

আসাদ বেহেস্তী
মানুষ মারার রাজনীতিতে
নেইতো কোনো দর্শন,
কিংবা গাড়ি ভাঙ্গা এবং
গুলি-বোমা বর্ষণ।
তবু যারা মানুষ মারে
চলে মহান নীতিতে,
তাদের দলে আমিতো নেই
কোনো রকম প্রীতিতে!
দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘হাতুড়ে ডাক্তার’। চিকিৎসা ক্ষেত্রে এ ধরনের চিকিৎসকদের নেই প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ডিগ্রি ও অভিজ্ঞতা। বরং কোনো চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বা অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সংস্পর্শে থেকে হাতুড়ে ডাক্তাররা কিছু চিকিৎসা জ্ঞান অর্জন করে। আর এ সীমিত জ্ঞান দিয়েই তারা নিজেদের মতো করে চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসা সেবার নামে বাণিজ্য। এতে ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে অনেক রোগীই ঢোলে পড়ছে মৃত্যুর কোলে। সরকারি অনুমোদন না থাকলেও এ ধরনের চিকিৎসকরা দেশের আনাচে-কানাচে নির্বিঘেœ চালিয়ে যাচ্ছে চিকিৎসা বাণিজ্য। মূলত বেসরকারি চিকিৎসা সেবা আইন না থাকার সুযোগে হাতুড়ে চিকিৎসকরা নিজেদের বিভিন্নভাবে পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।
দেশে সরকারি চিকিৎসকের সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার। আর প্রাইভেট মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্সের সংখ্যা হবে প্রায় ৩২ হাজার। এসব চিকিৎসকের নিজেদের ডিগ্রি অনুযায়ী উচ্চমানের চিকিৎসা সেবা দেয়ার সরকারি অনুমোদন আছে। এর পাশাপাশি দেশজুড়ে রয়েছে কয়েক লাখ পল্লী চিকিৎসক। যারা সাধারণ পর্যায়ের সীমিত সংখ্যক ওষুধের প্রেসক্রিপশন দিতে পারেন। কিন্তু এসব চিকিৎসক ছাড়াও দেশজুড়েই রমরমা চিকিৎসা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে কয়েক লাখ হাতুড়ে চিকিৎসক। যাদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ও অভিজ্ঞা নেই। তাদের মাধ্যমে অনেক রোগীই ভুল ও অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছে। এসব হাতুড়ে ডাক্তাররা বাণিজ্যের লক্ষ্যে চিকিৎসা শাস্ত্রের নানা ডিগ্রি অর্জনকারী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয়। আর রোগী ধরার জন্য মাঠে নামান দালাল শ্রেণী। মোটা কমিশনের লোভে দালালরাই হাতুড়ে ডাক্তারদের কাছে রোগী নিয়ে আসে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের নার্স, টেকনিশিয়ান, পিয়ন, ম্যানেজার, প্রশাসকও চেম্বার খুলে ডাক্তার সেজে রোগী দেখছে। অংশ নিচ্ছে জটিল অস্ত্রোপচারে। ইতিমধ্যে ভ্রামামান আদালতের অভিযানে অনেক ভুয়া ও হাতুড়ে ডাক্তার ধরা পড়েছে।

