই তা বনজকাঠ জাতীয়। যা অল্প সময়ে বড় হয় আর প্রচুর পরিমাণে লাভবান হওয়া যায়। কিন্তু প্রায় ২০ বছর আগে কমলগঞ্জ উপজেলার জনৈক জব্বার মিয়া ও ইমরান মিয়া তারা পারিবারিক ভাবে দ্বায়িত্ব নেন লাউয়াছড়া বন থেকে ভানুগাছ পর্যন্ত বনায়নের। তবে তারা লাভজনক কাঠের কোন প্রজাতি রূপন না করে পুরো এলাকায় রাস্তার দু পাশে তিন লাইন করে ৬ লাইনে প্রায় ৫ হাজার ভেষজবৃক্ষ অর্জুনের চারা লাগান এবং এ উপকারভোগী জব্বার মিয়া ও ইমরান মিয়ার পরিচর্যায় শতভাগই বৃক্ষই বেঁচে যায়। এমনকি বিগত ২০ বছরে চুরিও হয়নি একটি গাছ।
তবে এই গাছগুলোর প্রাপ্ত বয়স্কতা ও প্রকল্পের মেয়াদ আরো ৫/৬ বছর আগে পূর্ণ হলেও এগুলো তারা কাটছেননা। কারণ এই গাছগুলো থেকে প্রতিদিন আসে পাশের ৭/৮টি গ্রামের মানুষ ছাল নিয়ে রাতে পানিতে ভিজিয়ে রাখেন এবং সকালে সে পানি পান করেন। যা তাদের শরীরের বিভিন্ন উপকারে আসে। গ্রামবাসীর ও বিশেজ্ঞদের মতে, অর্জুন বৃক্ষ মানুষের হৃদরোগ, রক্তের নিন্ম চাপ, রক্ত আমাশয়, হজম শক্তি, চর্ম ও হাপানীসহ ১৫টি রোগের উপশম হিসেবে কাজ করে।
এ বিষয়টি মাথায় রেখে লাভের আসায় সামাজিক বনায়ন করেও গাছগুলোর রূপনকারীরা তা বিক্রি করছেন না। তবে কোন আর্য়োবেদী কোম্পানি যদি প্রাপ্ত বয়স্ক গাছগুলো নিতে চায় তাহলে তারা তা দিয়ে দিবেন।
এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার মহকুমা বনকর্মকর্তা এ জেড এম হাসানুজ্জামান বলেন, ২০ বছর ধরে এই গাছগুলো শ্রীমঙ্গল ভানুগাচ সড়কে রয়েছে। গাছগুলো চুরিও হয়নি। পাশাপাশি এ গাছগুলোর চামড়া (ছাল) কেটে নিয়ে এর রস পান করে থাকেন এ এলাকার মানুষ। এটি আয়ুর্বেদী ঔষধের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নি সন্দহে এ থেকে বছরে লাখ লাখ টাকার ভেষজ কাঁচামাল পাওয়া যাবে।
তবে অনেকেরই মতে এই ওষুধী সামাজিক বনায়নটি বাংলাদেশের একটি অনুকরনীয় যা একদিকে যেমন সৃষ্টি করেছে ছায়া বৃক্ষ ও বনাঞ্চল। অন্যদিকে পাওয়াগেছে ভেষজ ঔষদের কাচাঁমাল। এভাবে অংশিধারীত্ব ভিত্তিক সারাদেশে সরকারের ভুমিতে ভেষজ ঔষধের বনায়ন করা হলে দেশ হবে ভেষজ ঔষধে সমৃদ্ধ পাশা পাশি তা বিক্রি করে লাভবান হওয়া যাবে অর্থনৈতিকভাবে।

সারাদেশ -এর সকল খবর