

আসাদ বেহেস্তী
বাজেট করতে পাশ
সংসদ বসছে,
এই নিয়ে কেউ কেউ
অংকটা কসছে!
অংকের মারপ্যাচে
পিষে যত যন্ত্র,
বাঁচবার মন্ত্রটা
যপে গণতন্ত্র!
সর্বাঙ্গে ঘা, ওষুধ দেব কোথা, অবস্থায় চলছে আমাদের বর্তমান সমাজ। সর্বত্র ভেজাল আর ভেজাল। খাদ্য সামগ্রী থেকে ওষুধে পর্যন্ত ভেজাল। অর্থাৎ আমাদের ভেজাল রাজ্যে সবাই রাজা। এমনকি নির্মাণ সামগ্রীও ভেজাল থেকে পিছিয়ে নেই। নির্মাণ সামগ্রীর সিমেন্টে ভেজাল সবচেয়ে ভয়াবহ ও ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও সেখানে ভেজালের দৌরাত্ম থেমে নেই।
বাজারে হরেক ব্র্যান্ডের হরেক রকম সিমেন্ট। প্রতিবেশী ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিও করা হচ্ছে। দাম কোনটিরই কম নয়। পত্রপত্রিকায় বিভিন্ন কোম্পানির সিমেন্টের নানা লোভনীয় বিজ্ঞাপনও দেয়া হচ্ছে। প্রায় প্রত্যেকের দাবি, তাদের সিমেন্টই সেরা। শক্তিশালী ঝড়-ঝঞ্ঝা-তুফান-জলোচ্ছ্বাস এমনকি প্রবল ভূমিকম্পেও ধসে পড়বে না তাদের সিমেন্টে তৈরি কোন স্থাপনা। সিমেন্টে ফ্লাই অ্যাশ ব্যবহার নিয়ে ভেজালের অভিযোগ রয়েছে। নির্মাণ বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীরা বলছেন, বাজারে প্রাপ্ত কোন সিমেন্টই শতভাগ নির্ভেজাল নয়। এসব সিমেন্টে চুনাপাথর, জিপসাম, ফ্লাই অ্যাশ, ও আনুষঙ্গিক উপাদান বিজ্ঞানসম্মতভাবে আনুপাতিক হারে মেশানো হচ্ছে না। অধিকাংশ কোম্পানি বেশি মুনাফার আশায় সিমেন্ট উৎপাদন ও প্যাকেটজাত করতে এর হেরফের করছে। যারা বিদেশ থেকে ক্লিংকার আমদানি করে সিমেন্ট বাজারজাত করছে, ফাঁকি রয়েছে তাদের মধ্যেও। এদেশের আবমেন্টের প্যাকেটও মানসম্মত ও বায়ু নিরোধক নয়। উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রায় প্রতিটি পর্যায়ে চলছে সিমেন্টে ভেজাল মেশানোর প্রক্রিয়া। ব্যাগে উল্লি¬খিত ওজনের চেয়ে কম দেয়ার অভিযোগও আছে। বর্তমানে যে ভেজাল চলছে তাতে ভূমিকম্প ছাড়াও এমনিতেই ধ্বসে যেতে পারে বহু ভবন। সঙ্গতকারণেই নাগরিকের জান-মাল ও জলবায়ুর উপযোগী পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট দরকার।
সরকারের উচিৎ বিষয়টি স্বচ্ছ ও সক্রিয়ভাবে মনিটরিং করা এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া।
