

আসাদ বেহেস্তী
বাজেট করতে পাশ
সংসদ বসছে,
এই নিয়ে কেউ কেউ
অংকটা কসছে!
অংকের মারপ্যাচে
পিষে যত যন্ত্র,
বাঁচবার মন্ত্রটা
যপে গণতন্ত্র!
প্রায় এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে রমজানের পুণ্য ও বরকতময় মাস আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিতে যাচ্ছে। আর এক কিংবা দু’দিন পরই রমজান শেষ হয়ে যাবে। রমজানের এই শেষ মুহূর্তগুলো যত বেশি সম্ভব ইবাদত-বন্দেগির ভেতর কাটিয়ে দেওয়া উচিত। জাকাত ও ফিতরা আদায় হয়ে না থাকলে নিজের এই ফরজ দায়িত্বগুলো এ মাসের মধ্যে আদায় করতে পারলেই অধিক সাওয়াব পাওয়া যাবে। তাছাড়া ঈদের বাজারে আমরা কেনাকাটা করে থাকি, ক্ষেত্রবিশেষে আমাদের কেনাকাটা হয় প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। অথচ অসহায় গরিবরাও শরিক হতে পারত আমাদের এ ঈদবাজারে।
রমজানের শেষ ১০ দিন স্বয়ং রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবাদত-বন্দেগি বাড়িয়ে দিতেন। সাহাবায়ে-কেরামকেও বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করার জন্য উত্সাহিত করতেন। নফল ইবাদত, তাহাজ্জুদ নামাজ, তিলাওয়াতে কোরানের মতো ইবাদতগুলো বেশি বেশি করার সুবর্ণ সুযোগ এটিই। তাই এতদিন যারা অলসতা ও গাফিলতিতে সময় পার করেছেন তারা রমজানের বরকতের শেষ মুহূর্তের এ সুযোগ গ্রহণ করে নিজের জীবনকে পাপমুক্ত করতে পারেন।
রমজানের অন্যতম শিক্ষা হচ্ছে ‘তাকওয়া’ অর্জন। আর তাকওয়ার মূলকথা হচ্ছে শরিয়তের পূর্ণ অনুসরণ ও অনুকরণ। নিজের প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে শরিয়তের বিধান মেনে চলা। এ মাস সবর বা ধৈর্যের মাস। আর ধৈর্যের প্রতিদান বেহেশত। এ মাস অপরের প্রতি সদ্ব্যবহার ও সহানুভূতি প্রকাশের মাস। এ মাসে মুমিনের রিজিক বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে তার গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে এবং তাকে দোজখ থেকে নাজাত দেওয়া হবে।
রমজানের শেষ ১০ দিন দোজখ থেকে মুক্তি লাভের সময়। সুতরাং রমজানের বাকি এই ক’টি দিন পুরোপুরিভাবে রমজানের শিক্ষা জীবনের সর্বস্তরে বাস্তবায়নে সচেষ্ট হতে হবে। শবেকদরে ইবাদত করেই জীবনে সফলতা এসে গেছে, এমনটি ভাবা ঠিক নয়। শবেকদর যেহেতু রমজানের ২৯ তারিখ হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে, তাই বাকি দিনগুলোও ইবাদতে লেগে থাকা জরুরি। আর জীবনের পরতে পরতে রমজানের শিক্ষা বাস্তবায়ন করতে পারলেই রমজান ও রোজা মুসলমানদের জন্য সার্থক হবে। আল্লাহতায়ালা সারা বছর আমাদের জীবনে রমজানের শিক্ষা বাস্তবায়নের তাওফিক দান করুন।
